/

পুলিশে চাকরি : কিছু পরামর্শ

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ৩:৪২ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৮, ২০১৭

প্রশ্ন : আবেদনের যোগ্যতা কেমন হওয়া চাই?

উত্তর : কনস্টেবল পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি শারীরিক যোগ্যতাও থাকতে হবে। অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। আর শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রে সাধারণ কোটার পুরুষ প্রার্থীদের জন্য উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি হতে হবে। আর বুকের মাপ পুরুষ প্রার্থীদের স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও উপজাতীয় কোটার ক্ষেত্রে শারীরিক যোগ্যতার ভিন্নতা ।

প্রশ্ন : নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কেমন হবে?

উত্তর : প্রতিটি জেলায় প্রথমে কাগজপত্রসহ উপস্থিত হয়ে বিধিমোতাবেক শারীরিক মাপ এবং শারীরিক পরীক্ষায় (দৌড়, রোপিং ও জাম্পিং ইত্যাদি) অংশ নিতে হবে। সেখানে বাছাই প্রক্রিয়া উত্তীর্ণরাই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিবেচিত হবেন।

প্রশ্ন : লিখিত পরীক্ষার বিষয়ে কিছু বলুন?

উত্তর : সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন হবে।

প্রশ্ন : লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হলে কি করতে হবে?

উত্তর : প্রার্থীদের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর পাঠ্য বইগুলো আবার ভালোভাবে ঝালিয়ে নিতে হবে। মূলত সেখান থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষার জন্য বেশি প্রস্তুত করতে হবে। কারণ দেখা যায় অনেকে সাধারণ জ্ঞানে ভালো না হওয়ার কারণে বাদ পড়ে যান। তাই সাধারণ জ্ঞানেও জোর দিতে হবে। তবে প্রস্তুতির কোনো বাধা ধরা নিয়ম নেই। প্রার্থীরা নিজ নিজ জেলার পরীক্ষার দিন ও সময় অনলাইনে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট

www.police.gov.bd/recruitment/img009.jpg লিংকে গিয়ে জানতে পারবেন।

প্রশ্ন : উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী প্রস্তুতি সম্পর্কে কিছু বলুন?

উত্তর : প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র ইস্যুকরণসহ লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের কেন্দ্রের স্থান নির্ধারণ করে প্রার্থীদের অবহিত করবেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে। পরীক্ষায় আলাদাভাবে মোট নম্বরের ৪৫ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। প্রাথমিকভাবে বাছাই করা প্রার্থীদের জেলা পুলিশ সুপার কর্তৃক সরবরাহ করা আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় আÍবিশ্বাস বেশি জরুরি। যা জানবেন তারই সঠিক উত্তর দেয়া উচিত। না পারলে, কোনো কিছুর ভুল উত্তর দেয়া ঠিক নয়।

প্রশ্ন : উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরে আর কী কী পরীক্ষা নেয়া হবে?

উত্তর : ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হবে। প্রার্থীদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগ দেয়ার পর পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পুনরায় বাছাই কমিটি কর্তৃক অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া প্রার্থীদের ছয় মাসমেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে।

প্রশ্ন : কি কি বিধি নিষেধ করা হয়েছে

উত্তর : প্রার্থী নিজ জেলা ব্যতীত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

প্রশ্ন : চাকরি পাওয়ার পর কি কি সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে?

উত্তর : প্রশিক্ষণ শেষ করার পর ২০০৯ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭তম গ্রেড : ৪৫০০-২৪০*৭-৬১৮০-ইবি ২৬৫* ১১-৯০৯৫ টাকা এবং বিধিমোতাবেক প্রাপ্য অন্যান্য বেতন-ভাতাসহ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়া হবে। দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করার পর প্রার্থীদের কনস্টেবল পদে স্থায়ী করা হবে।

চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীরা চাকরির সময়ে বিনা মূল্যে পোশাকসামগ্রী, ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসাসুবিধা এবং নিজ ও পরিবারের নির্ধারিত সংখ্যক সদস্যের প্রাপ্যতা অনুযায়ী পারিবারিক রেশনসামগ্রী স্বল্পমূল্যে ক্রয় করতে পারবেন। এছাড়া প্রচলিত নিয়মানুযায়ী উচ্চতর পদে পদোন্নতি খুব ভালো করলে মিশনে যেতে পারবে সহজে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদানেরও সুযোগ পাবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখে আগ্রহী প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ লাইন্স ময়দানে উপস্থিত থাকতে হবে।

যুগান্তরের পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। যুগান্তরকেও ধন্যবাদ।

 ট্রেইনি-রিক্রুট কনস্টেবল পদে নিয়োগ বিষয়ে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম বিশদ কথা বলেছেন যুগান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন

শামস আহমেদ (Jugantor.com)