/

‘বিপিএসসি ফরম-২’ পূরণ করার নিয়মাবলি

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ২:৩০ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৬, ২০১৭

আহসানুর হক সৈকত তালুকদার : দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক তিন পর্বের ধারাবাহিক পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্বের সফলতার জন্য আপনাদের আরেকবার অভিনন্দন। আপনারা নিশ্চয়ই “রেঞ্জ অনুযায়ী ০৫ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে বিপিএসসি ফরম-২ পূরণ” করার বিষয়ে অবগত আছেন। না থাকলেও সমস্যা নাই। এখন তো জানলেন। পিএসসি ওয়েবসাইটে ফরমটি আগামী ০৫ নভেম্বর আপলোড করা হবে। ফরমটি ডাউনলোড করে যথাযথভাবে পূরণ করে পিএসসিতে হাতে হাতে জমা দিবেন। মনে রাখবেন, এটি জমা না দিলে আপনি ভাইভা দিতে পারবেন না।

 

এবার ফরমটি পূরণ করা শুরু করি, কেমন?

** তিন কপি রঙ্গিন ছবির (যেটা আগে দিয়েছেন। আরে ভাউ, নতুন ছবির কি দরকার? আপনি কি বিয়ে করার বায়োডাটা জমা দিচ্ছেন?) পিছনে নাম লিখুন ও সত্যায়িত করুন। সেখান থেকে এক কপি আঠা দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে লাগিয়ে উপরে আবার সত্যায়িত করুন। বাকি যে দুই কপি থাকলো তা জায়গামত স্ট্যাপল করুন।

** রেজিঃ নম্বর শুদ্ধভাবে ইংরেজীতে লিখুন।

 

১) এসএসসি সনদ অনুযায়ী বাংলায় আপনার নাম লিখুন।

২) এসএসসি সনদ অনুযায়ী বাংলায় আপনার জন্ম তারিখ লিখুন। যেমনঃ ২৫ মে, ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ।

৩) এসএসসি সনদ অনুযায়ী বাংলায় আপনার পিতা ও মাতার নাম লিখুন। উনারা ইন্তেকাল বা কোন ডিগ্রি অর্জন করলেও তা উল্লেখ করবেন না। একদম এসএসসি সনদ অনুযায়ী লিখবেন।

৪) বিপিএসসি ফরম-১ পূরন করার সময় যে স্থায়ী ঠিকানা দিয়েছেন সেটাই লিখুন।। আর বর্তমান ঠিকানা যা দিতে চান তাই লিখুন। আগে দেওয়া বর্তমান ঠিকানার সাথে মিল না থাকলেও চলবে।

৫) সিভিল সার্জনের নিকট থেকে উচ্চতা ও ওজন এর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে সে অনুযায়ী লিখুন।

৬) নাগরিকত্বঃ জন্মসূত্রে বাংলাদেশী।

৭) হ্যাঁ/না লিখুন।

৮) (ক) হ্যাঁ/না লিখুন। (খ) তে প্রযোজ্য হলে লিখুন। না হলে ‘প্রযোজ্য নহে’ লিখুন।

৯) হ্যাঁ/না লিখুন।

১০) হ্যাঁ/না লিখুন।

১১) বিপিএসসি ফরম-১ এ যে কেন্দ্র উল্লেখ করেছেন সেটা লিখুন।

১২) পূর্বে উল্লেখ না করে থাকলে “প্রযোজ্য নহে” লিখুন। যদি উল্লেখ করেন, তাহলে সংস্থা, পদের নাম ও বেতন স্কেল লিখুন। চাকরি সরকারী বা বেসরকারী হোক, CC (ছাড়পত্র) লাগবে।

১৩) চাকরি করলে বসের নিকট শুনে নিন আপনার বেতন কোন খাত (রাজস্ব/উন্নয়ন) থেকে হয়? সে অনুযায়ী হ্যাঁ/না লিখুন।

১৪) যদি নিয়োজিত থাকেন তাহলে তথ্য দিন। না হলে “প্রযোজ্য নহে” লিখুন।

১৫) প্রথম কলামঃ আপনার অর্জিত ডিগ্রীর নাম লিখুন। যেমন: এসএসসি> এইচএসসি >…।
দ্বিতীয় কলামঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম লিখুন। দশমিনা স্কুল, বরিশাল বোর্ড। রংপুর কলেজ, রংপুর বোর্ড। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এভাবে লিখুন।
তৃতীয় কলামঃ জিপিএ সিস্টেমে হলে জিপিএ লিখুন। বিভাগ সিস্টেমে হলে বিভাগ লিখুন (মনে রাখবেন এসএসসি, এইচএসসিতে প্রথম বিভাগ বললেও অনার্স, মাস্টার্সে কিন্তু প্রথম শ্রেনী বলা হয়)। অনার্স মাস্টার্সের ক্ষেত্রে সেশনজটের কারণে এক সালের পরীক্ষা অন্য সালে অনুষ্ঠিত হয়। তাই লিখুন এভাবে…পরীক্ষাঃ ২০০৭, অনুষ্ঠিতঃ ২০০৮।
চতুর্থ কলামঃ বিভাগ/শ্রেনী পদ্ধতিতে রেজাল্ট হলে আপনার মার্কসীট দেখে % লিখুন। আর যারা জিপিএ সিস্টেমে তারা এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ কে ১৬ গুন করে % লিখুন। এইচএসসিতেও তাই করুন। অনার্স এবং মাস্টার্সে প্রাপ্ত জিপিএ কে ২০ দিয়ে গুন করে যার যার ঘরে লিখুন।
পঞ্চম কলামঃ এসএসসি এবং এইচএসসি এর ঘর ফাকা থাকবে। যে বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন তা যার যার ঘরে লিখুন। যেমনঃ দর্শন।

১৬) দ্বিতীয় কলামঃ বিপিএসসি ফরম-১ এ যে চয়েজ দিয়েছেন তার অনুরুপ চয়েজ গুলো পর্যায়ক্রমে লিখুন। যেমনঃ বিসিএস (প্রশাসন)।
তৃতীয় কলামঃ আপনি যদি প্রফেশনাল কোন ক্যাডার দিয়ে থাকেন তাহলে শুধু সেই ক্যাডারের জন্য যে পদ বর্ণিত আছে এই ঘরে সেই পদের নাম লিখতে হবে। যেমনঃ বিসিএস (শিক্ষা) চয়েজ দিলে এই ঘরে ‘প্রভাষক’ লিখতে হবে। জেনারেল ক্যাডারদের জন্য কিছু লেখা লাগবে না, না, না।
চতুর্থ কলামঃ ক্যাডার কোড লিখুন। যেমনঃ বিসিএস (প্রশাসন) এর ক্যাডার কোড ১১০। একইভাবে ষষ্ট, সপ্তম ও অষ্টম কলাম পূরণ করুন (যদি লাগে)।

১৭) আপনার যদি টেকনিক্যাল কোন ক্যাডার দেয়ার থাকে তাহলে এ ঘরের প্রথম কলামে আপনার পঠিত বিষয়ের নাম এবং দ্বিতীয় কলামে ঐ বিষয়ের কোড লিখতে হবে। যেমনঃ দর্শন-২১১। (আপনার এডমিট কার্ড লক্ষ্য করুন)।

১৮) প্রার্থীর স্বাক্ষর (এডমিট কার্ডে যেভাবে আছে) দিন। তারিখ লিখুন।
** প্রার্থীর দায়িত্বে পূরণীয় যে ছয়টি ঠিকানা লেখার কথা বলা হয়েছে তা লিখুন। তবে তা যেন ক্রমিক ৪ এর বর্তমান ঠিকানার অনুরুপ হয়।

 

কাগজপত্র ও জমাদান

১) পূরণকৃত ফরম

২) এসএসসিতে থেকে শুরু করে সর্বশেষ ডিগ্রী পর্যন্ত সার্টিফিকেটসমূহের সত্যায়িত কপি। সার্টিফিকেট না থাকলে মার্কশীটসমূহের সত্যায়িত কপি।

৩) সার্টিফিকেট, মার্কশীট বা টেস্টিমোনিয়ালে চার বছর ডিগ্রির কথা উল্লেখ না থাকলে সেটার প্রত্যয়নপত্রের সত্যায়িত কপি।

৪) ইকুইভ্যালেন্স সনদপত্রের সত্যায়িত কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

৫) উচ্চতা ও ওজন বিষয়ে সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের সত্যায়িত কপি।

৬) ছাড়পত্র। চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে ইস্তফাপত্র, অপসারণ হলে অপসারণ আদেশের সত্যায়িত কপি দিতে হবে।

৭) Appeared সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

৮) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী বা মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের সনদপত্রের সত্যায়িত কপি।

৯) স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে থাকলে পরিবর্তিত ঠিকানার সপক্ষে প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি।

১০) অনলাইনে বিপিএসসি ফরম-৩ পূরণ করার পর প্রিন্ট করে এর দুই কপি।

১১) Applicant’s Copy এর সত্যায়িত কপি।

 

** প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনেকের আরো কিছু কাগজপত্র দেওয়া লাগতে পারে। ভালো করে নির্দেশনা পড়ুন।

** সবগুলো কাগজপত্রে নিজের রেজিঃ নম্বর লিখুন। তারপর স্ট্যাপল করে A4 সাইজের খামে ভরে খামের মুখখোলা অবস্থায় রেঞ্জ অনুযায়ী ০৫ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ০৪টা পর্যন্ত পিএসসিতে জমা দিন।

আরও কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করুন। সাধ্যমত চেষ্টা করব।

 

লেখক

আহসানুর হক সৈকত তালুকদার 
৩৬ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)

সিনিয়র অফিসার, বিকেবি

 

সুপ্রিয় পাঠক

বিসিএস, ব্যাংক সহ যেকোন চাকুরি প্রস্তুতির জমপেশ আড্ডা দিতে জব স্টাডি অফিশিয়াল গ্রুপে জয়েন করতে ভুলবেন না কিন্তু!!