/

বিসিএস প্রিলি. পরীক্ষা আসলেই কী খুব সহজ লক্ষ্য?

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ১:৩১ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ৩১, ২০১৭

কাওছার হোসেন : অনেক সাবজেক্ট রয়েছে যে সাবজেক্টগুলোর গ্রাজুয়েটরা প্রিলিমিনারী পরীক্ষা পাশ করলেই ধরে নেয়া হয় যে, তারা ৮০% ক্যাডার হয়েই গেছেন। যেমনঃ কৃষি, মৎস্য, ভেটেরিনারী সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষা ক্যাডারের কিছু সাবজেক্ট (গণিত, ব্যবস্থাপনা, ইসলামের ইতিহাস, বাংলা, উদ্ভিদ বিজ্ঞান) প্রভৃতি। আমাদের পরশ্রীকাতর সমাজের কিছু মানুষ (সবাই নয়) অনেক সময় তাদের অর্জনকে ছোট করে দেখেন। অনেকেই বলে দেন যে, তারা পরীক্ষা না দিলেও ক্যাডার হত। পরশ্রীকাতর মানুষগুলোর মতে, কৃষি, মৎস্য, ভেটেরিনারী সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষা ক্যাডারের কিছু সাবজেক্ট (গণিত, ব্যবস্থাপনা, ইসলামের ইতিহাস, বাংলা, উদ্ভিদ বিজ্ঞান) প্রভৃতি বিষয়ের কেবলমাত্র ততজন শিক্ষার্থীই প্রিলি পরীক্ষা দেন, আর সবাই খুব সহজেই রিটেন, ভাইভা পাশ করে নামকা ওয়াস্তে ক্যাডার হয়ে যান। প্রসঙ্গত, উল্লেখিত বিষয়সমূহে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে কম হলেও একেবারই প্রতিযোগিতা নাই, এভাবে ভাবাটা বোধায় অসমীচীন।


সেসব আলোচনা বাদ। ৩৮ তম প্রিলিমিনারী পরীক্ষার প্রসঙ্গে ফিরছি। প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ (৩৫০,০০০) চাকুরী প্রত্যাশী এ পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। অত্যন্ত নিষ্ঠুর বাস্তবতা এই যে, প্রায় ৩৪০,০০০ (শতকরা ৯৭ ভাগ) চাকুরী প্রত্যাশীরই এ গোল্লা ভরাট পরীক্ষায় স্বপ্নভঙ্গ হবে। Point to be noted dear preliminary participants. মাত্র ৩ ভাগ চাকুরী প্রত্যাশী যে পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেল, তাদেরকে আপনি অযোগ্য কেন বলবেন? আচ্ছা বলেন, কোন সমস্যা নাই। তবে, তার পূর্বে আপনাকে এই ৩ শতাংশের মধ্যে আসতে হবে। আপনারা যদি ঐ ৩ শতাংশের মধ্যে প্রবেশ করে অন্যের যোগ্যতার দিকে আঙ্গুল তুলবেন- এতে কারও আপত্তি থাকবার কথা না।

                    .
বাংলাদেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবছর কতজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয় তার একটা ছোট পরিসংখ্যান দেই। বুয়েট, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, মেডিকেল কলেজসমূহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩০০০০ জন গ্রাজুয়েট বের হয়। এছাড়াও রয়েছে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মত উদীয়মান বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ। এক কথায় বলতে গেলে শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থকেই প্রতিবছর বের হয় প্রায় ৪০০০০ এর মত গ্রাজুয়েট। ক্যাডার হওয়ার দৌড়ে বড় একটা অবস্থান ধরে রাখা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাতো বলাই হয়নি।


.
ছোট করে আর একটা পরিসংখ্যান দেই। প্রতিবছর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে শুধু মাত্র কৃষির গ্রাজুয়েট বের হয় প্রায় ১৪০০ জন। অথচ ৩৬ তম বিসিএসে ৩৯৭ টা পদ থাকলেও পিএসসি সে পদগুলো পূরণ করতে পারেনি পিএসসি। এ দৌড়ে পরাজিত হওয়া বাকী ১০০০ জন কৃষির গ্রাজুয়েটকে তাদের অযোগ্যতার কারণে পিএসসি ক্যাডার হবার ক্রেডিট দেয় নি। আর একটা বিষয় না বললেই নয়, এত এত সাবজেক্টের গ্রাজুয়েটদের ভিড়ে ৩৬ তম তে ভাইভা পাশ করা মাত্র ৫৬০০ জন চাকুরী প্রত্যাশীদের মধ্যে কৃষির গ্রাজুয়েট প্রায় ৩৪০ জন (কিছু সংখ্যক জেনারেল ক্যাডার পেয়েছেন), যা মোট ভাইভা পাশ করা চাকুরী প্রত্যাশীদের প্রায় ৬ শতাংশ। এটা কি খুব ছোট সংখ্যা? প্রশ্ন রেখে গেলাম !!!


কষ্ট করে আজাইরা কথা পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এতগুলো কথা বলার উদ্দেশ্য দুটো।
এক, কারও অর্জনকেই ছোট মনে হবে না তখন যখন আমরা ভাবব অর্জনের পুরো প্রক্রিয়াটা নিয়ে।


দুই, লক্ষ্য সহজ ভেবে অবহেলা করা অনুচিত। এটাতো ঠিক, সেরা ৩ শতাংশের মধ্যে ঢুকতে হলে অবশ্যই সেরা ৩ শতাংশের যোগ্যতা অর্জন করতে হয় আর পেছনে ফেলতে হবে ৯৭ শতাংশ মানুষকে, হোক সেটা গোল্লা ভরাট পরীক্ষা।

লেখক 

কাওছার হোসেন

সুপ্রিয় পাঠক

বিসিএস, ব্যাংক সহ যেকোন চাকুরি প্রস্তুতির জমপেশ আড্ডা দিতে জব স্টাডি অফিশিয়াল গ্রুপে জয়েন করতে ভুলবেন না কিন্তু!!