/

লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিকৌশল : বাংলা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ১:১৪ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৩, ২০১৮

সৈকত তালুকদার: লিখিত পরীক্ষার বাংলা বিষয়টি দুইটি পত্রে বিভক্ত। বাংলা প্রথম পত্র ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র। যারা জেনারেল বা বোথ ক্যাডার চয়েস দিয়েছেন তারা বাংলা প্রথম পত্র ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র মিলে একই সিটিংয়ে ২০০ (১০০+১০০) মার্কের চার ঘন্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবেন। আর যারা শুধু টেকনিক্যাল ক্যাডার চয়েস দিয়েছেন তারা শুধু প্রথম পত্রের উপর ১০০ মার্কের তিন ঘন্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবেন।

বাংলা প্রথম পত্রের ১০০ মার্কের মধ্যে ব্যাকরণ অংশে ৩০ মার্ক, ভাবসম্প্রসারনে ২০ মার্ক, সারমর্ম বা সারাংশে ২০ মার্ক ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অংশে ৩০ মার্ক রয়েছে।

ব্যাকরণ অংশে “শব্দগঠন, বানান/বানানের নিয়ম, বাক্যশুদ্ধি/প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, প্রবাদ-প্রবচনের নিহিতার্থ প্রকাশ, বাক্যগঠন” এই পাঁচটি বিষয়ের উপর পাচটি প্রশ্ন (প্রত্যেকটি প্রশ্নের অধীনে আরও কয়েকটি প্রশ্ন থাকে) থাকবে। পাঁচটি প্রশ্নেরই উত্তর দিতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো অবশ্যই পড়বেন। সঠিক উত্তর দিলে এখানে নম্বর কাটার সুযোগ কম। অল্প লিখে বেশি নম্বর পাওয়ার উত্তম জায়গা এটি। তাই এই অংশে সর্বোচ্চ মার্ক নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন।

ভাবসম্প্রসারণ অংশে দুইটি ভাবসম্প্রসারণ থাকবে। তন্মধ্যে একটির উত্তর দিতে হবে। লেখার শুরুটা ইউনিক করার চেষ্টা করুন। বই থেকে হুবহু মুখস্থ না করে বানিয়ে বানিয়ে লিখুন। কত পাতা লিখলেন সেটা মুখ্য না, কী লিখলেন সেটাই বড় ব্যাপার।

সারমর্ম ও সারাংশ অংশে একটি সারমর্ম ও একটি সারাংশ থাকবে। যেকোন একটির উত্তর দিতে হবে। সারমর্ম বা সারাংশ যাই উত্তর করেন, দুই থেকে তিন লাইনে মূল ভাবটি লিখবেন। মাত্র দুই তিন লাইন লেখার জন্য ২০ মার্ক রয়েছে এই অংশে। তাই একটু সময় নিয়ে পরিষ্কারভাবে আসল কথাটি উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অংশে ১০ টি প্রশ্ন থাকবে। ১০ টি প্রশ্নেরই উত্তর দিতে হবে। কোন অপশন পাবেন না। তাই একটু ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন এই অংশের জন্য। চর্যাপদ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, বৈষ্ণব পদাবলী, ময়মনসিংহ গীতিকা, আরাকান রাজসভা ও এই রাজসভা কেন্দ্রিক সাহিত্য, চণ্ডীদাস, শাহ মুহাম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কৃত্তিবাস, কাশীরাম দাস, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, আব্দুল হাকিম, ফকির গরীবুল্লাহ, ভরতচন্দ্র রায় গুনাকর, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাস, জসীমউদ্দিন, প্রমথ চৌধুরী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মীর মোশাররফ হোসেন, কায়কোবাদ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, দীনবন্ধু মিত্র, নজিবর রহমান, ফররুখ আহমেদ প্রমুখ লেখকের সাহিত্যকর্ম এবং ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য ভালো করে পড়লে ৩০ মার্কের এক মার্কও বাদ যাওয়ার কথা না।

বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ১০০ মার্কের মধ্যে ইংরেজী থেকে বাংলা অনুবাদে ১৫ মার্ক, কাল্পনিক সংলাপে ১৫ মার্ক, পত্রলিখনে ১৫ মার্ক, গ্রন্থ-সমালোচনায় ১৫ মার্ক ও রচনায় ৪০ মার্ক রয়েছে।

ইংরেজী থেকে বাংলা অনুবাদ একটাই থাকবে। সেটারই উত্তর করতে হবে। আক্ষরিক অনুবাদ না করে ভাবানুবাদ করার চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে ইংরেজীর এক লাইন ভেঙ্গে বাংলায় দুই লাইন বা ইংরেজীর দুই লাইনকে বাংলায় এক লাইনে প্রকাশ করুন। সময় অভাবে যদি পুরোটা অনুবাদ করতে না পারেন তাহলে প্রথম কয়েক লাইন অনুবাদ করার পর শেষের কয়েক লাইন অনুবাদ করুন। যাতে মনে হয় আপনি পুরোটা অনুবাদ করেছেন।

কাল্পনিক সংলাপও একটিই থাকবে। সেটারই উত্তর দিতে হবে। এই অংশে ভালো করার জন্য অবসর সময়ে বিভিন্ন টপিক নিয়ে নিজে নিজে ভাবুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন। নিজেই উত্তর দিন। মোটকথা, বাস্তব পরিস্থিতিতে পড়লে আপনি ঐসময় কী বলতেন বা কী বললে ভালো হতো সেসব চিন্তা করুন। বিতর্কিত কোন বিষয় থাকলে সেক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করুন।

পত্রলিখন দুইটি থাকবে তন্মধ্যে একটির উত্তর করতে হবে। গাইড থেকে নমুনা চিঠি অনুসরণ করে চিঠিতে নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অনূভুতি, অভিরুচি, ব্যক্তিত্বের সুস্পষ্ট ছাপ আনলে ভালো মার্ক পাওয়া যায়। ব্যক্তিগত চিঠি হলে অবশ্যই খামের চিত্র দেবেন।

গ্রন্থ-সমালোচনা অংশেও কোন অপশন পাবেন না। যা থাকবে তারই উত্তর দিতে হবে। এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত ও আলোচিত নাটক, উপন্যাস ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারণা নিন।

রচনা অংশে পাঁচটি রচনার মধ্যে একটির উত্তর দিতে হবে। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর জন্য যা পড়বেন সেখান থেকেই এই অংশের অনেকটা প্রিপারেশন বা এই অংশ থেকেই বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর কিছুটা প্রিপারেশন হয়ে যাবে। লেখায় বেশি বেশি তথ্য, উপাত্ত, চার্ট দেওয়ার চেষ্টা করবেন। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তক নাটক, গল্প , উপন্যাস, সমকালীন আলোচিত বিষয় ইত্যাদি নিয়ে রচনা আসেই। তবে রচনা কমন পড়বে এই আশা না করাই ভালো। মাইন্ড ম্যাপিংয়ের দক্ষতা বাড়ান। তাহলে যেকোন রচনা আপনার কাছে পান্তাভাত।

তাহলে আর দেরী কেন? অল্প অল্প করে প্রস্তুতি শুরু করুন।

সৈকত তালুকদার
৩৬ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)

সিনিয়র অফিসার, বিকেবি