/

৩৮তম বিসিএস প্রিলি. প্রস্তুতি -(বাংলা সাহিত্য)

মো: রুকুনুজ্জামান রাসেল

প্রকাশিতঃ ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ০৭, ২০১৭

বিসিএস-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বাংলা বিভাগ থেকে আধুনিক যুগ অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ; বিসিএসের সিলেবাসে এ অংশের নম্বর ১৫। এ অংশ মূলত অসংখ্য কবি-সাহিত্যিক নির্ভর।অনেকে সবার সব পড়তে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন। এখানে কবি-সাহিত্যিকদের জীবনকাল, তাদের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য (যেখানে শুধু,নাম আর সাল যা খুবই বিরক্তিকর) জানতে হবে।কিন্তু কতজনকে কতটুকু পড়তে হবে এ বিষয়ে অনেক পরীক্ষার্থীরই নেই কোন সুস্পষ্ট ধারণা। আশা করি এই পোস্টের মাধ্যমে যাদের সম্পর্কে হালকার ওপরে ঝাপসা জানতে হবে তাদের আলোচনা করা হবে। আশা করি আপনারা দুর্দান্ত ফল পাবেন।

 

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত : কল্লোল গোষ্ঠীর এ লেখকের ‘বেদে’ নামে একটি বিখ্যাত উপন্যাস আছে। এটি তার প্রথম উপন্যাসও বটে। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ হল ‘অমাবস্যা’।

অতুলপ্রসাদ সেন: তিনি কবি,গীতিকার ও গায়ক হলেও সুরকার ও গীতিকার হিসেবে বেশ প্রসিদ্ধি অর্জন করেছেন। তিনি প্রায় ২০০টি গান রচনা করেছেন।ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল তার “মোদের গরব, মোদের আশা,আমরি বাংলা ভাষা” গানটি।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ : বিখ্যাত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (১৯৫৬) উপন্যাসটি তিনি রচনা করেছেন।এটি ৪ খণ্ডে প্রকাশিত।

অন্নদাশঙ্কর রায়: ছদ্মনাম : লীলাময় রায়( লীলা রায় তার স্ত্রীর নাম)। তার উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনি হল ‘পথে প্রবাসে'(ফ্রান্সে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা), ইউরোপের চিঠি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা তার বিখ্যাত কবিতা – “যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান । ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান”

 

পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করুন এই লিংক থেকে- ৩৮তম বিসিএস প্রিলি. প্রস্তুতি- বাংলা সাহিত্য পিডিএফ ফাইল

 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: মূলত কথাসাহিত্যিক। উপন্যাস: চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭)।ঊনসত্তরের গন-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস। খোয়াবনামা ( ১৯৯৬)। গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ,আসামের ভূমিকম্প,তেভাগা আন্দোলন,১৯৪৩-এর মন্বন্তর,পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদানের অবলম্বনে এ উপন্যাস রচিত। ছোটগল্প: অন্য ঘরে অন্য স্বর,খোঁয়ারি, দুধভাতে উৎপাত,দোযখের ওম। প্রবন্ধগ্রন্থ : সংস্কৃতির ভাঙা সেতু।

আনোয়ার পাশা : কবি, সাহিত্যিক,সমালোচক ও শিক্ষাবিদ।মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ছিলেন।উপন্যাস: নীড় সন্ধানী,নিষুতি রাতের গাথা, রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুভিত্তিক উপন্যাস -১৯৭৩)। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়াটার্স থেকে পাক হানাদার বাহিনীর অনুগত আলবদর সদস্যরা তাকে ঢাকার মিরপুরের বদ্ধভূমিতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।

আবদুল কাদির: মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা'(১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন। তার ‘ছন্দ-সমীক্ষণ’ গ্রন্থে বাংলা ছন্দের সামগ্রিক রূপটি বিশ্লেষণের প্র‍য়াস আছে।তাকে ‘ছান্দসিক কবি’ বলা হয়।

আবদুল মান্নান সৈয়দ: ছদ্মনাম : অশোক সৈয়দ। তাকে ‘শুদ্ধতম কবি’ বলা হয়। ‘শুদ্ধতম কবি’ নামে তার একটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।

আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দীন: তিনি মূলত বিজ্ঞানলেখক। তার বিজ্ঞানভিত্তিক গ্রন্থ – ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে’ (প্রথম গ্রন্থ), ‘তারার দেশের হাতছানি’।

আবু ইসহাক: শরীয়তপুরে জন্ম নেয়া আবু ইসহাকের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী'(১৯৫৫)।উপন্যাসটি বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের এক বিশ্বস্ত দলিল।জয়গুন,তার ছেলে হাসু,মায়মুন এ উপন্যাসের চরিত্র। এছাড়াও ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’ ও ‘জাল’ তার আরো দুটি উপন্যাস।

গল্পগ্রন্থ: ‘হারেম’ ও ‘মহাপতঙ্গ’।  ‘জোঁক’ গল্পে মহাজন ও বর্গাচাষীদের চিরন্তন বিরোধ চিত্রিত হয়েছে।

 

১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে বাঙালির যে ভাগ্যবিপর্যয় ঘটেছিল তার প্রভাবে জাতীয় জীবনের সর্বত্র এক অসুস্থ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নত ধরনের সাহিত্যসৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ ছিল না।মধ্যযুগের পরিধি ১২০০ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে বিবেচনা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে এ যুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের তিরোধানের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা কাব্যের ইতিহাসে মধ্যযুগের অবসান ঘটে।

অবক্ষয় যুগ:১৭৬০সালে ভারতচন্দ্র রায়ের মৃত্যুুর পর থেকে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশকাল পর্যন্ত(১৮৬০সালে মাইকেলের আবির্ভাব) অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়ের বাংলা সাহিত্য সৃষ্টির স্বল্পতা,পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে এ পর্যায়কে একটি স্বতন্ত্র যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেউ কেউ এ যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ কবি ঈশ্বরগুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত নির্ধারণ করার পক্ষপাতী। মধ্যযুগের শেষ আর আধুনিক যুগের শুরুর এ সময়টাকে ‘অবক্ষয় যুগ’ বলে। কেউ কেউ এ সময়টাকে ‘যুগ সন্ধিক্ষণ’ নামেও অভিহিত করেন। মধ্য ও আধুনিক যুগের মধ্যবর্তী এ একশত বছরের সাহিত্য নিদর্শন বাংলা সাহিত্যের দুই যুগের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে। অবক্ষয় যুগ তথা যুগ সন্ধিক্ষণের ফসল হিন্দু কবিওয়ালাদের কবিগান আর মুসলমান শায়েরদের দোভাষী পুঁথি।

 

কবিগান : অবক্ষয় যুগ বা যুগ সন্ধিক্ষণের উল্লেখযোগ্য ফসল  হিন্দুদের রচিত কবিগান। উপস্থিত ক্ষেত্রে হঠাৎ বিষয় নির্বাচন করে ছন্দোবদ্ধ যে পদ রচিত হত তাই ‘কবিগান’ নামে পরিচিত ছিল। যাঁরা  এ ধরনের সাহিত্য রচনা করতেন তাঁদের ‘কবিওয়ালা’ বলা হত। ১৮৫৪ সালে সর্বপ্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কবিগান সংগ্রহ আরম্ভ করেন এবং তাঁর সম্পাদিত  ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় তা ছাপাতে থাকেন। কবিগান ও কবিওয়ালা সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- *কবিগান লিখিত হয়নি, উপস্থিত ক্ষেত্রে মুখে মুখে রচিত হয়েছে মাত্র। *কবিওয়ালারা ছিলেন অশিক্ষিত স্বভাব কবি।তাই কবিগান রচনার পশ্চাতে কোন শিল্পসাধনার পরিচয় নেই। * কবিগান দুই পক্ষের বিতর্কের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হত। সাময়িক বিষয় অথবা গতানুগতিক রাধা-কৃষ্ণের  প্রণয়লীলা অবলম্বন করে এক পক্ষ মুখে মুখে গান রচনা করতো, অন্যপক্ষ পাল্টা জবাব দিত। কবিগানের ৪টি বিভাগ ছিল-বন্দনা বা গুরুদেবের গীত,সখীসংবাদ, বিরহ ও খেউড়। কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন বা কবিগানের আদিগুরু বলা হয় ‘গোঁজলা গুঁই’কে। স্ত্রী কবিওয়ালা ‘যজ্ঞেশ্বরী’ কবিগান রচনা করতেন। কবিওয়ালা ‘এন্টনি ফিরিঙ্গি’ জাতিতে পর্তুগিজ হলেও বিধবা ব্রাহ্মণী বাঙালিনী বিয়ে করে বাঙালি হয়ে যান। কবিগানের সমসাময়িককালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল। হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। বাংলা টপ্পাগানের জনক ছিলেন কবিওয়ালা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত। টপ্পাগান থেকেই আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার সূত্রপাত বলে অনেকের ধারণা। তাঁর একটি বিখ্যাত গান –

নানান দেশের নানান ভাষা

বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।।

কত নদী সরোবর কিবা ফল চাতকীর

ধারাজল বিনে কভু ঘুচে কি তৃষা।।

 

কবিওয়ালাদের মধ্যে আরো রয়েছেন -ভবানী বেনে,রাসু-নৃসিংহ, হরু ঠাকুর, রঘুনাথ দাশ,কেষ্টা মুচি,নিতাই বৈরাগী,রাম বসু(রামমোহন বসু),ভোলা ময়রা প্রমুখ। কবিগানের যুগে ‘পাঁচালী গান’ নামে এক ধরনের গান প্রচলিত ছিল এবং এ ধারায় ‘দাশরথি রায়’ শক্তিশালী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন। ‘দাশু রায়’ নামে তিনি খ্যাত ছিলেন।

 

পুঁথি সাহিত্য : আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ও ঊনিশ শতকের প্রথমার্ধে আরবি-ফারসি শব্দমিশ্রিত এক ধরনের বিশেষ ভাষারীতিতে যেসব কাব্য রচিত হয়েছিল তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘পুঁথি সাহিত্য’ নামে চিহ্নিত। ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত ক্রান্তিকালে বাংলা সাহিত্যের যথার্থ পরিচয় কবিওয়ালাদের কবিগানের পাশাপাশি মিশ্র ভাষারীতির কাব্যরচনাকারী শায়েরদের অবদান বিধৃত। ১৮৫৫ সালে প্রকাশিত রেভারেন্ড জে.লং- এর পুস্তক তালিকায় এ শ্রেণির কাব্যকে ‘মুসলমানি বাংলা সাহিত্য’ এবং এর ভাষাকে ‘মুসলমানি বাংলা’ বলা হয়েছে। কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়ে এ ধারার কাব্য দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে একে ‘বটতলার পুঁথি সাহিত্য’ও বলা হয়। কেউ কেউ আরবি-ফারসি শব্দের প্রাচুর্যপূর্ণ ব্যবহারের জন্য এ ধরনের সাহিত্যকে ‘দোভাষী পুঁথি’ নামে অভিহিত করেছেন। আরবি-ফারসি শব্দ ছাড়াও তুর্কি,হিন্দি,উর্দু প্রভৃতি ভাষার শব্দ এ ধরনের সাহিত্যে ব্যবহার করা হয়েছে।পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ। মিশ্রভাষারীতিতে তাঁর রচিত কাব্যগুলো হল – ইউছুফ-জোলেখা,আমীর হামজা(প্রথমাংশ),জঙ্গনামা, সোনাভান ও সত্যপীরের পুঁথি। ফকির গরীবুল্লাহর রচিত গ্রন্থগুলো মনে রাখুন সোনাভানের আমীর হামজা ইউছুফ-জোলেখাকে সত্যপীরের পুঁথি শুনাতে জঙ্গনামা সিনেমা হলে নেয়। কারবালার বিষাদময় কাহিনি ‘জঙ্গনামা’ কাব্যের উপজীব্য বিষয়। পুঁথি সাহিত্যের ধারায় কবি ফকির গরীবুল্লাহর অনুসারী হিসেবে কবি সৈয়দ হামজার আবির্ভাব। তাঁর রচিত কাব্যগুলো হল-মধুমালতী( এটি একটি প্রণয়কাব্য, এটি পুঁথি সাহিত্য ধারার অনুসারী নয়),আমীর হামজা(শেষাংশ), জৈগুনের পুঁথি ও হাতেম তাই। ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মোহাম্মদ দানেশ ‘চাহার দরবেশ’ নামে মিশ্র ভাষারীতিতে একটি কাব্য রচনা করেন।

 

অনুবাদ সাহিত্য :

সকল সাহিত্যের পরিপুষ্টিসাধনে অনুবাদমূলক সাহিত্যকর্মের বিশিষ্ট ভূমিকা আছে।অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্ব সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থের বক্তব্য আয়ত্তে আসে। ভাষার মান বাড়ানোর জন্য সমৃদ্ধতর নানা ভাষা থেকে বিচিত্র নতুন ভাব ও তথ্য সঞ্চয় করে নিজ নিজ ভাষার বহন ও সহন ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলাই অনুবাদ সাহিত্যের প্রাথমিক প্রবণতা। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের কবিরা অনুবাদে হাত দিয়েছিলেন।এক্ষেত্রে প্রধানত অনুবাদ হয়েছে –

(ক)সংস্কৃত সাহিত্য থেকে (খ)হিন্দি সাহিত্য থেকে (গ)আরবি-ফারসি সাহিত্য থেকে

১।পৃথিবীতে জাত মহাকাব্য আছে ৪টি। যথা – রামায়ণ, মহাভারত, ইলিয়াড ও ওডেসি। ২।খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে সংস্কৃত ভাষায় ‘রামায়ণ’ রচিত হয়েছে। রামচরিত অবলম্বনে বাল্মীকি সংস্কৃত ভাষায় প্রথম রামায়ণ রচনা করেন। ৩। ‘রামায়ণে’র প্রথম ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক (বাংলায়) হলেন পনের শতকের কৃত্তিবাস ওঝা। এটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৮০২-১৮০৩ সালে উইলিয়াম কেরির উদ্যোগে শ্রীরামপুর মিশনারীর ছাপাখানায় ৪। বাংলা অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয় মধ্যযুগে। বাল্মীকির রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করে কবি কৃত্তিবাস ওঝা মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম জয়যাত্রা শুরু করেন। ৫।রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক হলেন চন্দ্রাবতী। এই চন্দ্রাবতীই বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি। তিনি মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা। ৬। কবি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব প্রথমে সংস্কৃত ভাষায় ‘মহাভারত’ রচনা করেন। ৭। মাহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক হলেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর। চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খাঁর নির্দেশে তিনি মহাভারতের বাংলা অনুবাদ করেছিলেন বলে তাঁর অনূদিত মহাভারতের নাম ‘পরাগলী মহাভারত’। ৮। পরাগল খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ছুটি খান চট্টগ্রামের শাসনকর্তা হলে তাঁর নির্দেশে কবি শ্রীকর নন্দী মহাভারতের আরো একটি অনুবাদ করেন। ছুটি খানের অনূদিত মহাভারতের নাম ‘ছুটিখানী মহাভারত’। ৯। ছুটি খানের প্রকৃত নাম নসরত খান। ১০।মহাভারতের জনপ্রিয়,প্রাঞ্জল অনুবাদটি হল সতের শতকের কবি কাশীরাম দাসের। তাই তাঁকে মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক বলে। ১১। সংস্কৃত ভাষায় ‘ভাগবত’ লিখেন কবি ব্যাসদেব। ১২। হিন্দুধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘ভাগবত’। ১৩। মালাধর বসু হলেন ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর কাব্যের নাম ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’।

 

বাংলা সাহিত্য

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মুসলমান কবিগণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান। এই শ্রেণির কাব্য মধ্যযুগের সাহিত্যে বিশিষ্ট স্থান জুড়ে আছে।ফারসি বা হিন্দি সাহিত্যের উৎস  থেকে উপকরণ নিয়ে রচিত প্রণয় কাব্যগুলোতে প্রথমবারের মত মানবীয় বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে।মধ্যযুগের কাব্যের ইতিহাসে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর আধিপত্য ছিল,কোথাও কোথাও লৌকিক ও সামাজিক জীবনের ছায়াপাত ঘটলেও দেবদেবীর প্রাধান্যে তাতে মানবীয় অনুভূতির প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠেনি।এই শ্রেণির কাব্যে মানব-মানবীর প্রেম কাহিনি রূপায়িত হয়ে গতানুগতিক সাহিত্যের ধারায় ব্যতিক্রমের সৃষ্টি করেছে।মুসলমান কবিগণ হিন্দুধর্মাচারের পরিবেশের বাহিরে থেকে মানবিক কাব্য রচনায় অভিনবত্ব দেখান।

১। বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রণয়োপাখ্যান ‘ইউছুফ-জোলেখা’ কাব্য। ২।পনের শতকের কবি শাহ মুহম্মদ সগীর রচনা করেন ‘ইউছুফ-জোলেখা’ কাব্য।তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি। তাই বলা যায়, মুসলমান কবি রচিত প্রাচীনতম বাংলা কাব্য ‘ইউছুফ-জোলেখা’। ৩।ষোল শতকের কবি দৌলত উজির বাহরাম খান জামী রচিত ফারসি প্রেমাখ্যান ‘লায়লা ওয়া মজনুন’ অবলম্বনে রচনা করেন ‘লায়লী-মজনু’ কাব্য।এ কাহিনির মূল উৎস আরবি লোকগাঁথা। ৪। ‘গুলে বকাওলী’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন –  নওয়াজিস খান, মুহম্মদ মুকীম। ৫।’মধুমালতী’ গ্রন্থের রচয়িতা হলেন – মুহম্মদ কবীর।

 

অনুবাদ সাহিত্য (আরাকান রাজসভার বাংলা সাহিত্য) :

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিম সীমায় ও চট্টগ্রামের দক্ষিণে সমুদ্রের তীরে আরাকানের অবস্থান।আরাকানকে বাংলা সাহিত্যে ‘রোসাঙ্গ’ নামে অভিহিত করা হয়।রোসাঙ্গ রাজসভা ছিল মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের উর্বর ক্ষেত্রভূমি।এ রাজসভার রাজারা হিন্দু হলেও কবিরা ছিলেন মুসলমান।

৬।সপ্তদশ শতকে আরাকানে সমৃদ্ধ সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছিল। ৭।আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘সতীময়না-লোরচন্দ্রানী’। ৮। লৌকিক কাহিনির আদি রচয়িতা দৌলত কাজী। ৯। সতের শতকের কবি কোরেশী মাগন ঠাকুর ছিলেন আরাকান রাজসভার প্রধান উজির। তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম ‘চন্দ্রাবতী’।তিনি মুসলমান ছিলেন, ঠাকুর তাঁর উপাধি। ১০।আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি আলাওল। ১১। সতের শতকের কবি আলাওল হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্য অবলম্বনে ১৬৫১ সালে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১২। কোরেশী মাগন ঠাকুরের পৃষ্টপোষকতায় আলাওল ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন। ১৩। পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। ১৪। আলাওল মধ্যযুগের কবি। ১৫।আলাওলের আরো কয়টি  কাব্য হল –

(ক)সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল (খ)সপ্তপয়কর (গ)তোহফা (নীতিকাব্য) (ঘ)সেকান্দর নামা

 

সুপ্রিয় পাঠক

বিসিএস, ব্যাংক সহ যেকোন চাকুরি প্রস্তুতির জমপেশ আড্ডা দিতে জব স্টাডি অফিশিয়াল গ্রুপে জয়েন করতে ভুলবেন না কিন্তু!!

জবস্টাডি টুয়েন্টিফোর/আর