/

বিসিএস ক্যাডার এবং আমার যুদ্ধ

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ০২, ২০১৭

মিফতাহুল ইসলাম বাদশা : জন্মেছিলাম এক অজপাড়াগাঁয়ে।সেখানে পৌঁছেনি কেনো বিজ্ঞানের আলো। কুপি বাতির হালকা আলো নয়তো মায়ের রান্নার করার সময় উনুনের পাশে বসে এ আলোতেই স্কুলের পড়াটা শেষ করতাম।কলেজ জীবনটাও ছিলো তথৈবচ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে রাজনীতি নামক মারপ্যাঁচে নিজেও হলাম একনিষ্ঠ কর্মী। পেট চলার জন্য দুইটা টিউশন,আর অন্যসময় রাজনীতি। কতো রঙিন স্বপ্ন ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করে, এলাকায় গিয়ে এম.পি হবো। আসলে এটা ছিলো রঙিন ফানুস। অনার্স শেষ। রেজাল্টের অপেক্ষায়। কোনোমতে ৩ পয়েন্টের একটু কম পেয়ে পাশ করলাম।
কিন্তু ভাগ্য আমার সুপ্রসন্ন হলো না। ছিটকে পড়লাম রাজনীতির মূল স্রোত থেকে। ঠিক সে সময়টাতেই ৩৩তম বিসিএস সার্কুলার প্রকাশিত হলো।

 

চোখে অন্ধকার দেখছি, বাড়ীতে মা একা। বাবা নেই। মাসের শুরুতে মাকেও টাকা দিতে হয়। কিন্তু এ অন্ধকারেও জোনাকিপোকার আলো দেখে উপলব্ধি করলাম, অন্ধকারেও আলো আছে। সুতরাং আমি পারবো। মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে বিসিএস ফরম পূরণ করলাম। যেহেতু বুঝতে পেরেছি,আমাকে দিয়ে আর রাজনীতি হবে না,তাই চাকরি করতে হবে।

কিন্তু চাকরি পাওয়ার জন্য যতটুকু মেধা দরকার,তা তো আমার নাই। যতটুকু ছিলো তা তো রাজনীতির বিবর্ণ মরুভূমিতে নির্বাসন দিয়েছি। তারপরও হাল ছাড়া ঠিক হবে না। যথারীতি শুরু করলাম লাইব্রেরি ওয়ার্ক।
সকাল ৬.৩০ এ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে, নাশতা সেরে ৭.৩০ এ লাইব্রেরিতে প্রবেশের লাইনে দাঁড়াতাম। ক্লাশ থাকলে হয়তো প্রেজেন্স দিয়ে আবার লাইব্রেরি। রাতে লাইব্রেরি বন্ধ হলে সরাসরি হলে এসে রাতের খাবার খেয়ে পত্রিকা দেখে ১১.৩০ এর মধ্যে ঘুম। যে ছেলে আমি রাত ৩টার আগে ঘুমাতাম না,তাকে এখন ১১.৩০ এ ঘুমাতে হয়। কারণ,সকালে উঠতে না পারলে লাইব্রেরিতে বসার জায়গা পাবো না।

এভাবে চললো টানা তিনমাস। মোটামুটিভাবে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলাম। আমি পারবো। সত্যি কথা বলছি,এ তিন মাসের একটা ঘন্টাও অপচয় করি নি।

প্রিলি. পরীক্ষার তারিখ ঘোষনা করলো। হাতে আর একমাস। সুতরাং লাইব্ররি যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে শুরু করলাম রুমেই পড়ালেখা। শুধুই রিভিশন। একটা দিন যায়,আমার আত্মবিশ্বাসের পারদ বাড়তে থাকে। পরীক্ষার আগের দিন কিছুই পড়িনি। সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে ১১.০০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছি।
সকালে উঠে গণিতের সুত্র ও ইংরেজি গ্রামারের কিছু নিয়ম দেখে নাশতা করে গেলাম পরীক্ষার হলে। কিন্তু একি দেখছি, সবার হাতেই বিভিন্ন বই। সে কি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা। আমিতো অবাক। ওদের দেখে আমি একটু চেষ্টা করলাম কিছু মনে করার। কিন্তু কিছুই মনে আসছে না। চিন্তা করছি, আমার মাথা কি হ্যাং হয়ে গেলো?? পরক্ষণেই মনে হলো, নাহ আমি তো ঠিক আছি। দোয়া-দরূদ পড়ে প্রশ্ন নিয়ে A-Z দেখলাম। যেগুলো ১০০% নিশ্চিত, সেগুলোর উত্তর দেয়া শুরু করলাম বাংলা থেকে,এভাবে সাধারন জ্ঞান, বিজ্ঞান, ইংরেজি, গণিত। দেখলাম ৬৬ টা হয়ে গেছে। আবার, শুরু থেকে যেগুলো একটু কনফিউশন তৈরি করেছিলো,তা থেকে আরো ১১টা দাগাইলাম। আবার প্রথম থেকে Trim পদ্ধতি ব্যবহার করে ৬টার উত্তর দিলাম। সবশেষে পাশের একজনের দেখে ৪টা বৃত্ত পূরণ করেছি।

পরীক্ষা শেষ, খুশি মনে হলে ফিরছি আর প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করছি বন্ধুদের সাথে। একি,যে ৪টা প্রশ্ন অন্যের দেখে পূরণ করেছি, সবকটি ভুল। যাইহোক,প্রিলিমিনারির রেজাল্ট পেলাম। পিএসসি লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানালো।  চলবে…..

 

পরামর্শ….(জীবন থেকে নেয়া)

১. রহিম মেধাবী,আমি নই। এ চিন্তা কখনোই করবেন না। প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী হোন। আত্মবিশ্বাসই আপনাকে পৌঁছাবে স্বপ্নের দোরগোড়ায়।

২. ৩৮ তম প্রিলি ডিসেম্বরের আগে হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। সুতরাং অনেক সময় আছে। সব কিছু ছেড়ে দিয়ে পড়ুন।

৩. শর্টকাট পড়ার যুগ ৩৪ তম বিসিএসেই শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং যা পড়বেন,বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন। উদাহরণ হিসেবে আমি বলতে পারি ৩৬, ৩৭ বিসিএসের প্রশ্ন অনেক গভীর থেকে এসেছে।

৪. পরীক্ষার আগের দিনে ও রাতে কোনোধরনের পড়ালেখা না করাই শ্রেয়।

৫. পরীক্ষার হলে কখনোই কারো কিছু দেখবেন না।

 

পারলে এ বইগুলো সাথে রাখুন:
১। সাধারন জ্ঞান : আজকের বিশ্ব/ নতুন বিশ্ব
২। বিজ্ঞান : ওরাকল
৩। গণিত : ৮ম/নবম/দশম (পুরাতন সিলেবাস)
৪। ইংরেজি : Competative Exam for English (Fazlul Sir)
৫। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য : অগ্রদূত বাংলা (মিলন স্যার)
৬। কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি : mp3 (Eazy)

 

লেখক 

মিফতাহুল ইসলাম বাদশা 

শিক্ষা ক্যাডার।