/

অাল-অাকসা : দ্যাটস হিস্ট্রি বিগিন্স উইদ মার্ডার

মো: এরশাদ

প্রকাশিতঃ ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ০৭, ২০১৭

এই লেখায় যেসব বিষয় নিয়ে অালোচনা করা হয়েছে সে সস্পর্কে তথ্য প্রদান করা এর উদ্দেশ্য নয়। এই discourse বা অালোচনা এতো ব্যাপক যে সেটা চাইলেও তা অসম্ভব। তবুও এই ক্ষুদ্র অপপ্রয়াস এই জন্য যে, বর্তমান সমস্যা এবং তার প্রচলিত ইতিহাসের বাইরে গিয়ে অাল-অাকসা ক্রাইসিসকে বুঝার চেষ্টা করা। যার সাধারণ পাঠ পত্র-পত্রিকায় সচরাচর পাওয়া যায় না। অাগ্রহী পাঠকবৃন্দ চাইলেই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে এ সম্পর্কে অনেক তথ্যপূর্ণ লেখা পেয়ে যাবেন। সূত্র যেহেতু ইন্টারনেট, তাই অালাদা করে তথ্যসূত্র দেওয়া হলো না।

পানি নদীতে বহে অাবার অাসমানেও উড়েঃ ইতিহাস অনেকটা এ রকমই। তারও অাছে অাপেক্ষিক বৈশিষ্ট্য। অাল-অাকসা মসজিদের ইতিহাস হিসেবে অামরা – বিশেষত মুসলিমরা যে ঘটনাটি জানি, তার সমান্তরালে অারও একটি গল্প প্রচলিত অাছে পাশ্চাত্য সমাজে। তা গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, সেই গল্প প্রাণ যুগিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের প্রাচীনতম একটি গুপ্ত গোষ্ঠীকে; ইতিহাসের পট পরিবর্তনে যে গোষ্ঠির রয়েছে অদৃষ্ট অশুভ হাত। অামরা জানি বা না জানি, বিশ্বাস করি বা না করি, যা হওয়ার তা হয়ে গেছে এবং হচ্ছে।

বাইবেলীয় সূত্রমতে, কিং সলোমন (সোলাইমান অাঃ) স্বর্গ থেকে প্রাপ্ত নকশার উপর ভিত্তি করে টেম্পল অব সলোমন (অাল-অাকসা) নির্মাণের উদ্যোগ নেন। অার এ জন্য প্রধান স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন হাইরাম অাবিফ নামে মেধাবী এক কারিগরকে। নির্মীয়মাণ টেম্পল অব সলোমনকে ঘিরে পাথর-কাটার মিস্ত্রিদের মধ্যে একটি সংঘ গড়ে উঠে, যা Masonic Guild হিসেবে পরিচিত। অনিবার্যভাবেই প্রতিভাবান এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানসম্পন্ন হাইরাম অাবিফ হয়ে উঠেন তাদের গুরু বা Master masson. তিনি প্রতিদিন তাঁর শিষ্যদের মূল দৈব নকশা (যেটি কিং সলোমন ঈশ্বরের কাছ থেকে পেয়েছিলেন) থেকে অল্প অল্প করে নির্দেশ দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তুলছিলেন উপাসনালয়টি।

কথা ছিল- নির্মাণ কাজ শেষ হলে হাইরাম অাবিফ স্থাপত্যের নিগূঢ় জ্ঞান তাঁর শিষ্যদের জানিয়ে দেবেন- যে গূহ্য জ্ঞানের অধিকারী হলে অতিপ্রাকৃত জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সম্ভব। কিন্তু সংঘের কয়েকজন শিষ্য ধৈর্য হারায়। তারা স্বর্গীয় পরিকল্পনা জানার জন্য হাইরাম অাবিফকে হত্যা করে। জ্ঞানকে সুরক্ষিত এবং তস্করদের কাছ থেকে নিরাপদ রাখতে হাইরাম অাবিফের অাত্নত্যাগ ফ্রিম্যাসনদের অাজও প্রেরণার উৎস। প্রাচীনতম এই গোষ্ঠী বা সংঘই ইউরোপে enlightened বা জ্ঞানদীপ্তির বিকাশ ঘটান। যার ফসল হিসেবে তারা ঘরে তুলেছেন অাইজ্যাক নিউটন, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, ভলতেয়ারের মতো প্রতিভা। যারা মনে করে, যারা মুক্ত এবং স্বাধীন চিন্তার অধিকারী তিনটি শত্রু তাদের সর্বদা ধ্বংস করতে চায়- ১. অজ্ঞতা ২. গোঁড়ামি ও ৩. স্বৈরাচার। যেহেতু অজ্ঞতা, গোঁড়ামি ও স্বৈরাচার মানুষের চিন্তা, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিমণ্ডলেই বিরাজমান, তাই তারা চিন্তা, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সব সময়ই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে অাসছে, বিশেষ করে মার্কিন সরকারের উপর রয়েছে তাদের অকুণ্ঠ প্রভাব। বলা হয়ে থাকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকার ইলেক্টেড নয়, সিলেক্টেড হয়। ম্যাসনিক শহর হিসেবে পরিচিত ওয়াশিংটন ডিসির নির্মাতা ও অামেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধের সেনাপতি জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে, ইরাক ও অাফগানিস্তানের গণহত্যাকারী, যুদ্ধাপরাধী জর্জ বুশ সহ অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রি ম্যাসন গোষ্ঠির সংক্রিয় সদস্য। এমনকি হাল অামলের জনপ্রিয় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উত্থানের পিছনেও রয়েছে ম্যাসনিক গোষ্ঠির হাত।

ফ্রি ম্যাসনদের লগো।

তাই বিশেষভাবে লক্ষণীয়, ইসরাইল রাষ্ট্রের গণহত্যা, বিশ্বব্যাপী তাদের গোয়েন্দা প্রভাবে মার্কিন সরকার বরাবরই নিশ্চুপ। হয়তো ফ্রিম্যাসন গোষ্ঠিই ইসরাইল রাষ্ট্রকে ব্যবহার  করে তাদের কালো হাত হিসেবে। সমস্যার মূলে এক-বিশ্ব তত্ত্বঃ এক-বিশ্ব সম্পর্কে ধারণা বা কল্পনা অামাদের প্রায় সবার মনেই উকি দেয়। যেখানে এক পতাকার নিচে অাশ্রয় নিবে সব মানুষ বা দেশ। এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হাইরাম অাবিফের শিষ্যরা সমস্যা→অালোচনা→ সমাধান সূত্র প্রয়োগ করে চলেছে। যার ফলশ্রুতিতে তারা ইতোমধ্যে ঘটিয়ে ফেলেছে দু’ দু’টি বিশ্বযুদ্ধ। বিনিময়ে অর্জন করেছে জাতি সমূহের সংঘ বা জাতিসংঘ; এক বিশ্ব কায়েমের অন্যতম প্রতিষ্ঠান।

ফ্রি ম্যাসনদের পুরো পৃথিবীকে মুঠোর মধ্যে নিয়ে আসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত জাতিসংঘ

ফরাসি বিপ্লবের পিছনেও কলকাঠি নেড়েছে এই ফ্রিম্যাসন গোষ্ঠি। ফ্রিম্যাসনদের অন্যতম সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত সংঘটির নাম হচ্ছে ইলুমিনাতি। যার সদস্যদের মধ্য রয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে ডজন খানেক ইহুদি ধনিক পরিবার। যারা রক্ত সম্পর্কে মিসরীয় রাজবংশের উত্তরাধিকারের দাবিদার। যারা এক সময় রাজতন্ত্রের ছদ্মাবরণে বিশ্বকে এক শাসনের নিচে নিয়ে অাসতে চেয়েছিল। পরবর্তীতে রাজতন্ত্রসমূহের পতন এবং অ্যাডলফ হিটলারের গণধোলায়ের শিকার বিচ্ছিন্ন ইহুদি জাতিকে স্বপ্ন রাষ্ট্র উপহার দেয় ফ্রিম্যাসন ও ইলুমিনাতি গোষ্ঠির কুশিলবরা। যাদের এক বিশ্ব ব্যবস্থার কেন্দ্র হবে ইসরাইল। অার অাল-অাকসা হবে একমাত্র তাদের পবিত্রতম স্থান। ঐতিহাসিকভাবে যার দাবিদার ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলমান – এই তিন ধর্মের অনুসারীরাই। কিন্তু ইহুদিদের এই বিশেষ সম্প্রদায়টি চাচ্ছে অাল-অাকসার একচ্ছত্র অধিকার। তাদের secret cult সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়, তাতে মনে হয় ধর্মীয় কারণ নয়, এক বিশ্ব তত্ত্বই কাজ করছে এই ইহুদি অাগ্রাসনের মূলে।

 

মো: এরশাদ

কবি ও সাহিত্যিক