/

বিশ্বাস করুন, আপনি অবশ্যই সফল হবেন

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ২৪, ২০১৭

ডেভিট জে.শ্বার্টজ, পি.এইচ.ডি : সাফল্য শব্দটির বিভিন্ন গঠনমূলক, সৃষ্টিশীল ব্যাখ্যা দেওয়া যায় । সাফল্য অর্থাৎ ব্যাক্তিগত সমৃদ্ধি একটি সুন্দর বাড়ি, ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া, ঘুরে বেড়ানো, নিত্য নতুন জিনিস, আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তানদের সর্বশ্রেষ্ট সুযোগ সুবিধা দেওয়া । সাফল্য মানে মন জয় করা, নেতৃত্ব করা, কর্মক্ষে্ত্রে ও সামাজিক জীবনে সবার আদর্শ হয়ে উঠা । সাফল্য মানে স্বাধীনতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, ভয়, হতাশা ও ব্যার্থতা থেকে মুক্তি। সাফল্য মানে আত্ম-সম্মান, জীবনে অবিরাম ও সত্যিকার সুখ সন্তুষ্টি পাওয়া, যারা আপনার উপর নির্ভরশীল তাদের জন্য আরো কিছু করার ক্ষমতা অর্জন করা।

সাফল্য মানে জিত।

জীবনের লক্ষ্যই হ’ল সাফল্য কৃতিত্বে।

প্রতিটি মানুষ চাই সাফ্যল্য । সকলেই জীবনের সেরা জিনিস কামনা করে। কেউ-ই সাদামাটা জীবন চায় না,হামাগুড়ি দিয়ে চলতে চাইনা কেউ-ই । কেউ-ই দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ হতে চায় না, জোর করে তাকে ঐ শ্রেণীতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে সে মোটেই খুশী হয় না।

বাইবেলের উক্তিতে সফল হওয়ার কয়েকটি ব্যবহারিক উপায় নিহিত রয়েছে, তাতে জানানো হয়েছে যে বিশ্বাসে পাহাড়কেও টলানো যায় ।

বিশ্বাস করুন, মনে প্রাণে বিশ্বাস করুন, আপনি পাহাড়ও ঠেলে সরিয়ে দিতে পারবেন। অনেকেরই এই অদ্ভুত ক্ষমতার উপর আস্থা নেই।

আপনি হয়ত কখনও লোক মুখে এসব মন্তব্য শুনেছেন, ‘পর্বত সরে যাও’ এই কথাটুকু বলে পর্বত সরানো যায় এমন ধারনা বোকামি। এ সম্পূর্ণ অসম্ভব ব্যাপার।

যারা এভাবে চিন্তা করেন তারা কিন্তু বিশ্বাস ও অলীক কল্পনা এই কথা দুটো গুলিয়ে ফেলেছেন । আর সত্যিই তো চিন্তা করলে পর্বত টলানো যায় তা তো নয়। ইচ্ছা করলেই এক্মিকিউটিভ সুইট পাওয়া যায় না । কল্পনা করলেই পাঁচ বেডরুমের, তিনটি বাথরুমের বাড়ি বা মোটা মাইনের চাকরি পাওয়া যায় না । ইচ্ছা হলেই নেতা হয়ে উঠা যায় না।তবে বিশ্বাস থাকলে পর্বতও টলানো যায় । ‘সফল হবই’ এই বিশ্বাস থাকলে আপনি অবশ্যই সাফল্য পাবেন ।

বিশ্বাস এক অদ্ভুত, বিপুল শক্তি, এটা কোন ম্যাজিক বা অলৌকিক ব্যাপার নয় । বিশ্বাস এভাবে কাজ করে “আমি দৃঢ় নিশ্চিত-আমি পারবো” এই বিশ্বাস মনোবল বাড়ায়, কাজে দক্ষতা ও শক্তি পাওয়া যায়। আমি পারবো বিশ্বাস করতে শুরু করুন তাহলে পরে কি করা যায় অর্থাৎ পরবর্তী পদক্ষেপগুলি কি হবে তা মাথায় আসবে।

 

প্রতিদিন দেশের কত শত তরুন কাজে যোগ দেয়। এর প্রত্যেকেই মনে মনে “আশা করে” একদিন সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাবে ।তবে এদের মধ্যে বেশিরভাগ তরুনের মনে চূড়ায় পৌঁছানোর বিশ্বাসটা কিন্তু থাকে না। তাই তারা শীর্ষে পৌছাতে পারেনা। যেহেতু তারা মনে করে যে সিঁড়ি বেয়ে উঠা অসম্ভব, তাই ঐ শীর্ষে পৌছানোর সিঁড়িটই তারা খুঁজে পায় না। তারা আর পাঁচটা সাধারন মানুষের মতই সাধারন আচরন করে।

 

তবে এই তরুনদের মধ্যে অল্প কয়েকজনের মনে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে তারা অবশ্যই সফল হবে। কাজর প্রতি এদের মনোবল হলো “শীর্ষে পৌঁছাতে হবে”। এই আস্থায় তারা সত্যি শীর্ষে পৌঁছে যায়। তারা সা্ফল্যে বিশ্বাস করে বিশ্বাস করে যে, সাফল্য অসম্ভব নয়। তাই তার পদস্থ কর্মচারীদের আচরন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লক্ষ্য করে । একজন সফল  মানুষ কীভাবে সমস্যার মোকাবেল করে, সিদ্ধান্ত নেয় তা শিখে নেয় । তারা সফল মানুষের মনোবল গভীরভাবে অধ্যয়ন করে।

 

যে মনে মনে বিশ্বাস করে ‘সফল হবই’ সে কিভাবে সফল হওয়া যায় সে পথটিও খুঁজতে শুরু করে।

আমার পরিচিত একজন ভদ্র মহিলা দু’বছর আগে সিদ্ধান্ত নিলেন মোবাইল হোম অর্থ্যাৎ ভ্রাম্যমান বাড়ি বিক্রির একটা সেলস এজেন্সি শুরু করবেন। অনেকেই কিন্তু তাকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছিল। তিনি তাদের কথা শুনে কাজটা শুরু করলেন না। ঐ মহিলার কাছে সঞ্চয় ছিল ৳৩০০০ এরও কম, তাকে পরামর্শ দেওয়া হলো যে নূন্যতম অর্থলগ্নির পরিমাণ বহুলাংশে বেশী হবে।

তাকে বলা হয়, “এখন প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্ধিতা এত বেশি তাছাড়া ব্যবসা সামলানো দুরে থাক, মোবাইল হোম বিক্রির কোন অভিজ্ঞতা আছে কি?” ওর পরামর্শ দাতা প্রশ্ন করেছিল।

তা সত্বেও ঐ মহিলাটির নিজের উপর আস্থা ছিল, সাফল্যের ক্ষমতা নিহিত ছিল তার মধ্যে। উনি স্বীকার করেন যে যথেষ্ট পুঁজি তার কাছে নেই, ব্যবসা ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক ও তার অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে।

“তবে,” উনি বলেছেন, “আমি যতটা প্রমাণ সংগ্রহ করতে পেরেছি তাতে বোঝা যায় মোবাইল হোমের চাহিদা ক্রমশঃ বাড়বে। তাছাড়া আমি প্রতিযোগিতার বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে নিয়েছি। আমি জানি যে এই শহরে যে কোন লোকের চেয়ে ভালোভাবে আমি এগুলো কি করতে পারবো। হয়ত কাজ করতে গিয়ে কিছু ভুল-ত্রুটি হবে, তাহলেও আমি খুব শিগগীর শীর্ষে পৌঁছাবো।” আর সত্যিই তাই হয়েছিল।

বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে ওর বিশেষ অসুবিধা হয়নি। এই ব্যবসায় নিশ্চিত সাফল্য সম্বন্ধে ওর দৃঢ় বিশ্বাস দেখে দু’জন বিনিয়োগকারী সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন এবং দৃঢ় বিশ্বাসী ঐ মহিলা অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেন-উনি এমন একটি ট্রেলার উৎপাদকের খোঁজে পেলেন যে নগদ অর্থ ছাড়াই তাকে সীমিত মাএায় যন্ত্রপাতি দিয়ে সাহায্য করেছিল।

গত বছর ঐ মহিলা ৳১০,০০,০০০ দামের ট্রেলার বিক্রি করেন। “আগামী বছর” উনি বলেছেন, “আশাকরি ৳২০,০০,০০০  এর বেশি বিক্রি করতে পারবো।”।

বিশ্বাস, দৃঢ় বিশ্বাস কাজ করার উপায় খুঁজে বের করে, কীভাবে কাজটি করতে হবে তা জানতে সাহায্য করে। আর আপনার নিজের প্রতি আস্থা দেখে অন্যরাও আপনার প্রতি আস্থাবান হবেন।

বেশীর ভাগ মানুষের মধ্যে এই আস্থার অভাব দেখা যায় তবে কয়েকজন, অর্থাৎ ইউএস এর সাফল্যপুরীর বাসিন্দাদের মধ্যে এর অভাব নেই। মিডওয়েস্টার্ন রাজ্যে হাইওয়ে বিভাগে কর্মরত আমার এক বন্ধু কয়েক সপ্তাহ আগে আমায় ‘পর্বত টলানো’র অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন।

“গত মাসে”, আমার বন্ধু বলতে শুরু করেন, “আমাদের ডিপার্টমেন্ট বেশ কয়েকটা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীকে নোটিশ মারফৎ জানায় যে আমাদের হাইওয়ে তৈরী করার প্রোগ্রামে আমরা আটটা ব্রিজ বানাবো এবং সেজন্য কয়েকটি কোম্পানীকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ব্রিজের খরচ পড়বে ৳৫০,০০০০০। যে ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে তার ডিজাইন বাবদ ৪ শতাংশ কমিশন বা ৳২০,০০০০০ পাবে।”

“এ ব্যাপারে ২১টি ইঞ্জিনিয়ারিং সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম সবচেয়ে বড় চারটি সংগঠন তৎক্ষণাৎ সম্মতি জানিয়ে প্রস্তাব জমা করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাকি ১৭টি কোম্পানি অপেক্ষকৃত ছোট ছিল, এদের প্রত্যেকের সংগঠনে ৩ থেকে ৭ জন ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল। প্রকল্পের আয়তন দেখে এদের মধ্যে ১৬টি কোম্পানি ঘাবড়ে যায়; প্রকল্পনি ভালোমত দেখে শুনে মাথা নেড়ে বলে, “এ আমাদের পক্ষে অতিরিক্ত বড়। সত্যি যদি সামলাতে পারতাম! তবে জানি চেষ্টা করাও বৃথা।”

তবে এই ছোট সংগঠনগুলির মধ্যে একটি কোম্পানি, যাদের কাছে মাএ ৩জন ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল, পরিকল্পনা দেখে বলল, “আমরা এ কাজটি পারবো।” আমরাও প্রস্তাব পেশ করবো। এরা সত্যি তাই করেছিল, কাজটিও পেয়েছিল।

যারা বিশ্বাস করে যে পর্বত টলানো যায়, তারা সত্যি তেমনটা করে দেখাতে পারে। তবে যাদের বিশ্বাস নেই, তার ব্যর্থ হয়। এই বিশ্বাসই কাজের ক্ষমতা জাগিয়ে তোলে। সত্যি কথা বলতে আজকে আধুনিক যুগে বিশ্বাস শুধু পর্বত টলানো নয় অনেক বৃহত্তম কাজ করতে পারছে। মহাকাশে অভিযান আমাদের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ উপাদান বস্তুত আসল উপাদানই ছিল মহাকাশে মানুষের বিজয় সম্ভব- এ বিশ্বাস। মহাশূণ্যে ভ্রমন করা যায় এই অটল বিশ্বাস না থাকলে আমাদের বৈজ্ঞানিকদের মনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সাহস জেগে উঠতো না। ক্যান্সারের নিরাময় সম্ভব- এই বিশ্বাসই ক্যান্সারের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব করে তুলবে। কয়েক বছর আগে ইংলিশ চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে একটি সুরঙ্গ তৈরী করার কথা হচ্ছিল যা ইংল্যান্ডেকে বাকি মহাদেশের সাথে যুক্ত করতে পারে। এখন সেই সুরঙ্গ রয়েছে, কারণ ঐ কাজের দাযিত্ব প্রাপ্ত মানুষগুলির পরিচালনায় আস্থা ছিল।

যে কোন সেরা বই, নাটক, থিয়েটার, বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের মূল শক্তি- উৎকৃষ্ট পরিণামের উপায় আস্থা। প্রতিটি সফল ব্যবসা, চর্চা ও রাজনৈতিক সংগঠনের পিছনে রয়েছে সাফল্য বিশ্বাস। সফল মানুষের সাফল্যের মূলে যে একান্ত জরুরী উপাদান রয়েছে তা হল সাফল্যে ও বিজয়ে তাদের আস্থা।

বিশ্বাস করুন সত্যি আপনি সফল হবেন, আপনি সাফল্য পেতে বাধ্য। গত কয়েক বছর আমি এমন অনেকের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি যারা ব্যবসায় ও অন্যান্য জীবিকায় অসফল হয়েছে। ব্যর্থতার নানা কারণ, নানা অজুহাহ শুনেছি। এই সব ব্যর্থ মানুষের সাথে কথা বলে একটা জরুরী ব্যাপার লক্ষ্য করলাম। অতি সাধারন ভাবেই এই অসফল মানুষগুলি মন্তব্য করেছে, “সত্যি কথা বলতে কি, আমি আশা করিনি এটা সফল হবে অথবা শুরু করার আগেই আমার মনে দ্বিধা ছিল বলে এই ব্যর্থতাই আমি তেমন অবাক হইনি।” চেষ্টা করে দেখছি তবে সফল হব না, দৃষ্টিভঙ্গি ব্যর্থতা আনতে বাধ্য। অবিশ্বাস নিরাশার চিহ্ন। যখন মনে অবিশ্বাস বা দ্বিধা জাগে, মন সে অবিশ্বাসকে সমর্থন করার নানা কারণ খোঁজে। অধিকাংশ ব্যর্থতার মূল কারণ হল দ্বিধা, অবিশ্বাস, মনের অবচেতনে ব্যর্থ হওয়ার ইচ্ছা।

মনে দ্বিধা দ্বন্দ্ব দেখা দিলে ব্যর্থতা অনিবার্য।

জয়ের আ্শা রাখুন, নিশ্চয় সফল হবেন।

সম্প্রতি এক তরুণ গল্ককার আমাদের সঙ্গে নিজের লেখা অভিলাষ নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছিল। কথা প্রসঙ্গে এক প্রখ্যাত লেখকের বিষয়ে আলোচনা উঠে। “ও”,ইনি বলেন, “ক-বাবু অসাধারন লেখক, আমি তো কোনও দিনই ওর মত সফল হতে পারবো না।”

এর কথায় আমি হতাশ হয় কারণ এই দ্বিতীয় লেখকটিকে আমি চিনতাম। উনি অসাধারন বুদ্ধিমান বা কল্পনা সম্পন্ন মানুষ না, অসাধারন কিছুই নেই ওর মধ্যে, তবে ওর মধ্যে রয়েছে অসাধারন আত্মবিশ্বাস। ওর বিশ্বাস উনি সর্বশ্রেষ্ঠ লেখকদের মধ্যে একজন, তাই উনি কাজও করেন সেরা মানের।

পথ প্রদর্শককে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা ভালো। তার কাছ থেকে শিখুন। তবে ইষ্ট দেবতা করে তুলবেন ন্। বিশ্বাস করুন আপনি তার চেয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন। আস্থা রাখুন,আপনি আর অগ্রসর হতে পারবেন। যারা নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণী মনে করে তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর মতই কাজ করে।

দেখুন, বিশ্বাস একটা থার্মোস্ট্যাটের মত, আমরা জীবনে যে কাজগুলি করি তা নিয়ন্ত্রন করে। যে মানুষটা অতি-সাধারন জীবন যাপন করছে তাকে দেখুন। তার বিশ্বাস যে তার কোনও মূল্য নেই, তাই জীবনের কাছ থেকে যৎসামান্যই পাচ্ছে সে। তার বিশ্বাস জীবনে সে বিশেষ কিছু করতে পারবে না, তাই সে অসফল হচ্ছে। সে মনে করে যে সে গুরত্বপূর্ণ নয় তাই সে যা করে সে সব কাজই মূল্যহীন হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে, নিজের কাছে নিজে আরও ক্ষুদ্র আরও ব্যার্থ হয়ে যাবে। আর যেহেতু আমরা নিজেদের যেমন মনে করি বাকি জগতটাও তেমন ভাবেই দেখে তাই বাকিদের চোখেও আমাদের মূল্য থাকবে ন্।

আর, ক্রমশঃ অগ্রগামী এক ব্যাক্তিতে অধ্যয়ন করা যাক। এর বিশ্বাস এর গুরত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব তাই সকলেই একে গুরুত্ব দেয়। এ মনে করে বিশাল এই কঠিন দায়িত্ব পূরণ করা সম্ভব তাই এ সফল হয়। এ যা কাজ করে, মানুষের প্রতি এর আচরন, এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও চিন্তা-ভাবনা, মনোভাব সবকিছুই জানায় “ইনি একজন পেশাদার, ইনি বিশিষ্ট ব্যাক্তি।”

মানুষ নিজেরই চিন্তা ভাবানার পরিণাম স্বরূপ। বৃহতে আস্থা রাখুন। নিজের থার্মোস্ট্যাট এগিয়ে নিন। মনে প্রাণে সম্পূ্র্ণ আস্থা রাখুন আপনি সফল হবেন, এই আস্থার ভিত্তিতেই সাফল্য অর্জন করুন। বৃহত্তে আস্থা রাখুন নিজেও বড় হয়ে উঠুন। এক কারখানায় উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত দু’জন ফোরম্যান হলেন মি.বিজেতা ও মি.ব্যর্থতা। মি.বিজেতা গঠনাত্মক, আশাবাদী চিন্তা-ভাবনার উদ্ভব করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। কাজটি আপনি কেন করতে পারবেন, আপনি কেন এই কাজের যোগ্য, কেনইবা কাজটি করবেন এ সবের কারণ খুঁজে বার করায় ইনি বিশেষজ্ঞ।

অন্য ফোরম্যান মি. ব্যর্থতা তৈরি করে নিরাশাজনক,না-ধর্মী চিন্তাধারা আপনি কেন পারবেন, কেন আপনি দুর্বল ও অক্ষম এসব চিন্তা ভাবনার উদ্ভবে সুদক্ষ ইনি। আপনি কেন অসফল হবেন চিন্তাধারা এর বৈশিষ্ট্য।

মি. বিজেতা ও মি. ব্যর্থতা দু’জনেই কিন্তু খুবই বাধ্য। ক্ষনকালের মধ্যে আপনার আদেশের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠে। শুধু অপেক্ষা এদের মধ্যে যে কোন একজন ফোরম্যানকে সামান্যতম ইঙ্গিত দেওয়ার। গঠনাত্মক সংকেতে মি.বিজেতা কাজ শুরু করে দেবে। একই ভাবে অন্য সংকেতে না ধর্মী মি. ব্যর্থতা তৎপর হয়ে উঠবে।

এই দু’জন ফোরম্যান কীভাবে আপনার জন্য কর্মতৎপর তা জানার একটা উপায় বলি। নিজেকে বলুন, “আজকের দিনটা বড় বিশ্রী” তৎক্ষনাৎ মি. ব্যর্থতা সজাগ হয়ে উঠব, আপনার কথায় সততা প্রমাণ করার জন্য বেশ কিছু তথ্য উপস্থিত করবে। আজ ভারী শীত বা গরম, ব্যবসা ভালো চলবেনা, বিক্রি কম হবে, সবার মন মেজাজ খারাপ থাকবে, আপনি অসুস্থ বোধ করবেন, আপনার স্ত্রী খিটখিট করবে। মি.ব্যর্থতা খুবই কর্মপটু। মূহূর্তের  মধ্যে সে আপনাকে প্রমাণ করে দিবে যে দিনটি বাস্তবিকেই মন্দ। আপনি সচেতন হয়ে ব্যাপারটা বোঝার আগেই দিনটা খারাপ কাটবে।

অথচ নিজেকে বলুন, “দিনটি বড় সুন্দর” এবার মি.বিজেতা জেগে উঠবে। বলবে, “কি সুন্দর দিন ! আবহাওয়াটা কি দারুন, বেঁচে থাকা বড় সুখের ! আজ অনেকগুলি কাজ সারতে পারবে।” আর দিনটা সত্যি সুমধুর হয়ে উঠবে।

এভাবে মি.ব্যর্থতা যখন আপনাকে বোঝাবে যে মি.স্মিথের কাছে বিক্রি করা কত কষ্টসাধ্য ব্যাপার, মি. বিজেতা কিন্তু বলবে আপনি বিক্রি করতে পারবেন। মি. ব্যর্থতা আপনাকে বুঝিয়ে দিবে যে আপনি অবশ্যই অসফল হবেন, এদিকে মি. বিজেতা জানাবে আপনি অবশ্যই সফল হবেন। মি. ব্যর্থতা টমকে অপছন্দ করার অজস্র কারণ খুঁজে বার করবে। এদিকে মি.বিজেতা টমকে পছন্দ করার বেশ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে দিবে।

এই ফরম্যানদের যত বেশি কাজের ভার দিবেন, এরা ততই শক্তিশালী হয়ে উঠবে। যদি মি.ব্যর্থতাকে বেশি কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে সে আরও কিছু কর্মীকে কাজে নিযুক্ত করবে এবং এরা আপনার সমস্ত মন জুড়ে রাজস্ব করবে। ক্রমশঃ এই ভদ্রলোক চিন্তা উৎপাদনকারী সম্পূর্ণ বিভাগটি নিজের আয়ত্বে নিয়ে আসবে ও আপনার সব চিন্তা ভাবনা না ধর্মী হয়ে উঠবে।

মি.ব্যর্থাতাকে বরখাস্ত করাই এক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ হবে এর তো কোন প্রয়োজন নেই। এমন লোকের দরকার নেই। যে বলবে আপনি পারবেন না,প্রস্তুত না, আপনি ব্যর্থ্য হবেন ইত্যাদি। মি.ব্যর্থতা লক্ষ্যে পৌঁছাতে আপনাকে কোনই সাহায্য করবে না, তাই তাকে বাতিল করে দেন। ১০০ শতাংশ সময় মি.বিজেতাকে কাজে ব্যস্ত রাখুন। যে কোন চিন্তা মনে প্রবেশ করা মাএ মি. বিজেতাকে সক্রিয় হয়ে উঠতে বলুন। আপনি কিভাবে সফল হবেন তা এই ভদ্রলোক আপনাকে জানাবে।

এখন থেকে আগামীকাল এই সময় পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরো ১১.৫০০ নতুন গ্রাহকের প্রবেশ হবে।

 

লেখক পরিচিতি

ডেভিড জে. শ্বার্টজ, পি. এইচ. ডি

লেখক, উচ্চাঙ্ক্ষার ম্যাজিক

 

সুপ্রিয় পাঠক

বিসিএস, ব্যাংক সহ যেকোন চাকুরি প্রস্তুতির জমপেশ আড্ডা দিতে জব স্টাডি অফিশিয়াল গ্রুপে জয়েন করতে ভুলবেন না কিন্তু!!