/

বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার আজকের সম্পাদকীয়

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ১:৩১ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ২৪, ২০১৮

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন যেমন চুক্তি হওয়ার দুই মাসেও শুরু করা যায়নি, তেমনি এ নিয়ে অনিশ্চয়তাই দিনে দিনে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে নিশ্চয় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, বাংলাদেশ অবিশ্বস্ত মিয়ানমারের ভিত্তিহীন আশ্বাসের ভিত্তিতে এক দুর্বল চুক্তি করেছিল।

এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, কিন্তু চুক্তি বড় কথা নয়, এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই আসল কথা। মিয়ানমার নিকটতম প্রতিবেশী এবং এ কারণে তার সঙ্গে একধরনের সম্পর্ক বজায় রাখতেই হবে। কিন্তু এতে সন্দেহ সামান্য যে চুক্তির আগে ও পরে তারা এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, যা বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্ট এ সপ্তাহে সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলে এক সম্পাদকীয় নিবন্ধ ছেপেছে। তারা বলেছে, ‘দেশটি বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়ে চলেছে, কত ব্যাপকতা ও দ্রুততার সঙ্গে গণহত্যা সংঘটন করা সম্ভব এবং সে জন্য তার দুর্বৃত্তদের কোনো পরিণাম ভোগের কোনো ব্যাপার নেই।’

মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ ভুল করেছে কি না, বর্তমান রূঢ় বাস্তবতায় সেটাই মূল বিষয় নয়। যদিও চুক্তি করার সময় ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি বাদ দিয়ে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এটা আমাদের ক্ষমতাসীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতা নির্দেশ করে। আমাদের এবং মিয়ানমারের অভিন্ন বন্ধুরা কী ভূমিকা পালন করেছে, সেটা আমাদের কাছে খুব পরিষ্কার নয়। কিন্তু আমরা এ ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে চাই যে সরকার যেসব বিদেশি রাষ্ট্রকে পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে, তারা কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারে সচেষ্ট আছে এবং বাংলাদেশ তাদের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হচ্ছে।

আমরা জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর আস্থা রাখতে চাই, তারা যেন কখনোই দেশটির সামরিক স্বৈরতান্ত্রিক সরকারকে সর্বাত্মকভাবে চাপে রাখার কৌশলে কোনো পরিবর্তন না আনে। কারণ, সম্মিলিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদাজাগ্রত প্রহরা ছাড়া চুক্তির সময়সীমা কেন, তারা কোনোটিই মানবে না। চুক্তির সবগুলো শর্ত মানতে তাদের বাধ্য করার নীতি অবলম্বন করতে হবে।

জাতিসংঘ দূত ইয়াংহি লি প্রশ্ন রেখেছেন, রোহিঙ্গারা ফিরবে কোথায়? এখন তঁাকে এই প্রশ্নেরও উত্তর পেতে হবে, তারা থাকবে কোথায়? রোহিঙ্গা বিক্ষোভ ও নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরির যে আশঙ্কা, তাও দূর করতে হবে। সূত্র: প্রথম আলো

 

উগ্রতা বনাম বাঙালির সম্প্রীতিবোধ…মো. সাইফুদ্দিন তালিব

ভৌগোলিকভাবে আমাদের দেশটা এমন একটা অংশে যেখানে প্রায় সবাই কোনো না কোনো ধর্মে বিশ্বাসী। অন্যদিক থেকে ভাবলে এটা এখানকার ঐতিহ্যও বটে। যা ধারণ করে আমরা সভ্য-ভদ্র, সহনশীল ও সহানুভূতিশীল জাতি হিসেবে পৃথিবীর অন্য প্রান্তের সুনাম অর্জন করেছি। এ ধর্ম-বিশ্বাস বা আদর্শ হঠাত্ করে কিংবা আধুনিকতার ছোঁয়ায় যেমন সৃষ্টি হয়নি, তেমনি কোনো সম্প্রদায় যারা এ সম্পর্কে গবেষণা করে না কিংবা জ্ঞান রাখে না তাদের প্রাণপণ চেষ্টায়ও হারিয়ে যাবে না। আমরা বাঙালি জাতি অন্য জাতিকে আপনজন কিংবা সহযাত্রী মনে করি। যারা করে না তাদের সংখ্যাটা একেবারেই নগণ্য। বিপদে-আপদে একে অপরের জন্য সবই উত্সর্গ করি। অতীত ইতিহাস জ্বলন্ত নিদর্শন, পরবর্তী অতি ভদ্রলোকরা শিক্ষা নিতে পারেন। এখানে সময় হলে কেউ মসজিদে, কেউ মন্দিরে, কেউ গির্জায় নিজস্ব ইবাদত বা প্রার্থনায় মগ্ন হয়। স্রষ্টার দয়ায় সিক্ত হয়ে নির্জলা প্রাণ নিয়ে সবার কাছে ফিরে আসে। যে নির্জলা প্রাণে ঠাঁই করে নেয় অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার শিক্ষা। পৃথিবীর সবগুলো ধর্মেরই ঘুরে-ফিরে একই উদ্দেশ্য— মানবজাতিকে কল্যাণের পথে ধাবিত করা। এর বিকল্পও কেউ ভাবতে পারে। ভাবলেও মানুষ যে সবার উপরে—একথা কেউ অস্বীকার করে না। মানুষ সবার উপরে বলেই অকারণে, অন্যায়ভাবে তাকে অধর্মের পথে পরিচালিত করা যেমন চরম অন্যায়, ঠিক একইভাবে তাকে অকারণে হত্যা করাও পাপ।

আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, আচার-আচরণ ও জাতীয় চেতনাবোধ অন্যদের থেকে কখনও নিম্নমানের ছিল না বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক উন্নত—এ বার্তা ছেলে-মেয়েদের প্রাণে গেঁথে দিতে হবে। কড়া নজর রাখতে হবে ঐসব নাটক, সিনেমা, গান, প্রবন্ধ, কবিতা, উপন্যাস, কিংবা সংবাদের উপর যেগুলো নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির অমর্যাদা করে, অন্যদের প্রতি ঝোক বাড়ায় কিংবা আকৃষ্ট করে। এগুলো থেকে কোমলমনা বাচ্চাদের মনে নিজ দেশ ও মানুষের প্রতি অবজ্ঞা তৈরি হয়। টান বাড়ে সীমানার বাহিরে কী আছে তার উপর। যে প্রাণ সীমানার ওপারে থাকে তার দেহটা এখানে মৃত। এই শ্রেণির দেহগুলো সবকিছুতে নেগেটিভ দেখতে পায়। ফলে দেশ ও জাতির মূল স্রোত থেকে নিজেদের ভিন্নভাবে এবং ভিন্ন পথ ও মতের আবিষ্কার করে। এ পথ ও মত বাঙালি জাতির অবিরাম সম্প্রীতির মাঝখানে কখনো কখনো কাঁপন তৈরি করে। আমাদের সম্প্রীতির মাঝখানে কাঁপন তৈরি করতে পারলেও ছেদ তৈরি করতে পারেনি কখনো। কিছু বর্ণচোরারা অন্য জাতির মাঝে বিচ্ছিন্ন মত ও পথ খুঁজে তাতে নানাভাবে ফুয়েল (জ্বালানি) দেয়, পৃষ্ঠপোষকতা করে। এ ফুয়েল ও পৃষ্ঠপোষকতার বড় অংশ আমাদের সামনে দিয়ে ছদ্মবেশে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট হয়। অন্য জাতি কোনোদিন যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে তার মেডিসিন আর পৃষ্ঠপোষকতা ইনভেস্ট করে। একটি জাতির মাঝে গ্রহণযোগ্য ঐতিহ্য, লালনযোগ্য সংস্কৃতি ও অগাধ সম্প্রীতি বেঁচে থাকলে তাদের কখনো দমিয়ে রাখা যায় না।

আত্মীয়-স্বজনের ছোট ছেলে-মেয়ে কিংবা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায়ই বলতে শুনি, “এখানে (দেশে) থেকে কিছুই হবে না। ইউরোপ বা আমেরিকায় চলে যাবো, ওখানকার পরিবেশই ভিন্ন,” ইত্যাদি। এ ধরনের অতিলোভী আত্মঘাতী চিন্তা-চেতনার দ্রুত পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে ওদের কেউ কেউ রাষ্ট্রের বিধি-বিধান ও ঐতিহ্যে খাপ খাওয়াতে পারবে না এবং আরো দূরে সরে যাবে। দায়িত্বটা সরকারের হলেও এখানে বাবা-মারও ভূমিকা আছে। ছোট বেলা থেকেই বাঙালি জাতির গ্রহণযোগ্য সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের টেকসই চিত্র তাদের চোখে একে দিতে হবে। পারিবারিক বন্ধন, আতিথেয়তা, অন্যের প্রতি মমতাবোধ আর ভালোবাসার নানা দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করে মগজের ফাইলে ইনপুট করে দিতে হবে। যাতে অন্যদের ক্যামেরার অংশ বা আর্টিফিসিয়াল আচার-আচরণ দেখে নিজেদের আত্মসম্মানবোধ বিক্রি করে না দেয়।

লেখক : গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষক, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে join করুনঃ Job Study : Build your smart career

 

বিশ্ব কি চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলা করতে সক্ষম?….জয়া ফারহানা

গণহত্যা বা জেনোসাইডের চেয়ে গুরুতর অপরাধ কী আছে? ভাবছেন, লাখ লাখ মানুষ হত্যার চেয়ে অপরাধ আর কী হতে পারে? কিন্তু যে প্রকল্পে কোটি কোটি মানুষ হত্যার সম্ভাবনা তৈরি হয় কিংবা মানুষ জাতিরই বিলুপ্তির সম্ভাবনা থাকে তা কি জেনোসাইডের চেয়েও মারাত্মক নয়? ইকোসাইড হলো গোটা প্রাণব্যবস্থাকে ধ্বংস করার প্রকল্প। ইকোসাইড জেনোসাইডের চেয়ে গুরুতর অপরাধ তাই। জেনোসাইড লাখ লাখ মানুষ হত্যা। ইকোসাইড কোটি কোটি প্রাণের বিনাশ। মানুষ হত্যা হয় জেনোসাইডে। ইকোসাইডে গোটা প্রাণ ব্যবস্থাপনাই ধ্বংস হয়ে যায়। যে ব্যবস্থা টিকে না থাকলে মানুষসহ কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থাকে না সেই প্রাণব্যবস্থার বিনাশকারীরা গণহত্যাকারীদের চেয়েও বড় অপরাধী। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাই যেকোনো পরিবেশবিনাশী কার্যকলাপকে মানবতার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে। কারণ প্রাণব্যবস্থা টিকে না থাকলে মানুষ, মানবতা, সভ্যতা সব শব্দই অর্থহীন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মনসান্তোকে এই অভিযোগে আসামি হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল ২০১৬ সালে। মনসান্তো বিকৃত বীজ ও বিষের মাধ্যমে বিশ্বের দেশে দেশে কিভাবে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশের ক্ষতি করেছে সেটা আর এখন কারো অজানা নয়। মনসান্তোর মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিকৃত বীজের বিপদ মোকাবেলা করছে গোটা পৃথিবী। বিপদ আরো আছে। পারমাণবিক অস্ত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশগুলো সিসা, ক্যাডমিয়াম এবং আরো নানা বিষাক্ত বিপজ্জনক বর্জ্যের বর্জ্যাগার হিসেবে ব্যবহার করছে দরিদ্র দেশগুলোকে। দরিদ্র দেশের সমুদ্রগুলো হয়ে উঠছে বর্জ্যের গুদাম। নবায়ন অযোগ্য জ্বালানির নির্বিচার দাপট নীরবে সহ্য করতে হচ্ছে নিরীহ দেশগুলোকে। বাংলাদেশও তা থেকে মুক্ত নয়। সিনজেন্টা, মনসান্তোর মতো প্রতিষ্ঠানের অগাধ-অবাধ পুঁজি যেমন বাজারব্যবস্থাকে বৈশ্বিক বাজারে পরিণত করেছে, দূষণকেও তেমনি বৈশ্বিক দূষণে পরিণত করেছে। দুঃখজনক যে বৈশ্বিক দূষণের অভিঘাতে আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোকেই ভুগতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

তৃতীয় শিল্প বিপ্লব কি প্রকৃতির সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় করতে পেরেছে? পারেনি। বরং তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের উপজাত সমস্যা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এখনো খাবি খাচ্ছে গোটা বিশ্ব। তৃতীয় শিল্প বিপ্লব বিশ্বকে উপহার দিয়েছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, সিএফসি বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন। এসব ক্ষতিকর গ্যাস উপজাত হিসেবে এসেছে ধনবান সম্পদশালী পরমাণু নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকারী শিল্পোন্নত দেশগুলোর উৎপাদনব্যবস্থা থেকে। কার্বনের অতিমাত্রায় নিঃসরণ ওজোনস্তরকে ফুটো করেছে। আল্ট্রাভায়োলেট সরাসরি চামড়ায় ঢুকে যাওয়ায় ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশুদ্ধ অক্সিজেন বিরল পদার্থে পরিণত হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি বিলুপ্তপ্রায়। পরমাণু বোমা নয়, পানিই হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই যে পৃথিবী ক্রমাগত কার্বনের গুদাম হয়ে উঠছে, এর মাসুল বিশ্ববাসীকে দিতে হচ্ছে পদে পদে। জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে। সাইক্লোন, দাবানল, সুনামি বৈশ্বিক উষ্ণতার আঘাত থেকে মুক্ত থাকতে পারছে কোন দেশ? চরম ভাবাপন্ন শীত গ্রীষ্ম বর্ষার অভিঘাত থেকেই বা মুক্ত থাকতে পারছে কোন দেশ? ক্যালিফোর্নিয়ার তাপমাত্রা যখন মাইনাস ৩০ অস্ট্রেলিয়ার তাপমাত্রা তখন ৪৭ ডিগ্রি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এখন বৈশ্বিক শীতলতা বৃদ্ধি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে। শুধু বৈশ্বিক তাপমাত্রা বা শীতলতা বৃদ্ধি নয়, জলবায়ুর যেকোনো অস্বাভাবিক আচরণ গোটা বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশও কি অস্বাভাবিক জলবায়ুর ক্ষতির শিকার নয়? কতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ২০১৬ সালে যেখানে চা উৎপন্ন হয়েছিল ৮৫ মিলিয়ন কেজি, এই বছর সেই চা উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ মিলিয়ন কেজি। অতিবৃষ্টি ও রোদের অভাবে চায়ের পাতার কুঁড়ি ঠিকমতো বিকশিত হতে পারেনি। এবারের রেকর্ডভাঙা শীতের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোরো বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি এবং ছত্রাক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। গত বছর হাওর অঞ্চল মোকাবেলা করেছে অস্বাভাবিক পাহাড়ি ঢল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাখ লাখ হেক্টর জমির ফসল। এ বছর আবার যখন বোরো ধানের বীজতলা তৈরির সময়, তখন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চরম ভাবাপন্ন শীতের কারণে। কিভাবে তাহলে জলবায়ুর এসব ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে? বিশ্বায়নের সুফল দরিদ্র বা স্বল্পোন্নত দেশ পাক বা না পাক ক্ষতিটা পাচ্ছে। পশ্চিমের জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর জীবনব্যবস্থার অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষক। এ জন্যই বোধ হয় ইকোসাইড জেনোসাইডের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। ১ শতাংশের অতিমাত্রায় ভোগসর্বস্ব জীবনব্যবস্থার কারণে গোটা পৃথিবী আজ বিপন্ন। অথচ উৎপাদন ও উন্নয়নের নামে প্রকৃতিবিনাশী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে প্রতিযোগিতা তা থেকে কোনো দেশ বেরিয়ে আসতে রাজি নয়। এই যে আমরা বলছি জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তন, এই অস্বাভাবিকতা প্রকৃতি নিজে করেনি, তাকে দিয়ে করানো হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য থাকবে কি থাকবে না সেটা নির্ভর করছে কী ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা ক্ষমতাধর দেশের মানুষ গড়ে তুলল তার ওপর। উৎপাদনব্যবস্থা পরিবেশবিধ্বংসী হলে বৈশ্বিক জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই। জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে প্রাণবৈচিত্র্য চুক্তি বাধ্যতামূলক। মজার ব্যাপার হচ্ছে, চুক্তিতে স্বাক্ষর করে আসার পরই ক্ষমতাধর দেশগুলো প্রাণবৈচিত্র্যবিরোধী নীতিমালা প্রয়োগ করতে থাকে। জীব, অণুজীব, কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় এবং ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র  আরো অদৃশ্য কোটি কোটি প্রাণকে প্রতি মুহূর্তে হত্যা করা হচ্ছে। বৃক্ষের মতো সর্বস্ব দানকারী প্রাণকেই বাঁচাতে অনাগ্রহী মানুষ। এ পরিস্থিতিতে প্রাণবৈচিত্র্য শব্দটিও তাই আভিধানিক অর্থের চেয়ে বেশি কিছু তাৎপর্য বহন করে না।

পরিবেশ নিয়ে আমাদের নীতিমালাও খুব স্বস্তিদায়ক নয়। কেউ যদি দক্ষিণে সুন্দরবন অঞ্চলে যান তো দেখবেন কিভাবে চিংড়ি চাষের জন্য সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেন্ট মার্টিনস প্রতিবেশগত সূত্রে সংকটাপন্ন এলাকা। জাহাজভাঙা টন টন লোহার চূর্ণ চুষে নিয়েছে বঙ্গোপসাগরের স্নিগ্ধতা। পদ্মা মেঘনা যমুনার মতো তিন অমেয় নদীর মোহনা বাংলাদেশ। অফুরন্ত স্রোতোধারার সেই দেশের মানুষকে পানি কিনে খেতে হয়। বাংলাদেশের মানুষ কি কখনো ভেবেছে পানি কিনে খেতে হবে? লালন মরল জল পিপাসায় থাকতে নদী মেঘনার মতো দশা। একসময় যেমন আমরা ভাবতে পারিনি পানি কিনে খেতে হবে; এখন ভাবতে পারছি না বটে, তবে একসময় বিশুদ্ধ বাতাসও কিনে খেতে হবে। গাছ নেই তো অক্সিজেন নেই। চীন যেমন এখন বিশুদ্ধ বাতাস বোতলে কিনে খাচ্ছে। বিপর্যয় যতক্ষণ চোখের সামনে না ঘটছে ততক্ষণ আমরা কিছুই টের পাই না। আমাদের চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পানির উৎস, বন-গাছপালা। তা নিয়ে নীতিনির্ধারকরা খুব চিন্তিত বলে মনে হয় না। গ্রিনহাউস গ্যাস প্রশ্নে, কার্বন নিঃসরণ প্রশ্নে, পরিবেশ ও প্রাণ রক্ষার প্রশ্নে, তাদের নীতি কি, আমরা তাও বুঝি না। সবুজের মৃত্যুর সঙ্গে বাংলাদেশের মৃত্যু অবধারিত। আর সবুজের বাঁচার সঙ্গে এই জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার সম্পর্ক যুক্ত। সেই সবুজের জীবন নিয়ে কী পরিকল্পনা, কী নীতি জানি না। পানি, বাতাস, আলো প্রকৃতির সাধারণ সম্পদ। কিন্তু এই সাধারণ সম্পদের ৮০ শতাংশ ভোগ করছে ২০ শতাংশ মানুষ। বাকি পৃথিবী প্রায় বিনা প্রতিবাদে তা মেনে নিচ্ছে। অবস্থার আরো অবনতি হলে বঞ্চিত এই ৮০ শতাংশ মানুষকে কি পানির মতো বাতাস এবং রোদও কিনে খেতে হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত। আসছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং তা নিয়ে বিশ্ববাসীর আগ্রহেরও কমতি নেই। মুনাফাতাড়িত ও তথাকথিত সভ্য দেশের উন্নয়ন দর্শনের পরিবর্তন না হলে জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তন রোধ অসম্ভব। একই সঙ্গে এও সত্য, বিগত দিনের উন্নয়ন দর্শনের দগদগে ঘা বহাল রেখে যে চতুর্থ বিপ্লব আসবে, তা যে বিশ্বের বহু প্রাণের জন্যই প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে। এটা যে নিশ্চিত তা আগাম বলে দেওয়া যায়।

লেখক : কথাসাহিত্যিক

সূত্র: কালের কন্ঠ

 

ট্রাম্প কেন বিপজ্জনক….জোয়েরজেন মোয়েলার

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে চিহ্নিত করেছে একটি বিকার, দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির আকস্মিক ফল, একটি রাজনৈতিক প্রপঞ্চ, নিশ্চিতভাবে একটি উৎপাত, এমনকি ভীতিকর ও ভবিষ্যদ্বাণী অযোগ্য মানুষ হিসেবে। তারা এমনটি বলার কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের কেউ নন এবং তিনি ‘তাদের একজন’ হতে চানও না।

বস্তুত বিশ্বায়নের ধাক্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশার গভীরতা এলিটরা বুঝতে পারেননি- এর ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তিনি নিজের তৈরি নীতিতে চাল চেলেছেন, নিজের রীতিতে অবিচল থেকেছেন এবং তিনি জানতেন তিনি কী করছেন, কী চাচ্ছেন এবং কীভাবে সেসব পাওয়া যায়।

সফল হওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে অনেক বন্ধু তার দরকার ছিল এবং তিনি তাদের পেয়েছেনও। আমেরিকার রাজনীতির কর্তৃত্ব বড় বড় তেল কোম্পানি ও কর্পোরেশনের আওতায় চলে গেছে। এর বড় লক্ষ্য হল যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছড়ি ঘোরানো, বৈশ্বিক খনিজ জ্বালানির তৃতীয় বৃহৎ আমদানিকারক হওয়া এবং নিট রফতানিকারক হওয়া, বিশেষত তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানির ক্ষেত্রে। এর অন্যতম লক্ষ্য হল বড় বড় ব্যবসায়ীকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেয়া।

এসব লক্ষ্যমাত্রার চূড়ান্ত অর্জনে ট্রাম্প পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল ও প্রস্তুত করেছেন। এজন্য আগের প্রশাসনগুলোর রেখে যাওয়া প্রতিবন্ধকতাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে এবং অফশোর প্রতিষ্ঠানগুলোকে (বেনামি কোম্পানি) অন্তর্ভুক্ত করাসহ তাদের কাজ করার সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার (এপিএ) বর্তমানে মূল লক্ষ্য পরিবেশ সংরক্ষণ নয়, বিপরীতে পরিবেশগত মানোন্নয়ন এবং বিষাক্ত বস্তুর হাত থেকে মানুষকে রক্ষায় নেয়া নীতি ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাজের একটি দীর্ঘ তালিকাকে বাতিল করে দিতে এটি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নেয়া বিধিনিষেধগুলো অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বেপরোয়া আচরণের দরজা খুলে দেয়া হচ্ছে, যেসব আচরণের কারণে ২০০৮-০৯ সালে মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

২০১৭ সালের শেষের দিকে কর সংস্কারের একটি পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে কংগ্রেস। এতে কর্পোরেট কর কমিয়ে দেয়া হয়েছে যাতে করে বড় বড় তেল সংক্রান্ত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা পাইয়ে দেয়া যায় এবং উচ্চ আয়ের পক্ষগুলোকে তুলনামূলক কম ট্যাক্স দিতে হয়। মূলত, এটি হচ্ছে রিপাবলিকানদের নীতি যা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পদক্ষেপ হিসেবে ভোটারদের বোঝানো হয়েছে; কিন্তু সরকারি ঋণ এবং মধ্যম আয়ের মানুষদের জন্য এর মধ্যমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব কী হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য পররাষ্ট্রনীতিও সেভাবে সাজানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সম্ভবত সবচেয়ে বড় হতে যাওয়া চীনা এলএনজি মার্কেটকে অবশ্যই পরাজিত করতে ও বশে আনতে হবে। এমন নীতি ব্যাখ্যা করছে যে, পররাষ্ট্রনীতি হতে যাচ্ছে চীন ও উত্তর কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর মুখোমুখি অবস্থান নেয়ার মতো।

কূটনৈতিক মহলে আলোচিত গুজব অনুযায়ী আরও বেশি আগ্রাসী একটি বাণিজ্যনীতি পাইপলাইনে আছে। এটি কেবল বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্যাঞ্চল নাফটাকেই খোজা করছে না, একইসঙ্গে সাময়িক আমদানি বিধিনিষেধের সুনির্দিষ্ট ঘটনারও জন্ম দিচ্ছে। ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে নিজের সমর্থনের ঘাঁটি সুরক্ষিত রাখার জন্য ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।

বিদেশিদের আমেরিকায় প্রবেশ আরও কঠিন করার জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং এটিকে উপস্থাপন করা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ থেকে আমেরিকানদের সুরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে। ঘোষণামূলক নীতির চমৎকার ব্যবহার হিসেবে এটি ভালোই শোনাচ্ছে এবং ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে বিদেশিভীতিও তৈরি করছে।

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরির বিষয়টি আলোচনা থেকে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে ৭শ’ মাইলের বেশি দেয়াল তৈরির জন্য কংগ্রেসের কাছে ১৮শ’ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। ওবামাকেয়ার বা স্বল্পমূল্যের স্বাস্থ্যসেবানীতি বাতিল করা যায়নি; কিন্তু নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এর আর্থিক প্রবাহ আটকে দেয়া হয়েছে। ফলে এটি যেমনটি হওয়ার কথা ছিল, তার পরিবর্তে নিজের ছায়া হয়ে পড়েছে।

সংকট পার করে নিজের এসব নীতিকে সাহায্য করার জন্য রাষ্ট্রের তিন মূল স্তম্ভ- নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগকে কোনো না কোনো পথে নিয়ন্ত্রণ বা পাশ কাটিয়ে যেতে হয়েছে ট্রাম্পকে। এজন্য তিনি সংবিধান বা রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও শিষ্টাচার কিছুরই তোয়াক্কা করেননি। নির্বাহী বিভাগ আর্থিক ও জনবলের ক্ষেত্রে তীব্রভাবে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ভেঙে দেয়ার ওপর আলোকপাত করছে।

আইন বিভাগকে বোকা বানিয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রশাসন চালাতে পছন্দ করেন ট্রাম্প। এজন্য কংগ্রেসকে একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতার বিষয় প্রায় সব সময়ই উপেক্ষা করা হয়েছে। কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের সঙ্গে ট্রাম্পের অংশীদারিত্ব মূলত হয়েছে ওবামা যুগের নীতি-নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহারের জন্য।

প্রেসিডেন্টের কিছু নির্বাহী আদেশ আটকে দেয়ার চেষ্টা করা বিচার বিভাগকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে ট্রাম্পের প্রশাসন। অন্য যে কোনো পূর্বসূরির তুলনায় প্রেসিডেন্ট তার মেয়াদের প্রথম বছরে বহু ফেডারেল বিচারক নিয়োগ করার জন্য বিচার বিভাগের অনেক শূন্যপদ পূরণের সুযোগটি প্রায় পর্দার আড়ালেই নিয়েছেন।

নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য, এমনকি প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ার বৈরিতা কাজে লাগাতেও সক্ষম হয়েছেন ট্রাম্প। ক্যাবল নেটওয়ার্ক ও পত্রিকাগুলো জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করছে- এমন অভিযোগ তুলে মূলধারার মিডিয়া হাউসগুলোকে প্রত্যাখ্যানের জন্য তিনি নিজের সমর্থকদের উৎসাহিত করেছেন। তবে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণভাবে যেসব বড় নীতি তিনি বাস্তবায়ন করতে চান সেগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে নিজের অভিব্যক্তির সঙ্গে মিডিয়া আচ্ছন্নতাকে ব্যবহার করেছেন তিনি।

নিয়মিতভাবে করা তার বিতর্কিত টুইটের দিকে মূলধারার মিডিয়া ও সাধারণ মানুষ মনোযোগী হওয়ার কারণে যা তিনি চেয়েছেন, তার বেশির ভাগই রাডারের নিচ দিয়ে পালিয়ে যেতে পেরেছে। সংক্ষেপে, তিনি যা চান তা অর্জনে নিজেকে খুবই কার্যকর প্রমাণ করেছেন ট্রাম্প। আর এগুলোই তাকে বেশ বিপজ্জনক বানিয়েছে।

এক বছরজুড়ে ট্রাম্প প্রমাণ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বেপরোয়া ও বাজে বলে বিবেচিত সিদ্ধান্তগুলো থেকে প্রেসিডেন্টকে বিরত রাখার জন্য ভারসাম্য রক্ষার যে পদ্ধতি ছিল, তা সত্যিকারার্থেই যথাযথভাবে কাজ করে না। যতটুকু সময় তিনি নিজের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পার করেছেন, এতেই সম্ভবত মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও বৈদেশিক সম্পর্কের অপূরণীয় ক্ষতি তিনি করে ফেলেছেন।

আলজাজিরা থেকে ভাষান্তর : সাইফুল ইসলাম

জোয়েরজেন মোয়েলার : সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস ইউসুফ ইসহাক ইন্সটিটিউটের জ্যেষ্ঠ ভিসিটিং ফেলো

সূত্র: যুগান্তর

স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে join করুনঃ Job Study : Build your smart career