/

সড়ক নিরাপত্তায় তরুণদের উদ্যোগ

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ১:২৩ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৬

11

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে দেখা যায় ১০-২৪ বছর বয়সে তরুণদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনার ফলে প্রতিদিন বাংলাদেশে গড়ে যে ৫০জন মানুষের আকস্মিক মৃত্যু হয় তার ৪১ শতাংশ পথচারী ও সাইকেল চালাক। এদের একটি বড় অংশ আবার তরুণ। খবরের কাগজে সড়ক দুর্ঘটনায় মেধবী ছাত্রের মৃত্যু বা এ ধরনের শিরোনাম প্রায়ই চোখে পরে। সড়ক দুর্ঘটনা নামক এই মহামারিতে মৃত্যূর মিছিল এখনই বন্ধ করতে হবে। এজন্য গণসচেতনতা অত্যন্ত জরুরী। আর এজন্য তরুণ সমাজই পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে।

বাংলাদেশে এরই মধ্যে কিছু তরুণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির জন্য কাজ শুরু করেছে। পিডিএফ নামের একটি সংগঠন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এ বছর নভেম্বর, ডিসেম্বর মাসে যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০০ স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে পথচারীদের সচেতনতা তৈরির জন্য নিরাপদ সড়ক প্রচারণা মাস উৎযাপন করবে সংগঠনটি।

বাহিরের দেশ থেকেও অনেকে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। এমন একজনের নাম জেনিফার ফেরেল। এই তরুণী ক্রিটিকালিঙ্ক নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মূল উগ্যোক্তা। এবছরই আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। ঢাকা শহরের প্রায় ২০০টি স্পটে প্রায় ১০০০ স্বেচ্ছাসেবককে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য প্রসিক্ষণ দেবেন। এই কাজকে তরান্যিত করার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে। এছাড়া একটি নাম্বার (৯৯৯) দিন-রাত ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে যেখানে ডায়াল করে দ্রুত সেবা পাওয়া যাবে। জেনিফার ফেরেল বলেন- আমরা দুর্ঘটনা কবলিতদের তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করছি। মোবাইলে এসএমএস এবং অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ঢাকা শহরে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে দ্রুত প্রাথমিক সেবার ব্যবস্থা করাই আমাদের লক্ষ্য।

policy adda 2

সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রচারণার জন্য ইউথ মুভমেন্ট ফর রোডসেফটি নামে আরও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এ বছর থেকে কাজ শুরু করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীক এই সংগঠনটি তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের সাথে নিয়মিতভাবে কাজ করে আসছে। এছাড়া নিরাপদ সড়ক প্রচারণায় ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও তরুণদের নিয়ে কাজ করছে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের উদ্যোগে সম্প্রতি ঢাকা–আরিচা, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পার্শ্ববর্তী মোট ২১টি উপজেলায় প্রায় ৪৫০জন স্বেচ্ছাসেবককে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে বেশিরভাগ স্বেচ্ছাসেবকই তরুণ। এই স্বেচ্ছাসেবকরা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যাক্তিদের উদ্ভুদ্ধ করবে ও নিজেরা সম্মিলিতভাবে সচেতনতামূলক নানামুখি কর্মকান্ড পরিচালনা করবে।

সড়ক দুর্ঘটনা একটি জাতীয় সমস্যা। আমাদের সবার উচিত এই সমস্যা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, নীতি-নির্ধারক, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণ এবং সর্বোপরি তরুণ সমাজ সকলে একত্রে কাজ করলে অব্যশ্যয় এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব।

সুরাইয়া আক্তার বাবলী (তথ্যসূত্র: পলিসি আড্ডা)