/

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গ্রন্থ ও চলচ্চিত্র

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ২৫, ২০১৭

কবিয়াল নূর: ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গ্রন্থ ও চলচ্চিত্রসমূহ বিভিন্ন প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৩৪তম বিসিএস প্রিলিতে এসেছিল ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক- কবর। ২৮তম বিসিএসে এসেছিল ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস-আরেক ফাল্গুন। ২০তম বিসিএসে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ প্রথম সংকলনের সম্পাদক-হাসান হাফিজুর রহমান। ১৮তম বিসিএসে এসেছে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির পটভূমিতে রচিত ‘কবর’ নাটকের রচয়িতা- মুনীর চৌধুরী। দেখা যাচ্ছে কমবেশি বিসিএস প্রিলিতে এই টপিক থেকে প্রায় ৪ বার প্রশ্ন এসেছে। তাই আমি মনে করি এ অধ্যায়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আজ ‘ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গ্রন্থ ও চলচ্চিত্র’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। প্রিয় পাঠক, আপনাদের কাছে অনুরোধ লেখাটি আপনার কপি পেস্ট না করে শেয়ার করে রাখুন। কোন লেখা যখন কপি পেস্ট অন্যকোথাও প্রকাশ করা হয়, তখন আমরা লিখতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। তাই প্রিয় পাঠক আসুন আমরা কপি পেস্টের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলি।-কবিয়াল নূর, সম্পাদক, জব স্টাডি টুয়েন্টিফোর ডট কম।

 

একুশের গল্প: একুশের গল্প ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম ছোটগল্প। গল্পটির রচয়িতা জহির রায়হান।গল্পটি ‘জহির রায়হান রচনাবলী ২য় খণ্ড’ (১৯৮১ সালে প্রকাশিত) থেকে সংগৃহীত। গল্পটির প্রেক্ষাপট: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ।

 

আরেক ফাল্গুন: আরেক ফাল্গুন উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা প্রথম উপন্যাস। ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক রচিত সাহিত্যকর্ম গুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই বইটিকে। পটভূমি ভাষা আন্দোলন হলেও গল্পটা ১৯৫২ সালের না,তারও পরের।

জহির রায়হানের ’আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসের কাহিনী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। কাহিনীর স্থিতিকাল মাত্র তিন দিন দুই রাত। প্রথম দিনের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে কাহিনীর সূচনা। প্রথম দিন, রাত এবং দ্বিতীয় দিন ও রাত ধরে চলেছে একুশ পালনের বিরামহীন প্রস্তুতি। তৃতীয় দিন কাহিনীর চূড়ান্তকাল। মিছিল এবং পুলিশের সংঘর্ষের মাধ্যমে অতিক্রান্ত হয়েছে এ চূড়ান্ত কালটি। অতঃপর দিনের শেষে কারা তোরণ প্রাঙ্গণে কাহিনীর পরিসমাপ্তি। সেই জন্য কাহিনীর ব্যাপ্তিকাল সীমিত। কিছু ঘটনা ও উদ্ঘটনায় বিস্তৃত উপন্যাসের কলেবর।

 

জীবন থেকে নেয়া : জীবন থেকে নেয়া একটি বাংলা চলচ্চিত্র। জহির রায়হান এর নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭০ সালের এপ্রিল মুক্তি পায়। সামাজিক এই চলচ্চিত্রে তৎকালীন বাঙালি স্বাধীনতা আন্দোলনকে রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন রাজ্জাক, সুচন্দা, রোজী সামাদ, খান আতাউর রহমান, রওশন জামিল, আনোয়ার হোসেন, প্রমুখ। এই ছবিতে আমার সোনার বাংলা গানটি চিত্রায়িত হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এটি জহির রায়হান নির্মিত শেষ কাহিনী চিত্র।

 

কবর:  শহীদ মুনীর চৌধুরী রচিত বিখ্যাত নাটক “কবর”। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন। কারাবন্দী অবস্থায় শহীদ মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে নাটকটি রচনা করেন। ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উৎযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি নাটকটি রচনা করেন। এ নাটকটি তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক হিসেবে খ্যাত এবং এর প্রথম মঞ্চায়ন হয় জেলখানার ভেতরে, যাতে কারাবন্দীরাই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

 

কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি: কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি কবিতাটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে লিখিত প্রথম কবিতা। এই জন্য কবিতাটিকে একুশের প্রথম কবিতাও বলা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কবিতাটি রচনা করেন ভাষাসৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরী।

 

একুশে ফেব্রুয়ারি: ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ সংকলনের সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান সংকলনটি ছাপার জন্য জমি বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছিল পুঁথিপত্র প্রকাশনী।প্রচ্ছদপট এঁকেছিলেন আমিনুল ইসলাম। প্রথম প্রকাশ মার্চ ১৯৫৩। দাম ছিল দুই টাকা আট আনা।একুশে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তা নিষিদ্ধ  ঘোষণা করা হয়। ভাষা সৈনিক আহমদ রফিক লিখেছেন, … ভাষা আন্দোলন, বিশেষ করে একুশের চেতনাধৃত কবিতা, নাটক, গল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি  নিয়ে মূর্তজা বশীরের স্কেচশোভিত এ সংকলন নানা দিক বিচারে ঐতিহাসিক মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। এরপর ১৯৫৬ সালে আরেকটি  গুরুত্বপূর্ণ একুশের সংকলন প্রকাশিত হয়। এটি সম্পাদনা করেছিলেন ডি. এ. রশীদ ও মহউদ্দিন

 

আর্তনাথ : ভাষা আন্দোলনের পটুভূমিকে পেক্ষাপট করে লেখা হয়েছে আর্তনাথ। শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।

 

নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি: নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি সেলিনা হোসেনের ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস। বলতে পারেন ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জল ইতিহাসের এক অমূল্য শৈল্পিক দলিল।

 

আমরা ধারাবাহিকভাবে চাকুরি পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি তুলে ধরার চেষ্টা করবো। যদি আমাদের প্রয়াসটি ভালো লাগে তাহলে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ অন্তত লাইক/কমেন্ট করতে ভুলবেন না কিন্তু। ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে।

[বি: দ্র: লেখাটি জব স্টাডি টুয়েন্টিফোর ডট কমের কপিরাইটভুক্ত্। তাই লেখাটি ফেসবুক বা অন্যকোন ওয়েব পোর্টালে কপি পেস্ট করে প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। আসুন অনলাইনে কপি পেস্ট মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করি এবং লেখালেখিতে সৃজনশীল চিন্তা বিকাশে সাহায্য করি।]

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন প্রতিযোগীতামূলক চাকুরির বিগত সালের প্রশ্নপত্র।

 

লেখক

কবিয়াল নূর

সম্পাদক, জব স্টাডি টুয়েন্টিফোর ডট কম।