/

আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে সম্ভাবনাময় ময়মনসিংহ অঞ্চল

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ২:৪৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭

আরাফাত রহমান:  অনলাইনের সাথে ২০০৮ সাল থেকে নিয়মিত জড়িত থাকলেও দেশের অনলাইন কমিউনিটির সাথে জড়িত ২০১৩ সালের শেষের দিকে। নিজের বয়স ও আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ারের বয়স কম হলেও দেশ-বিদেশের অনেক আইটি প্রফেশনালদের সাথে কথা-বার্তা বা চলা ফেরা হয় । তাছাড়া, দেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রির অনেক কর্ণধারদের সাথে বহু দিনের চলা-ফেরায় ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে কিছুটা হলেও অভিজ্ঞতা হয়েছে । যা থেকে আমাদের দেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনা নিয়ে ছোট-খাট কিছু চিন্তা করতেই পারি ।

 

তথ্য প্রযুক্তিতিতে উন্নত দেশ গুলোর আইটি নগরীগুলো রাজধানী কেন্দ্রীক গড়ে উঠেনি কিন্তু বাংলাদেশের আইটি নগরী রাজধানী কেন্দ্রীক হয়ে যাচ্ছে যার ফলে প্রযুক্তি শুধু একটি শহরেই সীমাবদ্ধ হয়ে পরছে । মানুষ সফটওয়্যার বা আইটি কোম্পানি অর্থাৎ আইটি ইন্ডাস্ট্রি বলতে শুধু ঢাকাকেই বুঝে থাকেন ।

 

ময়মনসিংহ কেনো উপযোগী স্থান ? বাংলাদেশের প্রধানতম ও জনপ্রিয় নগরীগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ অন্যতম । শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য সহ সকল দিক দিয়ে অন্যান্য জেলা ও বিভাগগুলো থেকে কোনো ক্ষেত্রেই পিছিয়ে নেই ।

 

 

বাংলাদেশের প্রথম মডেল থানা ময়মনসিংহের ভালুকা, বাংলাদেশে কুমিরের একমাত্র খামার ভালুকায় এবং দেশের শিল্পাঞ্চল গুলোর মধ্যে অন্যতম জায়গা হয়ে উঠছে ময়মনসিংহের ভালুকায়, গার্মেন্টস শিল্প, ঔষধ সহ বিভিন্ন বড় বড় কারখানা ময়মনসিংহে ।

 

শিক্ষা ক্ষেত্রেও রয়েছে ময়মনসিংহের বিশাল অবদান। দেশের সরকারি- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে র‌্যাংকিং-এ শীর্ষে এবং দেশের কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে । কৃষি পারমাণবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পরমাণু ও কৃষি গবেষণা ইন্সিটিউট(বিনা), ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করার মত। বৃহত্তর ময়মনসিংহের অক্সফোর্ড খ্যাত, আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ যেখানে ৩৫ হাজার+ ছাত্র/ছাত্রী পড়াশোনা করছে। কলেজটির  ফলাফল ও সংখ্যায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব সময় টপ র‌্যাংকিং-এ থাকে । ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ মেয়েদের জন্য স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম ক্যাডেট কলেজ এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবায় দেশের মডেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে ইতিমধ্যে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।

 

শুধু শিল্প ও শিক্ষায় নয়, সাহিত্য সংস্কৃতি, বিনোদনসহ সকল ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলের লোকদের অবদান অসামান্য ।

 

বিজয় কি-বোর্ড এর প্রবর্তক ও ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম নায়ক মুস্তফা জব্বার স্যার ময়মনসিংহের-ই সন্তান এবং অনলাইন কাজের বাংলাদেশের প্রথম মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সার এর প্রধান নির্বাহী মোঃ শফিউল আলম ভাইও ময়মনসিংহের সন্তান। তাছাড়া দেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অনেকেই ময়মনসিংহের আছেন যারা দেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ।

 

ময়মনসিংহের এত এত শিক্ষিত তরুণরা গ্রেজুয়েশন শেষ করে এই শহরে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ না পেয়ে সকলেই ভিড় জমাচ্ছেন যানজটময় শহর ঢাকায় । অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিগুলো ঢাকা থেকে বের হয়ে আসলেও আইটি ইন্ডাস্ট্রিগুলো এখনও ঢাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে ।

 

প্রযুক্তি কারা বেশী ব্যবহার করেন ? উত্তর = তরুণরা । আর এই তরুণরা কি শুধু ঢাকাতে থাকেন ? না, তাহলে কেন আমরা এই ইন্ডাস্ট্রিকে শুধু ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছি ? আইটি ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধারদের প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ, দেশের বিশাল সংখ্যক শিক্ষিত তরুণদের মাঝে তথ্য প্রযুক্তির আলো  ছড়িয়ে দিতে , বেকারত্ব হ্রাস করতে এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে ঢাকাকেন্দ্রীক না রেখে আইটি সেক্টরকে বিকেন্দ্রীয়করণ করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিন। তাহলে খুব দ্রুত যেমন আইটি সেক্টর বিকশিত হবে, ঠিক তেমনি বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি দেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আমার বিশ্বাস এই মাতৃভূমিকে আমরা যত চাষ করবো ততই উর্বর হবে । যেহেতু তরুণরাই আইটি সেক্টরের প্রাণ তাই  এই সেক্টরকে এগিয়ে নিতে তারুণ্যকেই ব্যবহার করতে হবে ।

 

আমার বিশ্বাস, ময়মনসিংহ সহ বাংলাদেশের অন্যান্য  মফস্বল অঞ্চলগুলোকে আইটিতে ডেভেলপ করতে পারলেই প্রকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব হবে ।

 

 

লেখকঃ

আরাফাত রহমান

সহ-প্রতিষ্ঠাতা

সফটএভার