/

পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ২৭, ২০১৭

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব:  পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ

জন্ম: ডিসেম্বর ২৫, ১৯৪৯ । একজন পাকিস্তানী রাজনীতিবিদ। তিনি তিন বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রথমবার তিনি নভেম্বর ১, ১৯৯০ হতে জুলাই ১৮, ১৯৯৩ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। দ্বিতীয় বার তিনি ফেব্রুয়ারি ১৭, ১৯৯৭ হতে অক্টোবর ১২, ১৯৯৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তৃতীয় বার দ্বায়িত্ব পালন করেন ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাকিস্তান মুসলিম লীগ এর সদস্য। আন্তর্জাতিক ভাবে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ১৯৯৮ সালে ভারতের পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার জবাবে পাকিস্তানের পালটা পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষার আদেশ করার পরে। এবং ১৯৯৯ সালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ এর হাতে নাটকীয়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে।

 

নওয়াজ শরীফ ১৯৪৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণ করেন। শরীফের পরিবার কাশ্মীরী বংশোদ্ভূত পাঞ্জাবী। তার পিতা মুহাম্মদ শরীফ ছিলেন উচ্চ-মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি। তার পরিবার অনন্তনাগ জেলা থেকে কাশ্মীরে আসেন ব্যবসায়ের খাতিরে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে পাঞ্জাবের অমৃতসর জেলার জাতি উমরা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। নওয়াজের মাতার পরিবার পুলোয়ামার অধিবাসী ছিল। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পরিচালিত আন্দোলন এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর তার পিতামাতা অমৃতসর থেকে লাহোরে চলে আসেন। তার পিতা আহলে হাদীসের অনুসারী ছিলেন। নওয়াজের পরিবার মাল্টিমিলিয়ন ডলারের স্টিল ব্যবসায় ইত্তেফাক গ্রুপ এবং কৃষি, পরিবহন ও সুগার মিলের ব্যবসায় শরীফ গ্রুপ এর মালিক। তার ভাই শেহবাজ শরীফ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী, এবং তার ভাতিজা হামজা শেহবাজ শরীফ পাকিস্তানের জাতীয় মন্ত্রীসভার সদস্য।

নওয়াজ সেন্ট অ্যান্থনি হাই স্কুলে পড়াশুনা করেন। তিনি গভর্মেন্ট কলেজ ইউনিভার্সিটি থেকে কলা এবং ব্যবসায় বিষয়ে স্নাতক লাভ করেন এবং লাহোরের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ল কলেজ থেকে আইন বিষয়ক ডিগ্রি অর্জন করেন।

নওয়াজ কলসুম নওয়াজ শরীফকে বিয়ে করেন। কলসুমও কাশ্মীরী পরিবার থেকে এসেছেন। তার কন্যা মরিয়ম নওয়াজ প্রধানমন্ত্রীর যুব পরিকল্পনার বর্তমান চেয়ারপার্সন। মরিয়ম রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ সফদার আওয়ানকে বিয়ে করেন।নওয়াজের আরেক কন্যা আসমা নওয়াজের বিয়ে হয় পাকিস্তানের বর্তমান অর্থমন্ত্রী ইসহাক ধরের পুত্র আলী ধরের সাথে।শরীফ পরিবারের নিবাস লাহোরের অদূরে রাইউন্ডের জাতি উমরায় অবস্থিত রাইউন্ড প্যালেস। সৌদি আরবের জেদ্দায় ‘শরীফ ভিলা’ নামে তার একটি বাড়ি রয়েছে। তার সৌদি আরবে নির্বাসনের সময় তিনি সেখান বাস করতেন। তার বড় পুত্র হুসাইন নওয়াজ একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি সৌদি আরবে জেদ্দার বাড়িতে বসবাস করেন। তার ছোট পুত্র হাসান নওয়াজও একজন ব্যবসায়ী এবং তিনি লন্ডনে বসবাস করেন। ( উইকিপিডিয়া)

 

নওয়াজ পরিবারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

কর ফাকি সংক্রান্ত আলোচিত ‘পানামা পেপার্সে’ নাম থাকার জের ধরে পদত্যাগে বাধ্য হলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ।

শুক্রবার দেশটির সবোর্চ্চ আদালত পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারির দায়ে নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করে রায় দেন। এরপরই তিনি পদত্যাগ করেন।

আর নওয়াজের পদত্যাগ সূত্রে দুই বছর পর বিশ্বজুড়ে ফের আলোচনার জন্ম দিয়েছে বহুল আলোচিত ‘পানামা পেপারস’।

সবাই জানার চেষ্টা করছেন পানামা পেপার্সে নওয়াজ পরিবারের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ ছিল।

আর তার মতো যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তাদের পরিণতিই বা কী হয়েছে? নওয়াজের মতো সবাই কি বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন?

২০১৫ সালে পানামাভিত্তিক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান ‘মোসাক ফনসেকা’র এক কোটিরও বেশি নথি ফাঁস হয়ে যায়। এসব নথিকেই ‘পানামা পেপারস’ নামে অভিহিত করা হয়।

ফাঁস হওয়া ওইসব পেপারসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পরিবারের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এতে নওয়াজ শরীফসহ তার চার ছেলেমেয়ের মধ্যে মরিয়ম, হাসান ও হোসেনের নামও উঠে আসে। নওয়াজের সন্তানরা মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন অফশোর কোম্পানির মালিকানার অংশীদার।

ওইসব নথিতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ফুটবলার মেসি থেকে শুরু করে বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনসহ বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম উঠে আসে।

ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কীভাবে, কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তা বেরিয়ে আসে এসব তথ্যে।

নওয়াজ পরিবারের এই কেলেঙ্কারি নিয়ে বিরোধী দলগুলো ফুঁসে ওঠে। ওই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নওয়াজের পরিবারের কাছে সম্পদের হিসাব দেয়ার দাবি জানায়।

পরে সংসদের বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফ ও পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের আবেদনের ভিত্তিতে দুর্নীতির অভিযোগটি আমলে নেয় আদালত।

অভিযোগের বলা হয়, লন্ডনে নওয়াজ পরিবারের যে সম্পদ আছে তার লভ্যাংশের মালিক ছিলেন মরিয়ম।

ওই সম্পদে তার দুই ভাই হাসান ও হুসেইন শরিফের যৌথ মালিকানা রয়েছে।

মরিয়ম বাবার ওপর নির্ভরশীল থাকায় প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের তার সম্পদের বিবরণে মেয়ের প্রপার্টি ও ফ্ল্যাটের বিষয়টি উল্লেখ করা উচিত ছিল।

তবে নওয়াজ বরাবারই অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল। তার দাবি পাকিস্তন প্রতিষ্ঠিত হবার ২৫ বছর আগেই তার বাবা ব্যবসা শুরু করেন।

ঢাকায়ও নওয়াজ শরীফের বাবার শিল্প কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।  ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় সেটা আর হয়নি বলেও এক ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্ত শুরু হয় নওয়াজ এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে শুক্রবার পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির মামলায় প্রধানমন্ত্রী পদে নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা করেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়ের পরপরই তিনি পদত্যাগ করেন।

এর আগে ‘পানামা পেপারসে’ কর ফাঁকি ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের তথ্য ফাঁসের পর বিক্ষোভের মুখে গত বছর পদত্যাগ আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর গুনলাগসন করেন। ( যুগান্তর)