/

অর্থনীতির প্রারম্ভিক কথা-বার্তা (বিসিএস প্রিলি ও ভাইভার জন্য)

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ১২:২২ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ২০, ২০১৭

১। ‘Economics’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Oikonomia’ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ‘গৃহস্থালী পরিচালনা’।এল রবিন্স প্রদত্ত সঙ্গাঃ তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি মানুষের অভার ও বিকল্প ব্যবহারযাগ্য সীমিত সম্পদের সম্পর্ক বিষয়ক মানব আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।

২। অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ। আধুনিক অর্থনীতির জনক পল স্যামুয়েলসন। অর্থনীতিকে সর্বপ্রথম দুই ভাগে (ব্যাষ্টিক ও সামষ্টিক) ভাগ করেছেন র‍্যাগনার ফ্রেশ।

৩। বিশ্বের চার ধরণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ১. পুঁজিবাজার, ২. সমাজতান্ত্রিক, ৩. মিশ্র, এবং ৪. ইসলামী। আধুনিক অর্থনীতিকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধরণ হলো মিশ্র অর্থনীতি।বাংলাদেশে অর্থবছর – ১ জুলাই থেকে ৩০ শে জুন। মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হলো সম্পত্তির ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা থাকে। বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু হয় ১৯৯১ সালের ১ জুলাই। বিশ্বব্যাংকের ঘোষণা মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৬০২ মার্কিন ডলার (অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭)।

৪। অর্থনীতিতে বাজার বলতে বোঝায়-দ্রব্য, দাম এবং ক্রেতা-বিক্রেতা যেখানে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ভোক্তার সর্বোত্তম বাজার প্রতিযোগিতামূলক বাজার। অর্থনীতিকে কল্যাণে বিজ্ঞান বলে আখ্যায়িত করেছেন-মার্শাল। এডাম স্মীথ, ‘The Wealth of Nations’ গ্রন্থের লেখক। অ্যাডাম স্মীথ কর্তৃক ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে রচিত গ্রন্থ ‘An Enquary into the Nature and Causes of the Wealth of Nations’ নামক গ্রস্থে অর্থনীতিকে সম্পদের বিজ্ঞান আখ্যায়িত করে বলেন, ‘Economics is prince of wealth’।

৪। নব্য বুনিয়াদী অর্থনীতিঃ ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কিছু তত্ত্বের সমষ্টি হিসেবে ‘নব্য বুনিয়াদী অর্থনীতি’ বা ‘প্রান্তিক অর্থনীতি’ গড়ে উঠে। পুঁজি অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক হল সরকার।
.
৫। জাতীয় কর দিবস পালিত হয় ১৫ই সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশে বিক্রয় করের বিকল্প হিসেবে ধার্য করা হয় ‘মূল্য সংযোজন কর’। মূল্য সংযোজন কর বাংলাদেশে চালু করা হয় ১লা জুলাই, ১৯৯১ সালে।

#উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রেক্ষিত ও পঞ্চবার্ষিকী
# উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোঃ
১। বাংলাদেশে উন্নয়ন পরিকল্পনার ০৪ (চার) ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কাজ করে। যথা- ক. পরিকল্পনা কমিশন, খ. জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ, গ. জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি, ঘ. মন্ত্রণালয়/বিভাগের পরিচালনা উইং।

#পরিকল্পনা কমিশন (Planning Commission): বাংলাদেশে পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান ‘প্রধানমন্ত্রী’। পরিকল্পনা কমিশন অবস্থিত ‘শেরে বাংলানগরে’। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন গঠিত হয় ১৯৭২ সালে। সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে উপর্যুক্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ তথা উন্নততর জীবনযাত্রা নিশ্চিত করণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

#জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (National Economic Council-NEC): এ পরিষদ কর্তৃক প্রণীত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী সাধারণত বিভিন্ন সদস্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের নিজ নিজ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করে। মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্য এ পরিষদের সদস্য থাকেন। প্রধানমন্ত্রী তথা সরকার প্রধান পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন।

#জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (The Executive Committee of the National Economic Council –ECNEC): জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদনির্বাহী কমিটি (ECNEC) ১৯৮২ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি গঠন কাঠামো ও কার্যাবলি নিরূপণ করা হয়। এই প্রস্তাবের ফলে এ সম্পর্কিত পূর্ববতী সকল আদেশ বাতিল হয়ে যায়। ১৯৮২ সালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠিত হয়।

#মন্ত্রণালয়/বিভাগের পরিচালনা উইং: উইং এর কার্যক্রম হলো- প্রকল্প প্রকিয়াকরণ, প্রকল্পের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ণ ও রিভিউ, বিভিন্ন সমীক্ষা গ্রহণ, বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রণয়ন, দাতা দেশ/সংস্থার সাথে যোগাযোগ রক্ষা।
#উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রেক্ষিত ও পঞ্চবার্ষিকী
১। বাংলাদেশে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ‘বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন’। বাংলাদেশে এ যাবত মোট ১০ টি উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তন্মধ্যে ৭ টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, ২ টি দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র এবং ১ টি দ্বি-বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।

২। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট যোসেফ স্ট্যালিন সর্বপ্রথম (১৯২১ সালে) উন্নয়নের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন বলে তিনিই ‘পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার’ প্রবর্তকের স্থান দখল করেছেন।

৩। বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসমূহ-

প্রথম পঞ্চবির্ষিকী পরিকল্পনা (১লা জুলাই, ১৯৭৩ – ৩০ জুন, ১৯৭৮)
দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৮০-১৯৮৫)
তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৮৫-১৯৯০)
চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৯০-১৯৯৫)
পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৯৭-২০০২)
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫)
সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০): সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রতিপাদ্যঃ প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ: প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষমতায়ন। ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা – প্রায় ৩২ লাখ কোটি টাকা। বেশী প্রাধান্য পাবে-স্বাস্থ্য খাত। #সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিক্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ উন্নীতকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুত জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চচিকরণ এবং বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ। তিনটি ধাপে এ সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরিকল্পন বাস্তবায়ন শুরুর প্রথম ধাপ জুলাই ২০১৫ শেষ পর্যন্ত. দ্বিতীয় ধাপ ২০১৬-২০১৮ পর্যন্ত এবং শেষ বা চূড়ান্ত ধাপ ২০১৮- ২০২১ সাল পর্যন্ত।

#সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রধান প্রধান পরিকল্পনাসমূহঃ
১. প্রাথমিক শিক্ষার হার শতভাগ এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার হার ৬০ শতাংশে উন্নীত করা
২. ৫ বছরের নিচে শিশুর মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৫০ জনে নামিয়ে আনা
৩. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ শতাংশে নামিয়ে আনা
৪. বিদ্যুৎ সরবরাহ ২৩,০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা
৫. গবেষণা ও উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির ১ শতাংশে উন্নীত করা
৬. প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ শতাংশ এবং সে লক্ষ্যে গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৪০ শতাংশ।
৭. দারিদ্র্যের হার ১৮.৬০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৮.৯ শতাংশে নামিয়ে আনা
৮. মূল্যস্ফীতি ৫.৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা
৯. গড় আয়ু ৭২ বছরে উন্নীত করা

৪। দ্বি বার্ষিক পরিকল্পনা : বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার মাঝে মাঝে একটি দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৮-১৯৮০ মেয়াদে এ পরিকল্পনাটি গৃহীত হয়।

৫। দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (PRSP): বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন এনজিওগুলো নানা কল্যাণমূখী পদক্ষেপ গ্রহণৈর মাধ্যমে দেশের দারিদ্য-হ্রাসের আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় সরকার দু’বার PRSP বা‘Poverty Reduction Strategy Paper’ গ্রহণ করেছিল। প্রথম বা PRSP –Iএর মেয়াদ ছিল জুলাই ২০০৬ থেকে জুন ২০০৮ এবং দ্বিতীয় বা PRSP –II এর মেয়দকাল ছিল জুলাই ২০১০ থেকে জুন ২০১২ সাল পর্যন্ত। PRSP গ্রহণের পূর্বে সরকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০৩ সালে একবার IPRSP- Interim Poverty Reduction Strategy Paper গ্রহণ করেছিল যা এর ভিত্তি স্বরূপ কাজ করেছে।

# টপিকে আরও কিছু গুরত্বপূর্ণ কথা-বার্তাঃ
#বাংলাদেশে প্রথম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন গঠিত হয় ১৯৮২ সালে। বর্তমানের বাংলাদেশের সাথে যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন রয়েছে ১৭ টি দেশ ও ১টি সংস্থার সাথে।

#বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম গঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। এটি বাংলাদেশের ‘এইড কনসোর্টিয়াম’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশে ২০০৩ সালে থেকে উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধান সমন্নয়কারী সংস্থা বিশ্বব্যাংক।বৈদেশিক সাহায্যে শীর্ষ দেশ –জাপান। বাংলাদেশে বৈদেশিক সাহায্যে শীর্ষে আইডিএ। জাপানের বৈদেশিক জাণিজ্য সংস্থার নাম ‘জাইকা’।

 

#জাতীয় আয়-ব্যয়

জাতীয় আয় (National Income): এক বছরে একটি দেশে উৎপাদিত সকল দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকার্যেকর অর্থিক মূল্যকেই জাতীয় আয় হিসেবে অভিহিত করা হয়। দেশের উৎপাদিত দ্রব্যসমূহ ও বিদেশে অবস্থারত দেশীয় নাগরিকদের অর্জিত আয়, জাতীয় আয়ের অন্তর্ভূক্ত। অর্থাৎ, GDP ও GNPউভয়ই জাতীয় আয়ের আওতাভুক্ত।

GDP – Gross Domestic Product অর্থাৎ দেশের ভেতরে দেশীয় বা বেদিশি নাগরিক কর্তৃক উৎপাদিত মোট উৎপাদনই GDP বলে পরিচিত। বাংলাদেশেরGDP এর মুখ্য খাত হচ্ছে সেবা খাত (৫২.৭২%)। এছাড়াও কৃষি খাত, শিল্প খাত উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ হল ১৬১০ মার্কিন ডলার।

GNP এর পূর্ণরূপ হলো Gross National Product অর্থাৎ দেশের ভেতরে বা বাহিরে দেশীয় নাগরিক কর্তৃক উৎপাদিত মোট উৎপাদনই হল GNP। যখনআমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয় পরস্পর সমান হয় তখন GDP ও GNP একই হয়।

কোন দেশের মোট জাতীয় আয়কে ঐ দেশের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যে ফলাফল পাওয়া যায়, তাই ঐ দেশের মাথাপিছু আয়। কোন দেশের জনগোষ্ঠীর জীবন-যাপন মান ও অর্থনৈতিক অবস্থা জানার ক্ষেত্রে মাথাপিচু আয় থার্মোমিটার হিসেবে কাজ করে। মোট আয় = Y, মোট জনসংখ্যা = P হলে মাথাপিছু গড় আয় = Y/P।

বাজেট – নির্দিষ্ট অর্থবছরের সম্ভাব্য সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব–নিকাশকেই বাজেট নামে অভিহিত করা হয়। ১৮৫১ সালে লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশে তাজউদ্দিন আহমেদ প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন। এখন পর্যন্ত সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সর্বাধিক বাজেট ঘোষণাকারী হিসেবে খ্যাত। বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ঘোষনা করেন অর্থমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদ।

 

#জাতীয় বাজেট-২০১৭-২০১৮

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭ সালের ০১ জুন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট (মোট ১১ বার, টানা ৯বম বার) ঘোষণা করেন। ৩০ জুন বাজেট পাস হয় এবং ১ জুলাই, ২০১৭ হতে কার্যকর হয়।

#এক নজরে জাতীয় বাজেটঃ ২০১৭-১৮

বাজেট কত তমঃ ৪৭ তম

বাজেট পেশ হয়ঃ ০১ জুন, ২০১৭

বাজেট কার্যকরঃ ০১ জুলাই, ২০১৭

বাজেট ঘোষকঃ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

মোট বাজেটঃ ৪,০০,২৬৬ কোটি টাকা (জিডিপির ১৮%)

মোট আয়ঃ ২,৯৩,৩৭৪ কোটি টাকা

বৈদেশিক অনুদানঃ ৫,৫০৪ কোটি টাকা

ঘাটতিঃ ১,০৬,৭৭২ কোটি টাকা

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP): ১৫৩,৩৩১ কোটি টাকা

মোট জিডিপিঃ ১৯,৫৬,০৫৬ কোটি টাকা

বরাদ্দঃ শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে (সর্বোচ্চ)-৬৫, ৪৫০ কোট টাকা (বাজেটের ১৬.৪০%), কৃষিতে – ১৩,৬০০ কোটি টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগ- ৩৭, ২৬৫ কোটি টাকা

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা- ৭.৪০ % এবং মূ্ল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা – ৫.৫০%

#করমুক্ত সীমাঃ
ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা – ২৫০,০০০ টাকা, মহিলা ও ৬৫ বছরের বেশী হলে ৩০০,০০০ টাকা, প্রতিবন্ধী- ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা, গেজেটভুক্ত ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা- ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা
#রাজস্ব নীতি ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি
#রাজস্বনীতিঃ

রাজস্বের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দু ধরণের কর অন্তর্ভূক্ত থাকে। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের সিংহভাগই আসে বিভিন্ন ধরণের কর থেকে। সবচেয়ে বেশী আয় হয় পরোক্ষ কর থেকে। এক্ষেত্রে Value Added Taxবা VAT এর ভূমিকা অগ্রগণ্য। পরোক্ষ এ করটি ১৯৯১ সালের ১লা জুলাই থেকে চালু হয় যা ১৫% হারে ধার্য করা হয়।

প্রত্যক্ষ করঃ প্রত্যক্ষ কর হলো নাগরিকের আয় ও সম্পদের আদায়কৃত সরকারের রাজস্ব। যেমনঃ আয়কর।

পরোক্ষ করঃ পরোক্ষ কর হলো পণ্য ও সেবা উৎপাদন ও বিক্রয়, আমদানী ও রপ্তানি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর আরোপ করা কর। যেমনঃ বিভিন্ন পণ্যের উপর আরোপকৃত কর।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডঃ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা NBR কর আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত।জাতীয় কর দিবস পালিত হয় ১৫ই সেপ্টেম্বর।যারা কর প্রদান করেন তাদেরকে TIN বা ‘Taxpayers Identification Number’ প্রদান করা হয়। শিল্পে উৎসাহিত করতে সরকার সাময়িকভাবে ট্যাক্স মওকুফ করেও থাকে যা “ট্যাক্স হলিডে” নামে পরিচিত।

 

#মুদ্রা ব্যবস্থা

মুল্যস্ফীতি বলতে বোঝায়- সাধারণ দামন্তর বৃদ্ধি

সাময়িকভাবে মুদ্রাস্ফীতি বন্ধ করা যায় – মুদ্রার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে

মুদ্রা নীতি হলো – যে নীতির সাহায্যে অর্থের যোগান নিয়ন্ত্রণ করা হয়

মূল্যস্ফীতির কারণ – মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি কিন্তু জাতীয় উৎপাদন হ্রাস

বাংলাদেশের ১ ও ২ টাকার নোটে স্বাক্ষর থাকে – অর্থসচিবের

বাংলাদেশে ধাতব মুদ্রা চালু হয় – ৪ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে – গাজীপুর।

উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা চালু হয- ১৮৫৭ সালে।

বাংলাদেশে ১০০ টাকার নোট প্রথম চালু করা হয়-

বাংলাদেশের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস অবস্থিত – ৪ মার্চ, ১৯৭২।

বাংলাদেশের ৫০০ টাকার নোট কোথায় ছাপানো হয়- জার্মানিতে।

 

#বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি
সারা বছর জুড়ে কী কী উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে তার জন্য যে পরিকল্পনা নেয়া হয়, তাকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা Annual Development Programme (ADP) বলা হয়। বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অনুদানগুলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয়িত হয়। সরকারের গৃহীত Annual Development Programme (ADP) এর মেয়াদ হয় ১ বছর। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য এডিপি ধার্য করা হয়েছে ১৫৩,৩৩১ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির তত্ত্বাবধান করে-পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রথম হাতে নেয়া হয ১৯৭২ সালে।

#কিছু অর্থনৈতিক পরিভাষা
(Revenue Budget) রাজস্ব বাজেট- রাজস্ব খাতের ব্যয়ের হিসাবকে রাজস্ব বাজেট বলে।

(Development Budget) উন্নয়ন বাজেট- উন্নয়ন খাতের ব্যয়ের হিসাবকে উন্নয়ন বাজেট বলা হয়।

(Surplus Budget) উদ্বৃত্ত বাজেট- রাজস্ব খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাবকে উন্নয়ন বাজেট বলে।

(Deficit Budget) ঘাটতি বাজেট – ব্যয় বেশি এবং আয় কম হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে।

(Suplementary Budget) সম্পূরক বাজেট- আর্থিক বছরের শেষে সম্পূরক বাজেট করা হয়। অর্থ বছরের শেষে মূল বাজেটের তুলনায় আয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে যে বাজেট করা হয় তাকে সম্পূরক বাজেট বলে।

#দারিদ্র্য বিমোচন

 দারিদ্র বিমোচনের জন্য সবচেয়ে সফল কর্মসূচি হল ক্ষুদ্র ঋণ। ক্ষুদ্র ঋণ ধারণার প্রবর্তক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস।

 VGF এর পূর্ণরূপ হলো Vulnerable Group Feedding (VGF)।

 VGD এর পূর্ণরূপ হলো Vulnerable Group Development (VG)।

 বাংলাদেশে দারিদ্র্য হারের শীর্ষে কুড়িগ্রাম জেলা এবং সবচেয়ে কম দারিদ্র্যের হার কুষ্টিয়া জেলায়। দারিদ্র্য হারের শীর্ষে রংপুর বিভাগ। সবচেয়ে কম দারিদ্র্য অধ্যুষিত বিভাগের নাম সিলেট।

 বয়স্ক ভাতা চালু হয় ১৯৯৮ সালে।

 বাংলাদেশে মঙ্গা দেখা যায় ভাদ্র-আশ্বিন-কার্তিক মাসে।

 গ্রামীণ মানুষের কল্যাণে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত কর্মসূচির নাম আরএসএস।

 চরম দারিদ্র্য তারা যারা ১৮০৫ কিলোক্যালরির চেয়ে কম খাবার খায়।

 BARD এর পূর্ণরূপ হল Bangladesh Academy for Rural Development। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৯ সালে। BARD এর প্রতিষ্ঠাতা আখতার হামিদ খান।

 RDA এর পূর্ণরূপ হল Rural Development Academy. বগুড়ার শেরপুরে এটি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

 SDG এর পূর্ণরূপ হল Sustainable Development Goal বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা হল ১৭ টি। মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

 অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭ অনুসারে, দারিদ্র্যের উর্ধ্বসীমা হল ২৩.৫% এবং নিম্নসীমা হল ১২.১%। জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২৩.২%। অতি দারিদ্র্যের হার – ১২.৯%।