/

বিসিএস লিখিত বাংলা ভালো করার উপায় নিয়ে দুর্দান্ত পরামর্শ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ৩:১১ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০২, ২০১৮

লেখক: Aryan Ahmed

বাংলা বিষয়টিও চর্চার বিষয়, আমাদের উচিত যেকোনো পরীক্ষাতে সবই পারতে হবে বা সব প্রশ্নই উত্তর করতে হবে এমন প্রবণতা বাদ দেয়া । এমনটি ভেবে বেশিরভাগ স্টুডেন্টরা সাধারন প্রস্তুতিকে অসাধারন কঠিন করে ফেলে । উচিত হচ্ছে প্রিলির সময়ই লিখিত পরীক্ষার জন্য কিছুটা স্টাডি এগিয়ে রাখা । যেকোনো কিছু একটু details স্টাডি করে নিজের conception টা clear রাখুন । লিখিত পরীক্ষায় বেশির ভাগ প্রশ্ন নিজের মত করে গুছিয়ে বানিয়েই লিখতে হয়, এই ক্ষেত্রে যে যত সুন্দর করে বিভিন্ন reference সহ গুছিয়ে লিখতে পারবে তার নম্বরও তত ভালো আসার সম্ভাবনা বেশি । লিখিত পরীক্ষায় সব প্রশ্ন কমন পড়বে বা সবকিছুই আপনি পারবেন এমনটি ভাবা ঠিক নয় । এজন্য আগে যেসব প্রশ্ন ভালো পারবেন সেগুলো উত্তর করে ফেলবেন । আপনার knowledge থাকলে প্রশ্ন কমন না থাকলেও ভালো লিখে আসতে পারবেন । এর আগেও বলেছি যে আগে থেকে মোটামুটি একটা প্ল্যান করে রাখবেন যে কি টাইপ প্রশ্নের উত্তর কিভাবে লিখা শুরু করবেন, আবারও বলছি অযথা random স্টাডি না করে গুছিয়ে প্ল্যান করে অল্প স্টাডি করুন সেটা কাজে আসবে । বাংলা পরীক্ষাতে কি দিয়ে আগে উত্তর লিখা শুরু করবেন কোন প্রশ্নের উত্তরে আনুমানিক কত সময় নেবেন এটা মোটামুটি আগেই decision নিয়ে রাখবেন । এবার আসি বাংলাতে ভালো করতে হলে আপনি যেসব স্টাডি করতে পারেন —

১- গ্রামার অংশের জন্য সমিত্র শেখর স্যর এর বই এর গ্রামার অংশ দেখে নিন , বিশেষ করে শব্দের অধ্যায় ,বাক্যের অধ্যায় , বাগধারা, প্রবাদ প্রবচন, বাক্য রূপান্তর, ধ্বনির পরিবর্তন ইত্যাদি । এসবের মাঝে সব যে সবসময় কমন পড়বে সেটাও নয় । বাকিটা প্রিলির সময় লব্ধ জ্ঞান দিয়ে চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন ।

২ ভাব সম্প্রসারণ যেকোনো গাইড বই থেকে দেখুন , free hand লিখার অভ্যাস থাকলে ভালো । কারণ আপনাকে বানিয়েই তো লিখতে হবে তাইনা ? তবে লিখার সময় খেয়াল রাখবেন বানান ভুল যেন না হয় আর প্রতিটি লাইন যেন একটু ভারি হয় মানে একটু সাহিত্যিকের ছোঁয়া যেন থাকে , এক কথায় লাইনগুলো যেন একটু আলাদা weight carry করে । এর জন্য আপনাকে ২-১ দিন একটু স্পেশাল লিখার চর্চা করতে হবে । বিভূতিভূষণের লিখা দেখতে পারেন এজন্য । আপনার লিখা যেন প্রাসঙ্গিক থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন ।

৩- সারাংশ বা সারমর্ম জেতাই লিখুন না কেন খুব বেশি বড় যেন না হয়, এটাও যেন প্রাসঙ্গিক থাকে । সারাংশ নাকি সারমর্ম কোনটাতে বেশি নাম্বার আসে এটা অনেকে জিজ্ঞেস করেন । উত্তর হল আপনি যেটা ভালো লিখতে পারবেন সেটাতে ভালো নাম্বার আসবে ।সারাংশ লিখলে সারাংশের বর্ণনার কোন লাইন না লিখে আসার চেষ্টা করবেন । নিজের মত লিখবেন । এগুলোও যেকোনো গাইড বই থেকে দেখে নিন আর ২-৩ টি লিখার অভ্যাস করুন । শুধু দেখে যাবেন না একটু চর্চাও করে যাবেন ।

৪ – সাহিত্য অংশের জন্য যদি আপনার প্রিলি পরীক্ষার সময় মোটামুটি ভালো পড়া থাকে সেটা এখানে সাহায্য করবে । আপনি প্রাচীন , মধ্য আর আধুনিক যুগ সমিত্র স্যারের বই থেকে দেখে নিন । আধুনিক যুগ দেখার সময় আগে highlighted সাহিত্যিকদের নিয়ে স্টাডি করুন যেমন রবিঠাকুর, নজরুল, বঙ্কিম, শরৎচন্দ্র, হুমায়ুন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, সেলিম-আল- দীন ইত্যাদি । মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই, উপন্যাস , চলচ্চিত্র নিয়ে ধারণা রাখুন । সাম্প্রতিক আলোড়নকারী কোন বিখ্যাত বই নিয়েও একটু ধারণা রাখুন । এরপর যেকোনো ডাইজেস্ট টাইপ গাইড বইটি দেখুন । বিগত বছরের প্রশ্নগুলোও দেখে যাওয়ার চেষ্টা করবেন । অনেক প্রশ্ন কিন্তু repeat hoy ।

৫- বাংলায় অনুবাদ আর ইংরেজি translation একিই । ইংরেজি অনুবাদের জন্য ভালমতো প্রস্তুতি নিলে এটিতে আপনি ভালো করবেন । এছাড়া আপনার ইংরেজি vocabulary strong থাকলেও অনুবাদে সুবিধা হবে । অনুবাদ নিয়ে আমি এর আগে ইংরেজি নিয়ে লিখায় যেটা লিখেছি সেটা দেখতে পারেন । অনুবাদ আপনাকে ভাবানুবাদ করতে হবে । এজন্য সুন্দর শব্দশৈলীর ব্যবহার রাখতে পারলে ভালো । আপনি যেকোনো গাইড বই থেকে চর্চা করতে পারেন , ইংরেজি পত্রিকার কোন সংবাদও অনুবাদ করতে পারেন , অথবা পুড়নো chowdhury and hussain এর advance grammar বই এর translation অংশের শেষে অনুবাদ অংশ থেকেও চর্চা করতে পারেন ।
৬- সংলাপ নিয়ে কিছু বলার নাই, এটা চর্চার বিষয় । আর যার একটা creative mind আছে সে ভালো লিখতে পারবে । প্রতিটি উক্তি প্রাসঙ্গিক এবং সুন্দরভাবে লিখার চেষ্টা করবেন । একটু স্পেশাল কিছু করতে চাইলে সংলাপে বিভিন্ন reference ও আনতে পারেন মানে ওই প্রাসঙ্গিক আলোচনার মাঝে আলোচনা সম্পর্কিত তথ্য আনতে পারেন । টি ভি নিউজ, বই এর reference, পত্রিকার reference ইত্যাদি আলোচনায় আনতে পারেন । কিছু sample যেকোনো গাইড থেকে দেখে নিন । গাইড থেকে সাহায্য নেবেন , লিখবেন নিজের মত, এখন থেকেই অভ্যাস করুন । আপনি যদি অন্যদের থেকে এগিয়ে যেতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে স্পেশাল হতে হবে তাইনা ?

৭- বিভিন্ন আবেদনপত্রের sample ও যেকোনো গাইড বই থেকে দেখে রাখুন । কি টাইপ আবেদনপত্র কিভাবে লিখতে হয় এটা জানাটা জরুরী আপনার জন্য । এরপর ভেতরে নিজের মত করে যতটা পারা যায় প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে লিখে আসার চেষ্টা করবেন । বাংলা লিখিত পরীক্ষায় মুখস্থ করার চেয়ে free hand লিখার দিকে বেশি গুরুত্ব দিন ।

৮- গ্রন্থের যেহেতু কোন শেষ নাই, অল্প সময়ে গ্রন্থ সমালোচনার চেষ্টা বৃথা তাই । আপনার বন্ধু সার্কেলে যার একটু বাংলা উপন্যাস এবং সাহিত্যচর্চার অভ্যাস আছে তার থেকে বিভিন্ন বিখ্যাত গল্প উপন্যাস এর মুলকাহিনী শুনে একটা খাতায় লিখে রাখতে পারেন ( যদি আপনার সাহিত্যচর্চার অভ্যাস না থাকে বা বিভিন্ন গল্প উপন্যাস কম পড়া থাকে ), বি সি এস কে উপলক্ষ বানিয়ে আবার সাহিত্য বিশারদ হবার চেষ্টা করবেন না, তাহলে অন্যান্য বিষয়ে সময় না দিতে পারার সম্ভাবনা বাড়বে । সবসময় একটা কথা খেয়াল রাখবেন একটা পরীক্ষাতে সবই পারতে হবে তা নয় কিন্তু, আবার সব প্রশ্নের উত্তর সমান ভালো হবে সেটাও নয় । আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে average এ যেন প্রতিটা পরীক্ষা ভালো দিতে পারেন । কোন টপিক খুব কঠিন আসলে সেটা নিয়ে ঘাবড়াবেন না ।

৯- একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলি , একজন সাধারন পরীক্ষার্থী আর স্পেশাল পরীক্ষার্থীর মাঝে পার্থক্য কোথায় জানেন ? একজন সাধারণ পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে শুধু কঠিন প্রশ্নগুলোই দেখে আর কয়েকটি কঠিন প্রশ্নের জন্য সম্পূর্ণ পরীক্ষাটা খারাপ দিয়ে আসে, আর একজন স্পেশাল পরীক্ষার্থী কঠিন প্রশ্নগুলো বাদে বাকি প্রশ্নগুলোতে ভালো করার চেষ্টা করে । Think special and be special.

১০- একটু বানিয়ে সাহিত্য টাইপ লিখা লিখার অভ্যাস করুন, যেমন শীতের সকালের একটা কাব্যিক বর্ণনা লিখুন,বাক্যে কিছু সুন্দর শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করুন, যেমন লিখিত পরীক্ষায় ভাব সম্প্রসারন , প্রবাদের নিহিতার্থ প্রকাশ এসব নিয়ে যে বাক্যগুলো লিখবেন তার প্রতিটা বাক্য একটু ভাব গাম্ভীর্যপূর্ণ যেন হয় । সাহিত্য বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরগুলো কিছু না চাইলেও প্রাসঙ্গিক একটু details লিখে আসবেন, যেমন চর্যাপদ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে আপনি চর্যাপদের ২-৪ টা লাইন লিখে আসতে পারেন । কোন উপন্যাসের নাম চাইলে সেটি নিয়ে কিছু লিখলেন যেমন প্রকাশকাল, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ইত্যাদি ।

১১- রচনায় যতটা সম্ভব বেশি লিখে আসার চেষ্টা করবেন । বিভিন্ন reference রচনায় দিতে পারেন । গল্প, উপন্যাস বা কবিতার লাইন বাংলা ও ইংরেজি, সংবিধানের reference, পত্রিকার reference, সাধারন জ্ঞানের বিভিন্ন ডাটা ছক ইত্যাদি আপনি বাংলা রচনাতে refrence হিসেবে লিখতে পারেন । খেয়াল রাখবেন আপনার রচনার শুরুটা যেন একটু স্পেশাল হয় যেমন কোন কবিতার লাইন দিয়েই রচনা লিখা শুরু করলেন । reference এ নীল কালি ব্যবহার করতে পারেন । কি টাইপ রচনা আপনি ভালো লিখতে পারেন সেটা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখবেন, সেটা কি বর্ণনামূলক, সাহিত্য টাইপ, নাকি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক । রচনায় প্রচুর reference দেয়ার চেষ্টা করবেন । এখন থেকেই দ্রুত হাতের লিখার অভ্যাস করুন , যত ভালো স্টাডিই করুন না কেন আপনার লিখার গতি যদি বেশি না হয় তাহলে দেখবেন সব পণ্ডশ্রম ।

*** মোটকথা নিজেকে যতটা পারুন প্রস্তুত করুন,অবশ্যই বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বিশেষ করে ৩৫ তম নিয়ে একটু ভাবুন যে এই টাইপ প্রশ্নের উত্তর কিভাবে বা কতভাবে আপনি শুরু করতে পারবেন, প্ল্যান করুন, যেন নিজের স্টাডি টা কে পুরোটাই কাজে লাগানো যায় । চেষ্টা চালিয়ে যান । আর আবারও বলছি ছোট বড় সব ধরনের পরীক্ষাতে অংশগ্রহন করবেন , must must must. কারন সবার আগে আপনার পায়ের নিচে মাটি দরকার দাঁড়ানোর মত, প্রতিটা চাকুরীর সিট সংখ্যা সীমিত ,কিন্তু candidate অনেক বেশি,তাই আগে চেষ্টা করবেন যেকোনো একটা চাকুরী পেতে । পরে চেষ্টা করবেন যত ভালো পজিশনে যাওয়া যায় ।

*** লিখায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী, আর আমার পরামর্শই standard এমনটা নয়, আমি আপনাদের জাস্ট একটু গাইড দেয়ার চেষ্টা করছি মাত্র , স্টাডি আপনাকেই করতে হবে আর পরীক্ষা আপনিই দিবেন , আমি জাস্ট একটা গাইডলাইন । ভালো থাকবেন সবাই । Good luck guys.

 লেখকের পূর্বের লেখা: বিসিএস লিখিত ইংলিশ ভালো করার উপায় নিয়ে দুর্দান্ত পরামর্শ

লেখক পরিচিতি
Aryan Ahmed  
Assistant Commissioner of Taxes 
Government of the People's Republic of Bangladesh