/

আমাদের হারিয়ে যাওয়া তারা রা- (পর্ব-১. সৈয়দ রাসেল)

মো: রুকুনুজ্জামান রাসেল

প্রকাশিতঃ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

পর্ব-১- সৈয়দ রাসেল

 

২০০৫-২০১০ পর্যন্ত বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন ১৯৮৪ সালের ৩ জলাই যশোরের ঝিকরগাছায় জন্ম নেয়া এই লেফট আর্ম মিডিয়াম পেসার। বোলিং এ পেস কখনোই খুব বেশি ছিলনা, বাউন্সার,ইয়র্কার এর মত অস্ত্র ও ছিলনা তার ভান্ডারে। শুধু ছিল বল দুই দিকেই সুইং করানো আর একটানা একই জায়গায় বল করে যাবার অদ্ভুত ক্ষমতা। নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ভালো করে জানতেন বলেই হয়ত বেশির ভাগ সময় বোলিং ওপেন করে টানা ৮/১০ ওভারের এক স্পেল করে স্লগ ওভারে আর বোলিং এ আসতেন না। ৫২ ওডিয়াই তে মাত্র 4.61 economy rate & 43.2 strike rate এ প্রায় ৩৩ এভারেজে ৬১ উইকেট তার অসাধারণ মিতব্যয়ী বোলিং এর ধারণা দেয়।সে সময় দলে তিনি ছিলেন অনেকটা বর্তমানের মাহমুদ উল্লাহ এর মত। নীরবে পারফর্ম করতেন কিন্তু লাইম লাইটের আলো থাকত ম্যাশ,রফিক কিংবা রাজ্জাকের উপর। সে আমলে বাংলাদেশ জিতত কালে ভদ্রে, প্রায় প্রতিটা জয়ে তার অসামান্য অবদান থাকলেও কখনো পাদ প্রদীপের আলোয় আসতে পারেননি। ০৭ বিশবকাপের ভারতকে হারানো ম্যাচে মিতব্যয়ী বোলিং এ তিনি ভারতের top অর্ডারের টুটি চেপে ধরেছিলেন কিন্তু মানুষ মনে রাখল ম্যাশ এর ৪ উইকেট আর সাকিব তামিম মুশির তিন হাফ সেঞ্চুরি।তবে তার সে সময়ের সতীর্থ রা সব সময় ই বলতেন অপর প্রান্তে রাসেল এর কিপ্তে বোলিং তাদের উইকেট প্রাপ্তি সহজ করে দিত। হয়ত সে জন্য ইনজুরি ছাড়া পারফরমেন্স এর জন্য দল থেকে কখনো বাদ পরেন নি।

 

২০০৫ সালে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে কলম্বো তে ওডিয়াই অভিষেক। একই সফরে ক্যান্ডি তে টেস্ট অভিষেক। তবে তিনি প্রথম নজর কাড়েন ২০০৫ এ বাংলাদেশ এ দলের ইংল্যান্ড সফরে কাউন্টি দল কেন্টের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে এক ইনিংসে ৭ উইকেট সহ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে।
ওডিয়াই ক্যারিয়ারে তার প্রথম শিকার চামিন্ডা ভাস। সে ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও তার বোলিং ফিগার ছিল ১০-২-৪২-২। সে সেই ম্যাচে দশম উইকেট জুটিতে তাপষ বৈশ্য কে নিয়ে তার গড়া ৫৪ রানের জুটি আজো বাংলাদেশের অন্যতম সেরা lower অর্ডার ব্যাটিং পারফরম্যান্স

 

তবে টেস্ট অভিষেক অতটা রংগিন ছিলনা। মুরালির বোলিং তোপে দুই ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ১৩১ ও ৮৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় আর লংকান দের একমাত্র ইনিংসে ৫০০/৪ এর চাপে পারফরমেন্স বড্ড ফিকে ছিল। একমাত্র ইনিংসে বল করে ৮৭ রানে দুই উইকেট পান তিনি।

 

২০১০ সালে সর্বশেষ তিনি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপান। কাধের ইনজুরির জন্য ২০১৭ এর আগ পর্যন্ত ২০১৫ এর জাতীয় লীগের তিনটি ম্যাচ ছাড়া সব ধরনের ক্রিকেট থেকে তিনি দূরে ছিলেন। ইঞ্জুরি কাটিয়ে ২০১৭ ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ দিয়ে তিনি মাঠে ফেরেন। বয়স ৩৩ হয়ে গেলেও বোলিং এ যে মরচে ধরেনি তার প্রমান তিনি দেন কামব্যাক ম্যাচেই মাত্র সাড়ে তিন ইকোনমিতে ২ উইকেট নিয়ে। তাসকিন,রুবেল,মুস্তাফিজ দের মত তরুন পেসারদের ভিড়ে এই বয়সে জাতীয় দলে ফেরা তার জন্য হয়ত দিবা সপ্ন কিন্তু ৮ বছর আগের সেই মিতব্যয়ী বোলার রাসেল কে আমরা ফিরে পেলে মার কাটারি ব্যাটিং এর এই যুগে আমাদের ওডিয়াই বোলিং আক্রমণ আরো দুর্দান্ত হয়ে উঠত। হয়ত বিসিবির অবহেলায় সামান্য কাধের ইঞ্জুরিতে ৫ বছর না হারালে আমাদের ওডিয়াই বোলিং লাইন আপে ম্যাশ এর পাশা পাশি আরেকজন অভিভাবক থাকতে পারত।

 

লেখক

কাজী সীরাত

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)