/

৭টি পরামর্শ যা আপনার চারিত্রিক সততাকে শক্তিশালী করবে

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ১২:২৪ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৭, ২০১৭

রাজিব রাজ: উচ্চ কর্মক্ষেত্রে পৌছতে আপনার সাধুতা বা সততা ই বিশ্বাস যোগ্যতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্যবস্থাপক জুয়েল সি পিটার্সনের মতে, একজন কোম্পানি কর্মকর্তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় কোন গুণটিকে আপনারা একজন কর্মকর্তা নিয়োগের মূল্যায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার করেন?

‘সততা বা সাধুতা ‘ই তাদের প্রথম উত্তর।

পিটার্সন বলেন, ব্যবসায়ীক সফলতার এক ও সর্বাধিক গুরুত্ববহ উপাদান’ই হচ্ছে বিশ্বাস আর বিশ্বাস শুরু হয় সাধুতা বা সততা দিয়ে। সাধুতা বা সততার সংজ্ঞায় সি.এস. লিউইসের বিখ্যাত উক্তিটি হচ্ছে___ “সদা সঠিক কাজটি করে যান, এমনকি যখন কেউই আপনার দিকে নজর রাখছেনা তখনো” ।

এন্ডার্সন, “ইউনিভার্সিটি অফ উতাহ” এর একজন উদ্যোক্তা ও প্রভাষক যিনি বিশ্বাস করেন, “কখনো কখনো হেরে যাওয়া অনেক ভাল তবুও সাধুতা বা সততাকে হারিও না” এন্ডার্সন তার দর্শনশাস্ত্রে আরো জোর দিয়ে বলেন__ “যেটা সঠিক সেটাই করো, সেটাকেই অনুসরণ করো, পরিণতি যাই হোক, পরিণতির দিকে নজর দিও না” ব্যক্তি জীবন ও পেশা জীবনে সততা বা ন্যায়পরায়ণতা না থাকলে এটা সার্বিক জীবনকেই বিষিয়ে তোলে। নিচে তেমনই ৭ পরামর্শের কথা তুলে ধরা হল যা আপনার সততা বা সাধুতাকে আরো জোরদার করবে-

 

১। আপনার দেয়া অঙ্গীকারগুলো পূরণ করুনঃ

আপনার স্টাফ থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী, সহকর্মী, প্রতিবেশী সবার সাথে করা অঙ্গীকারগুলো পূরণ করার চেষ্টা করুন। যদি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন আপনাকে অবশ্যই ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে। কখনোই এটাকে আপনার ব্যাবহারের ধরণ বানাবেন না।

 

২। দ্বিধান্বিত হওয়া থেকে বিরত থাকুনঃ

শতভাগ সফল হতে পারেন কি পারেন না, নিয়ে একমনে দ্বিধাগ্রস্ততা থেকে নিজেকে বের করে আনুন। কাজ করুন শতভাগ সফল করার আত্মপ্রত্যয় নিয়ে।

 

৩। “না” বলা শিখুনঃ

কি পারেন আর কি পারেন না, এমন প্রশ্নে শুধুই “হ্যা” বলা মারাত্মক। কেহই সবকিছুতে পারদর্শী বা মোটামুটি পারদর্শীও না। সেসব ক্ষেত্রে সরাসিরি “না” বলা শিখুন।

 

৪। ব্যস্ততম পরিস্থিতিতে নিজের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করুন

কোন অনুষ্ঠানে যোগদান অথবা কোন প্রকল্প সম্পূর্ণ করার ব্যস্ততম সময়ে প্রতিজ্ঞাসমূহ মাথায় রাখুন। আত্মসচেতনতা ও নিজের উপর আত্মপ্রত্যয়ে স্বনির্ভর হোন।

 

৫। যোগাযোগের দক্ষতা বাড়িয়ে তুলুন

মৌখিক কথাবার্তা, সরাসরি কিংবা ফোন কলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মার্জিত বচন ব্যবহার করুন। আপনার যোগাযোগের বাচন ভঙ্গিমাই আপনার কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে অন্যকে ধারণা দিয়ে থাকে।

 

৬। সাধুতা বা সততা বৃদ্ধিতে অভ্যাস ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নে নজর দিন

ধর্মীয়, জাতিগত ও লিঙ্গভেদে যাবতীয় বিষয়াদিতে ব্যক্তিগত পক্ষপাতিতা বা ব্যক্তি ইচ্ছাকে পরিহার করুন। এসবক্ষেত্রে নিরপেক্ষ আচরণ ও সুষ্ঠুভাষা বাঞ্চনীয়। ভিন্ন গোষ্ঠি তথা ভিন্ন বর্ণের মানুষের মৌলিক আচার আচরণের উপর নিজস্ব ব্যক্তিগত আচরণ চাপিয়ে দেয়া কাম্য নয় । পাশাপাশি  ভিন্ন ভাষাভাষীদের কাছে সহজে যোগাযোগ করা যায় এমন নিরপেক্ষ আচরণ ও ভাষা ব্যবহার করুন।

 

৭। ন্যায়পরায়ণতা বা সততার অভাব এমন মানুষ পরিহার করুন

এমন কারো সাথে ব্যক্তিগত বা ব্যাবসায়ীক যে কোন কিছুতে জড়ানো থেকে বিরত থাকুন যাদের মাঝে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার অভাব আছে। এন্ডার্সন এক ব্লগ পোষ্টে লেখেন “এমন কারো সাথে সংযুক্ত হওয়া বা তাদেরকে ছাড় দেয়া মানে তাদের মাধ্যমে নিজেকে বা নিজের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে অন্যদের কাছে  ভুল ধারণা পৌছে দেয়া। কারণ আপনি কেমন তা বিচার করা হয় আপনি যাদের সাথে মিশছেন সেই বন্ধুবান্ধবরা কেমন। তাই সদা সৎ ও ন্যায়পরায়ন ব্যক্তিদের সাথে চলুন।

সাকেসেস ডট কম অবলম্বনে লেখাটি লেখেছেন রাজিব রাজ। 

 

সুপ্রিয় পাঠক

বিসিএস, ব্যাংক সহ যেকোন চাকুরি প্রস্তুতির জমপেশ আড্ডা দিতে জব স্টাডি অফিশিয়াল গ্রুপে জয়েন করতে ভুলবেন না কিন্তু!!