/

বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ২:২৭ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২৭, ২০১৭

বিসিএস ভাইভাসহ যেকোন চাকুরির জন্য বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে তাই বিস্তারিত ধারণা রাখা উচিত। বিসিএস ভাইভা প্রস্তুতির ধারাবাহিক পর্বে আজ আলোচনা করা হলো ‘বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার’ নিয়ে। জব স্টাডি টুয়েন্টিফোরের সঙ্গেই থাকুন।

 

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার

স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলার ঘাঘোর ও মধুমতি বিধৌত টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত ৮ টায় এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম ছিল খোকা। তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ আদালতে সেরেস্তাদারের চাকরি করতেন। মাতার নাম সায়েরা খাতুন। বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৩২/১৯৩৩ সালে ১২/১৩ বছর বয়সে শেখ ফজিলাতুন্নেছার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছার ডাক নাম ছিল রেনু। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আপন ছয় ভাইবোনদের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর বড় বোন ফাতেমা বেগম, মেজো বোন আছিয়া বেগম, সেজবোন আমেনা বেগম, ছোট ভাই শেখ আবু নাসের ও ছোট বোন খোদেজা বেগম। ছোটবেলায় বঙ্গবন্ধু টুঙ্গিপাড়ায় এঁদের সাথেই থাকতেন।

[ চাকুরি প্রস্তুতির জন্য জয়েন করুন : Job Study : Build up your smart career ] 

 

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা জীবন

১৯২৭ সালে ৭ বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। নয় বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। পরে তিনি স্থানীয় মিশনারী স্কুলে ভর্তি হন।

১৯৩৪ সালে ১৪ বছর বয়সে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হলে তার একটি চোখ কলকাতায় অপারেশন করা হয় এবং চক্ষুরোগের কারণে তার লেখাপড়ার সাময়িক বিরতি ঘটে। ১৯৩৬ সালে বঙ্গবন্ধু কিছু সময়ের জন্য মাদারীপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি  হন। পরে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে আবার ভর্তি হন। ১৯৩৯ সালে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় মিশনারী স্কুলে পড়ার সময়।

১৯৪০ সালে শেখ মুজিব নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন এবং এক বছরের জন্য বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তাকে গোপালগঞ্জ মুসলিম ডিফেন্স কমিটির সেক্রেটারি নিযুক্ত করা হয়।

১৯৪২ সালে তিনি সাফল্যের সাথে এন্ট্রেন্স (এসএসসি) পাস করেন। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে মানবিক বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট ক্লাশে ভর্তি হন এবং বেকার হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা হয়। বঙ্গবন্ধু এই বছরেই পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৪৩ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৪৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ইসলামিয়া কলেজ ছা্ত্র সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।

১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। এ বছরের শেষ ‍দিকে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।

১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং ৪ জানুয়ারি মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন আইন পরিষদে ‘পূর্বপাকিস্তান এর জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবে’ বলে ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বঙ্গবন্ধু এর প্রতিবাদ জানান।

খাজা নাজিমউদ্দিনের বক্তব্যে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শেখ মুজিব মুসলিম লীগের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কর্মতৎপরতা শুরু করেন। এ বছরের ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের সাথে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় সর্ব প্রথম রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার হন।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী সম্পর্কে তথ্য

বঙ্গবন্ধু যখন ১৯৬৩ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন তখন তিনি তার আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন। ২০১২ সালের ১৮ জুন অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয়। এর ইংরেজী অনুবাদ The Unfinished Memories- এর অনুবাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক ড. ফখরুল অালম।

অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ যারা করেনঃ

#জাপানি ভাষা – অনুবাদক কাজুহিরো ওয়াতানাবে।  ২ আগস্ট ২০১৫ জাপানি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচিত হয়।

#চীনা ভাষা – অনুবাদক চাই সি; ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি গণভবনে বইটির মোড়ক উন্মোচিত হয়।

#আরবি ভাষা – অনুবাদক ফিলিস্তিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ; ২০১৬ সালে আরবি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

#ফরাসি ভাষা – অনুবাদক প্রফেসর ফ্রান্স ভট্টাচারিয়া; ২৬ মার্চ ২০১৭ ফরাসি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচিত হয়।

#হিন্দি ভাষা – অনুবাদক ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; ৮ এপ্রিল ২০১৭ হিন্দি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচিত হয়।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে জাতির পিতা বলার কারণ

জাতির জনক তাকেই বলা হয়, যে একটি স্বাধীন বা পরাধীন জাতিকে সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সঠিকভাবে পরিচালনা করে বিশ্বের দরবারে সেই জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর কাজ করে। পৃথিবীর বুকে বাঙালি জাতির উদ্ভবে যার ভূমিকা সর্বসাকুল্য স্মরণীয় তিনি আর কেউ নন শেখ মুজিবর রহমান। পিতা যেমন সন্তানকে আগলে রাখে তেমনি তিনি তার দীপ্ত মেধা দিয়ে আগলে রেখেছিলেন বাঙালি জাতিকে। দিয়েছিলেন মুক্তির ডাক। গড়েছেন সোনার বাংলা নামক একটি প্রান্তর, আর মায়ায় ভরা মানুষের জাতি বাঙালি জাতি। আর তাই তাকে বাঙালি জাতির পিতা বলা হয়।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষাণাটি:

ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।

‘This may be my last mesasge, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of cocupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved. Sheikh Mujibur Rahman.’

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু যে কারাগারে ছিলেন:  মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের করাচির মিয়াওয়ালি কারাগারে তিনি বন্দী ছিলেন।

 

বঙ্গবন্ধুকে যেখানে কবর দেয়া হয় : গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায়। কিন্তু পরিবারের অন্যান্য সবাইকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

 

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর পরিবারবর্গের শাহাদাত বরনকারীগণ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের । ওই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও বেগম ফজিলতুন্নেছা মুজিব ছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনসহ নিহত হন আরও ২৬ জন। এদের মধ্যে যারা রয়েছেন:

শেখ কামাল, বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ৫ই আগস্ট, ১৯৪৯ সাল।

শেখ জামাল, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় ছেলে
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ২৮ এপ্রিল, ১৯৫৪ সাল।

শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র
জন্ম: ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ১৯৬৪ সাল।

শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, সেপ্টেম্বর, ১৯২৮ সাল।

সুলতানা কামাল খুকু, শেখ কামালের স্ত্রী
জন্ম: ঢাকা, ১৯৫১ সাল।

পারভীন জামাল রোজী, শেখ জামালের স্ত্রী
জন্ম: সিলেট, ১৯৫৬ সাল।

আবদুর রব সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর সেজ বোনের স্বামী
জন্ম: বরিশাল, ১৪ই চৈত্র ১৩২৭ বাংলা।

শেখ ফজলুল হক মনি, বঙ্গবন্ধুর মেজো বোনের বড় ছেলে
জন্ম: টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ ৪ঠা ডিসেম্বর, ১৯৩৯ সাল

বেগম আরজু মনি, শেখ ফজলুল হক মনির স্ত্রী
জন্ম: বরিশাল, ১৫ মার্চ ১৯৪৭ সাল।

বেবী সেরনিয়াবাত, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট মেয়ে
জন্মঃ বরিশাল, ২০ মে ১৯৬০ সাল।

আরিফ সেরনিয়াবাত, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের কনিষ্ঠ পুত্র
জন্মঃ ২৭ মাচর্, ১৯৬৪ সাল।

সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতি
জন্ম: গৌরনদী, বরিশাল, ২২ জুন ১৯৭১ সাল।

শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে
জন্মঃ বরিশাল, ২৬ মার্চ ১৯৪০ সাল।

আবদুল নঈম খান রিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমুর খালাতো ভাই
জন্মঃ বরিশাল, ১ ডিসেম্বর ১৯৫৭ সাল।

[ চাকুরি প্রস্তুতির জন্য জয়েন করুন : Job Study : Build up your smart career ] 

 

১৫ আগষ্টে মুজিব হত্যাকারীদের নাম

১৯৭৬ সালের ৮ জুন ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার দায়ে অভিযুক্ত হত্যাকারী গোষ্ঠীর ১২ জনকে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়েছিল

১. লে. কর্নেল শরিফুল হককে (ডালিম) চীনে প্রথম সচিব,
২. লে. কর্নেল আজিজ পাশাকে আর্জেন্টিনায় প্রথম সচিব,
৩. মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব,
৪. মেজর বজলুল হুদাকে পাকিস্তানে দ্বিতীয় সচিব,
৫. মেজর শাহরিয়ার রশিদকে ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় সচিব,
৬. মেজর রাশেদ চৌধুরীকে সৌদি আরবে দ্বিতীয় সচিব,
৭. মেজর নূর চৌধুরীকে ইরানে দ্বিতীয় সচিব,
৮. মেজর শরিফুল হোসেনকে কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব,
৯. কর্নেল কিসমত হাশেমকে আবুধাবিতে তৃতীয় সচিব,
১০. লে. খায়রুজ্জামানকে মিসরে তৃতীয় সচিব,
১১. লে. নাজমুল হোসেনকে কানাডায় তৃতীয় সচিব,
১২. লে. আবদুল মাজেদকে সেনেগালে তৃতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

আজ এ পর্যন্তই ধন্যবাদ সবাইকে।

 

জব স্টাডিটুয়েন্টিফোর/আরআ

[ চাকুরি প্রস্তুতির জন্য জয়েন করুন : Job Study : Build up your smart career ]