/

সাধারণ জ্ঞানের অসাধারণ একটি বই ‘জোবায়ের’স GK`// লেখক: জোবায়ের আহমেদ

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০৩, ২০১৬

সাধারণ জ্ঞানের বই মানেই হাজার হাজার প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় তথ্যে ভরপুর থাকবে। বইটির পুরুত্ব হতে হবে
অনেকটা এনসাইক্লোপিডিয়ার মত বিশাল! ভাবটা অনেকটা এরকম পৃষ্ঠা বেশি না হলে কী আর সেটা সাধারণ জ্ঞানের
বই হলো! সাধারণ জ্ঞানের বই বলে কথা। এরকম একটি বই যখন কোন শিক্ষার্থী হাতে পৌছে, তখন সেই শিক্ষার্থী
নির্ঘাত এই মনে করে বসে, ওরে বাবা! এতো পরীক্ষা দিতে আসিনি, মনে হচ্ছে বিংশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৫বছর
মেয়াদি কোন প্রকল্পে গবেষণা করতে এসেছি।
ফলে একজন শিক্ষার্থী, শুরুতেই সাধারণ জ্ঞানের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
photo

লেখক: জোবায়ের আহমেদ

আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, একটি সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে অবশ্যই কয়েকটি বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে।
১।বইটিতে অবশ্যই প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি থাকতে হবে।অপ্রয়োজনীয় তথ্যাবলি বাদ দিতে হবে।
২।নির্দিষ্ট সময়ের পেক্ষাপটে কোন তথ্য পরীক্ষায় এসেছিল, যা এখন সময়ের পথ পরিক্রমায় সেটি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়,
তা সাহসের সাথে বাদ দিতে হবে।
৩।চলতি বিশ্বের আপডেট তথ্যাবলি সংযোজন করতে হবে। বিশেষ করে, বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য সংখ্যা,
অন্তর্ভুক্তি-বাদ,বিভিন্ন রিপোর্টসহ ইত্যাদি।
৪।তথ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চিত্র সংযোজন করতে হবে।
৫।ভুল তথ্যের নিরসন থাকতে হবে। এ ব্যাপারে বইতে স্পষ্ট তথ্যের উল্লেখ থাকা চাই।
৬।তথ্যের ধারাবাহিকতা থাকতে হবে।বিক্ষিপ্ত তথ্য কখনই মস্তিষ্ক দীর্ঘসময় স্থায়ীত্ব দিতে পারেনা।
৭।বইটি যেমন আলোচনাভিত্তিক হবে,ঠিক তেমনিগুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ পয়েন্ট আকারে তুলে দিতে হবে।যেন ছাত্র-ছাত্রীরা
এক শ্বাসে পড়ে ফেলতে পারে।
উপরের তথ্যসমূহ যদি কোন বইতে থাকে, আমার বিশ্বাস বইটি যেমন সুখপাঠ্য হবে, তেমন অহেতুক অপ্রয়োজনীয়
তথ্যের খপ্পর থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা রেহাই পাবে। ফলাফল হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীরা সাধারণ জ্ঞানে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে।
এবার আসা যাক, এইমূহুর্তে আমার হাতের ‘জোবায়ের’স GK’ বইটি সম্পর্কে।
বইটি হাতে নিয়ে প্রথমত যে বিষয়টি অনুভব করলাম সেটি হচ্ছে-বইটিতে কোন পাকা শিল্পির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার
ছোঁয়া রয়েছে।ভালো লাগলো, বইটি শুরুতেই একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে- ‘ভুল নয় সঠিক তথ্য জানুন‘।যার
মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের দীর্ঘদিনের সংশয়পূর্ণ তথ্য সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পাবে। আমরা জানি কম্পিটিটিভ
পরীক্ষাগুলোতে যে প্রশ্নগুলো আসে, সে সব প্রশ্নের কিছু প্রশ্ন থাকে অনেকটা বিতর্কিত। যা নিয়ে খোদ বই লেখকরাই
বিতর্কেপড়ে যান, আসলে সঠিক উত্তর কোনটি হবে?(!) লেখক জোবায়ের আহমেদ ‘ভুল নয় সঠিক তথ্য জানুন`
অংশটুকু সংযুক্ত করার মাধ্যমে সেই সকল বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
লেখক পুরো বইটিতে একটা বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছেন, যা বেশ চমৎকার! আমার বিশ্বাস ছাত্র-ছাত্রীদের বেশ
কাজে আসবে। তিনি প্রতিটি টপিকস্ নিয়ে শুরুতেই সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন বিষয়টিকে ক্লিয়ার করার জন্য,তারপর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো ‘যেভাবে প্রশ্ন হতে পারে’ এই শিরোনামে সাজেশান ভিত্তিক পয়েন্ট আকারে সাজিয়েও দিয়েছেন।যা  শিক্ষার্থীর সময় সেভ করবে।
gk 2একটি বিষয় বেশ ইন্টারেস্টিং, সেটি হচ্ছে- লেখক পুরো বইটিতে কিছু দুষ্পাপ্য চিত্র সংযোজন করেছেন, যা সাধারনত
বাজারের বইগুলোতে পাওয়া যায়না। এজন্য লেখক অবশ্যই স্পেশাল থ্যাংকস্  পাওয়ার দাবি রাখে।
লেখক বইটিতে বেশ কিছু ব্যতিক্রম বিষয় সংযোজন করেছেন, যেমন- পুশইন-পুশ ব্যাক কি?, ফ্লাগ মিটিং ইত্যাদি ।
বইটি পড়তে গিয়ে একটা জায়গায় বেশ মজা পেলাম- লেখক বেশ যত্নের সাথে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশকে প্রথম
স্বীকৃতি ভারত নাকি ভুটান দিয়েছেন। এই তথ্যটুকু গতানুগতিক সব বইতে থাকে। তবে ব্যতিক্রম হলো-তথ্যের স্বপক্ষে
তিনি তৎকালীন সময়ে বিশ্বমিডিয়ায় প্রকাশিত নিউজগুলোর স্কিনশর্ট তুলে ধরেছেন যা তার দাবিকে আরো বেশি বাস্তব
করে তুলেছে।
সংবিধান অংশটুকুও লেখক যত্ন নিয়ে লিখেছেন। সংবিধানের সাথে বিভিন্ন সময় যে ব্যক্তিগণ জড়িত ছিলেন তিনি
তাদের ছবিসহ দায়িত্বসমূহ তুলে ধরেছেন, যা ছাত্র-ছাত্রীদের মনে রাখতে সাহায্য করবে।
লেখককে আমি যতটুকু চিনি তার ভিত্তিতে তিনি বিশাল একজন প্রকৃতি প্রেমী মানুষ।তবে লেখকের বই পড়ে তার
প্রকৃতি প্রেম সম্পর্কে বোধহয় আরেকটু বেশিই চিনে ফেললাম। তার প্রমাণ বইয়ের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় বিভিন্ন সচিত্র উপস্থাপনা ।
বইটি পড়ে বুঝতে পারলাম, বইটিতে লেখক দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সাধারণ জ্ঞানের একটি বিশাল অংশ। কোথায় শুরু কোথায় শেষ তা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ে
যান ধাঁধায়। লেখক তাঁর বইতে সুবিন্যস্থ উপস্থাপনা ও সচিত্র আর্র্টিকেল তুলে ধরার মাধ্যমে এব্যাপারে একটা চমৎকার
সুরাহা দিয়েছেন। বিভিন্ন মহাদেশ, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল, বিভিন্ন সংস্থা, বিপ্লব, প্রণালী , বিখ্যাত দ্বীপ, বিখ্যাত
নদ-নদী, খাল ও সমুদ্র বন্দর, খেলাধুলাসহ সব বিষয়য়ে লিখতে গেলে লেখার আকার অনেক বড় হয়ে যাবে।
শুধু এতটুকু বলবো – লেখার শুরুতেই একটি বইয়ের যে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছিলাম, তার সব কয়টি
বইটিতে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।একটি সৃষ্টিশীল বইয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে বা লেখকের দৃষ্টিকোণ থেকেও
যদি ব্যাখ্যা করি, তাহলে বইটিতে আরো দুয়েকটি বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে, সাথে নতুন কিছু টপিকস্
যুক্ত করার প্রয়োজন বিশেষকরে চাকুরি প্রত্যাশিদের জন্য।তবে বলবো- বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুকদের জন্য ‘দ্যাটস্ এনাফ‘।
আমার বিশ্বাস, বইটির নতুন সংস্করণে আমরা আরো চমৎকার কিছুর সংযোজন দেখতে পাবো।
সবশেষে বলবো, ‘জোবায়ের’স GK‘ বইটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রী ও চাকুরি প্রত্যাশীদের চাহিদা মেটানোর
মধ্য দিয়ে লেখকের সৃষ্টিশীলতার স্বীকৃতি পাক এবং সাধারণ জ্ঞানের অহেতুক ভীতি দূর হোক। সৃষ্টিশীলতার জয় সময়
সময়ের জন্য।

সমালোচক

কবিয়াল নূর
সিইও, জব স্টাডি বিসিএস কোচিং
উদ্ভাবক,
সন শেখার যাদুবিদ্যা- ‘ডিজিট লার্নিং ম্যাজিক’।