/

বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার আজকের সম্পাদকীয়

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ | জানুয়ারি ২৫, ২০১৮

কাকে মেরে কাকে বাঁচাল ছাত্রলীগ!…নিশাত সুলতানা

প্রথম আলোর শিরোনাম হয়েছে ‘ছাত্রলীগের হামলায় আহত ৪০ শিক্ষার্থী’। কদিন ধরেই সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল, ডাকসু নির্বাচন, আন্দোলনকারী ছাত্রীদের যৌন হয়রানির জের ধরে প্রক্টরকে আটকে রাখা, ফলে অজ্ঞাত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করা, অতঃপর তদন্ত ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি ইত্যাদি নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল ক্যাম্পাসে। উপাচার্যকে ঘেরাও করাকে কেন্দ্র করে একদিকে বাম সংগঠনরে কর্মী ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। প্রিন্ট মিডিয়া, টেলিভিশন কিংবা সামাজিক মাধ্যমসমূহে হামলা, সহিংসতা, নির্মমতা আর নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশিত হয়েছে।

বিশেষত ছাত্রীদের ওপর হামলার দৃশ্য ছিল রীতিমতো গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। এই ছবিগুলো একমুহূর্তে আমাকে নিয়ে যায় আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলে পুলিশি অভিযানের ভয়াবহতম দুঃস্বপ্নের মুহূর্তগুলোতে। ২০০২ সালের ২৩ জুলাই মধ্যরাতে ছাত্রদলের ক্যাডার ও পুলিশ বাহিনী কর্তৃক বর্বরোচিত হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শামসুন নাহার হলের সাধারণ ছাত্রীরা। ছাত্রীরা সেদিন শুধু নির্যাতনের শিকারই হননি, অনেককেই রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় থানায় এবং আটকে রাখা হয় থানা হাজতে। সেই রাতে প্রত্যক্ষ করেছিলাম নির্যাতনের ভয়াবহতা।

২৪ জুলাই সকালটি আজও ভুলতে পারিনি। খুব চেনা, খুব ভালোবাসার হলটিকে সেই সকালে মনে হয়েছিল যেন এক বধ্যভূমি; চারদিকে সুনসান নীরবতা। পুরো হলে আর লনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল অসংখ্য জুতা-স্যান্ডেল। চোখের পানি ফেলতে ফেলতে আর দুই হাতে ভারী দুই ব্যাগ টানতে টানতে সেই সকালে বেরিয়ে আসি হল থেকে। সেদিনের সেই সকালে হল ছেড়ে বেরিয়ে এলেও ২৩ জুলাই রাতের সেই ভয়াবহতম স্মৃতি শামসুন নাহার হলে বসবাসকারী প্রতিটি ছাত্রীকে আজও তাড়া করে ফেরে, আমি নিশ্চিত। যেমন উপাচার্যের কার্যালয়ের ভেতরে ছাত্রলীগের রড দিয়ে প্রহারের ঘটনাও ভুলতে পারবেন না নির্যাতিতরা।

আজও বুঝে উঠতে পারি না, কেন আমরা সেই রাতে এমন নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলাম। রাজনৈতিক পরিচয়ে হলে বসবাসকারী বহিরাগতদের হল থেকে উচ্ছেদ করার মতো সাধারণ একটি ঘটনার এমন নির্মম পরিণতি আজও মেনে নিতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের যেকোনো সাধারণ দাবিদাওয়া সব সময়ই কেন যেন অসাধারণ এক কৌশলে রাজনৈতিক রূপ নিয়ে ফেলে আর সাধারণ ছাত্রছাত্রী হন সেই রাজনীতির শিকার। রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার পর কে আসল, কে নকল, আন্দোলনের লক্ষ্য কী, কীই বা উদ্দেশ্য কিংবা পরিণতি—সবই কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যায়। ২০০২ সালের ২৩ জুলাই মধ্যরাতে ছাত্রীদের পুলিশি হামলার মুখে রেখে নিজ কোয়ার্টারের উদ্দেশে হল ছেড়েছিলেন তৎকালীন শামসুন নাহার হলের মাননীয় প্রভোস্ট। আজ ২০১৮ সালেও ছাত্রছাত্রীদের দাবিদাওয়ার স‌ন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে ছাত্রলীগের নিরাপত্তাবলয়ে আশ্রয় খোঁজেন বর্তমান উপাচার্য। এরপর শুরু হয় ছাত্রলীগের আক্রমণ। ২০০২ সালে শামসুন নাহার হলের বৈধ ছাত্রীরাই নাকি ছিলেন হলের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। আর আজ নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিতে আখ্যা পেয়েছেন সহিংস ও বহিরাগত হিসেবে। ২০০২ সালে তৎকালীন ছাত্রদল যেমন হলের নিরাপত্তা রক্ষাকারী হিসেবে পুলিশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ছাত্রীদের ওপর, আজও তেমনি উপাচার্য মহোদয়কে বাঁচানোর উদ্দেশ্য নিয়ে রক্ষাকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ছাত্রলীগ। উপাচার্য মহোদয় এমনই উপাচার্য যিনি সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ভয় পান, আর কাছে টানেন সন্ত্রাসীদের।

একবার যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর মহান রাজনৈতিক নেতারা এই সমব্যথী দৃষ্টিতে ছাত্রছাত্রীদের আর আমাদের মনোবেদনার কথা ভাবতেন! একবার কি ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রী আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ভাবমূর্তির কথা ভাবা যায় না? যদি না যায়, তাহলে প্রতিবাদ উঠবেই, শিক্ষার্থীরা ভালোবাসার শক্তিতে অশুভর মুখোমুখি হবেই! লন্ডন-ভিত্তিক টাইমস হাইয়ার এডুকেশন জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার সেরা ৩৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে। অবশ্য নিচের দিকে। আগামী ৫-৭ ফেব্রুয়ারি চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি সামিট-এ ঢাবি উপাচার্য আমন্ত্রিত। সেখানে যদি কেউ তাঁকে প্রশ্ন করে, আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা কতটা নিরাপদ? কী উত্তর দেবেনে তিনি?

শামসুন নাহার হলের ঘটনার পরের আন্দোলনে তৎকালীন উপাচার্য ও প্রক্টরের পতন হয়েছিল, ছাত্রদল দেশজুড়ে গণধিক্কৃত হয়েছিল। আজকের দাপুটে নায়ক-নায়িকারা সেটা যেন মনে রাখেন।

(লেখার বিষয়বস্তু লেখকের ব্যক্তিগত মত)

নিশাত সুলতানা : কর্মসূচি সমন্বয়ক, জেন্ডার জাস্টিস ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম, ব্র্যাক

সূত্র: প্রথম আলো

 

অন্তর্বর্তী নয়, তিস্তা নিয়ে স্থায়ী চুক্তি হওয়া দরকার…সুখরঞ্জন দাশগুপ্ত

বাংলাদেশের মধ্যে ‘নাকি’ তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি হতে চলেছে। কূটনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলেছে—কোনো আন্তর্জাতিক বিষয়ে ‘অন্তর্বর্তী’ চুক্তি কী করে সম্ভব? তারা এও প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে দ্রুত তিস্তা চুক্তি সম্পাদিত হওয়া দুই দেশের পক্ষেই খুব জরুরি। নানা জটিলতায় আট বছর ধরে তিস্তা চুক্তি ত্রিশ বাঁও জলের তলায় চলে গেছে

পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস ও বামপন্থি প্রবীণ নেতারা দাবি তুলেছেন, এটার একটা শেষ হওয়া দরকার। আমরা চাই দু’দেশের উন্নয়ন এবং সম্পর্কের প্রশ্নে দ্রুত তিস্তা চুক্তি সম্পাদিত হোক। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি খানিকটা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন—২০১১ সালে আমাদের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং তিস্তাসহ যাবতীয় দ্বিপক্ষিক সম্পর্কের ব্যাপারে তৈরি হয়ে ঢাকা গিয়েছিলেন। কিন্তু চুক্তি হলো না। কেন হলো না, তার একটা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আরেক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সর্দার আমজাদ আলি। তাঁর অভিযোগের আঙুল রাজ্যে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দিকে।

সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র সরাসরি বলেন, তাঁরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলে এবং কারিগরি তথ্যের ওপর নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংকে চিঠি লেখা হয়েছিল। উভয় দেশের স্বার্থে বামপন্থিরা তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত করতে চায়।

আন্তর্জাতিক নদী আইনে আছে, রাইপেরিয়ান রাইট। অর্থাত্ নদীর উত্স যেখানে, সেই দেশ কিছুটা সুবিধা পেলেও, নদী যেখানে শেষ, অর্থাত্ তলার দিকের দেশগুলোকে জলের ভাগ অবশ্যই দিতে হবে। এটা আন্তর্জাতিক বিষয় নয়, সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এটাই হলো জাতিপুঞ্জের সিদ্ধান্ত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ফারাক্কার পানি নিয়ে জিয়াউর রহমান জাতিপুঞ্জে নালিশ জানিয়েছিলেন। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জাতিপুঞ্জ জানিয়েছিল এটা মোটেও আন্তর্জাতিক বিষয় নয়, এটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। ভারতের হয়ে বক্তব্য রাখতে সেদিন ইন্দিরা গান্ধী পাঠিয়েছিলেন তত্কালীন পশ্চিমবঙ্গের সেচ ও বিদ্যুত্ মন্ত্রী বরকত গনি খান চৌধুরীকে। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন: ’৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমরা রক্ত দিয়েছি। পানিও দেব। তবে নিউইয়র্কের ইস্ট নদী থেকে নয়। তার জন্য আলোচনায় বসতে হবে।’

তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেলেও বরকত গনি খান চৌধুরী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উদ্যোগে ফারাক্কা চুক্তি হয়েছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আমলেই। কী ঘটেছিল ২০১১ সালে?

ড. মনমোহন সিং ঢাকা সফরের আগে দুই মাসে তত্কালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেননকে কলকাতায় মমতার কাছে পাঠান। সঙ্গে ছিলেন তত্কালীন ভারতের সেচ সচিব। তারা বারবার তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। উভয় দেশের স্বার্থেই তিস্তা চুক্তি করা জরুরি। কিন্তু তা সফল হয়নি। তৃতীয়বারের বৈঠকের স্থায়িত্ব হয়েছিল মাত্র সাড়ে সাত মিনিট। সেখান থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে মেনন আমার বাড়িতে আসেন। তিনি আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু। তিনি সেদিন বলেছিলেন, তিস্তা চুক্তিতে তাঁর আপত্তি কোথায় এবং কেন তাও বোঝা গেল না।

মনমোহন ঢাকায় গিয়েছিলেন। বস্তুত তিনি খালি হাতেই ফিরে আসেন অপমানিত হয়ে। তাকে সেদিন বাংলাদেশ অপমান করেনি। করেছিলেন অন্য কেউ। কিন্তু দু’বছর আগে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মমতা ঢাকায় গিয়েছিলেন। তখন তাঁকে পাশে বসিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, তিনি এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীনই তিস্তা চুক্তি হবে। হাসিনার দেশে এ বছর ডিসেম্বরে নির্বাচন। তার পরের বছর মোদীর নির্বাচন।

সুতরাং এপার বাংলার সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে অন্তর্বর্তী নয়, তিস্তা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তি দ্রুত হওয়া দরকার। মমতা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নদী বিশেষজ্ঞ ড. কল্যাণ রুদ্রকে দিয়ে বিষয়টি নিয়ে গোপনে সমীক্ষা করিয়েছিলেন। কল্যাণ বাবু তার রিপোর্টে বলেন, শুখার মরশুমে দুই দেশের মধ্যে জল ভাগ করে নেওয়া যায়। নদী বিশেষজ্ঞরা আরো প্রশ্ন তুলেছেন, শুখার মরশুমে পানি ধরে রাখার জন্য ড্রেজিং করে নাব্যতা বাড়ানো যায়। আর এই ড্রেজিং-এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারকে প্রচুর অর্থ সাহায্য করে আসছে। সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীরা।

উভয় দেশের নদীগুলোই বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং বৃষ্টির সময় ড্রেজিং করে যদি পানি ধরে রাখা যায় তাহলে শুখা মরশুমে সমস্যা হয় না। এটা একজন সাধারণ ইঞ্জিনিয়ারও জানেন। বাংলাদেশের কাছে তিস্তার জল কতোটা স্পর্শকাতর তা আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই দেখেছি। ২০১২ সালে আমি আমার জন্মস্থান ঝালকাঠি গিয়েছিলাম। সেখানে ১৫-২০টি তরতাজা যুবক এসে বলেছিলেন, “আপনারা তিস্তার পানি দিচ্ছেন না ক্যান?” তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজই বলে দিচ্ছিল এ ব্যাপারে তারা খুবই সিরিয়াস। এটা শুধু ঝালকাঠির বক্তব্য নয়। আমি তারপর থেকে বছরে অন্তত একবার করে ঢাকায় যাই। সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে সকলেই এই প্রশ্নটা করে থাকেন—আপনারা তিস্তার পানি দিচ্ছেন না কেন? আমি তাদের কোনো উত্তর দিতে পারি না। সে উত্তর দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছেও নেই। আমরা শুধু আশা করতে পারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি রাখবেন।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে join করুনঃ Job Study : Build your smart career

 

উন্নয়নের সঙ্গে সুশাসনও দরকার…মো. মইনুল ইসলাম

স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের বর্তমান মেয়াদের চার বছরপূর্তি উপলক্ষে এক ভাষণে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে দেশ এগিয়ে চলেছে বলে দাবি করেছেন। এটা সত্য যে গত ৯ বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। অর্থনীতির এই উন্নয়নের ফলে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে আমরা পরিণত হয়েছি। আশা করা যায়, ‘স্বল্পোন্নত’ দেশের পর্যায় থেকে দু-এক বছরের মধ্যে আমরা ‘উন্নয়নশীল দেশের’ পর্যায়ে উন্নীত হব। আমরা বিশ্বের দরবারে সম্মানজনক আসনে অধিষ্ঠিত হতে চলেছি, তা কম গৌরবের কথা নয়। আমাদের এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আমাদের বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটেছে কৃষি, খাদ্য, ভূমি ও পল্লী উন্নয়নে। চার বছর আগে যেখানে খাদ্য উৎপাদন ছিল প্রায় তিন কোটি মেট্রিক টন, সেখানে বর্তমান বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় চার কোটি টনে দাঁড়িয়েছে। গেল বছর হঠাৎ বন্যার কারণে বোরোধানপ্রধান পাঁচটি জেলায় ব্যাপক ফসলহানির ফলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন অনেকটা ব্যাহত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ বাংলাদেশে অবশ্য খাদ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন কঠিন ব্যাপার। তা ছাড়া আছে ক্রমাগত বাড়তি জনসংখ্যা। তা সত্ত্বেও এ খাতে অর্জিত সাফল্যকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।

শিল্পক্ষেত্রে উন্নয়নও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার অন্যতম পূর্বশত হচ্ছে শিল্পায়ন। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বেকারত্ব হ্রাস পাবে। এ উদ্দেশ্যে ভৌত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা হ্রাস, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মতো শিল্পায়নবান্ধব নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া শিল্পায়নসহ সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের সাফল্য অসামান্য বললে অত্যুক্তি হবে না।

এসব ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সাফল্য যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো সামাজিক অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে শিক্ষার উন্নয়নে সরকার বড় ধরনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উন্নয়নের মূল নায়ক যে মানুষ এবং মানুষকে শিক্ষিত না করলে যে সত্যিকার উন্নয়ন সম্ভব নয়, এ কথাটি সরকার আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করেছে বলে আমাদের বিশ্বাস। শিক্ষার সঙ্গে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপারেও তাদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রশংসার দাবি রাখে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যই যে একটি দেশের মানবসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করে, তার উপলব্ধি ও প্রতিফলন দেখা যায় বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগে। অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্যের ফলে দারিদ্র্য নিরসনে বর্তমান সরকার প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তবে অর্থনৈতিক এই সাফল্যের সঙ্গে বিশেষ কিছু রাজনৈতিক অসাফল্যের কথাও বলতে হয়। রাজনৈতিক অসাফল্য বলতে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অনগ্রসরতার কথাই বলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। আইনের শাসন ও সুশাসন এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ন গণতন্ত্রের অন্যতম দুটি বৈশিষ্ট্য। আওয়ামী লীগের গত নির্বাচনী ইশতেহারে এ দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে তেমন কোনো উন্নতি পরিলক্ষিত হয়নি। বরঞ্চ কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবনতি ঘটেছে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের হার লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও (যা ১৩১ শতাংশ) সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির মাত্রা মোটেই কমেনি।

দুর্নীতির ব্যাপকতা শুধু সরকারি কর্মচারীদের দ্বারাই সৃষ্টি হয়নি। এর সঙ্গে রাজনীতিকরাও যুক্ত। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে দুর্নীতিবাজরা সে দলের নেতাকর্মী সেজে যায়। এমনকি কেউ কেউ সংসদ সদস্যও হয়ে যায়। তাদের আসল উদ্দেশ্য থাকে ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জন, জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘রাজনীতিকরা ভালো হলে দেশে দুর্নীতি ৫০ শতাংশ কমে যাবে।

উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে দরিদ্রবান্ধব এবং জনগণের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার করতে হলে দুর্নীতিবিরোধী যুদ্ধকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। অন্যদিকে সন্ত্রাস তথা গুম, খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর অন্যায়-অবৈধ কাজ ও জুলুম-নির্যাতনকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। এসব সুশাসন ও আইনের শাসনের অভাব প্রমাণ করে।

মানুষ চায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সবাই যেন পায়। সেটা সমান না হোক, অন্তত যেন ন্যায়সংগত হয়। ধনবৈষম্য গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। দেশবাসী চায়, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক অভিযান বা সংগ্রাম পরিচালিত হোক। অন্যদিকে দেশের শিক্ষিত, সচেতন ও সুধীসমাজ সুশাসনের পক্ষে এবং ঘুষ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুক। আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের মানুষের কল্যাণের ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক। তাঁর মতো দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক উন্নয়নযজ্ঞের সঙ্গে সুশাসন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়নের মতো গণতন্ত্রায়নের লড়াইটাও সমভাবে চলুক। দেশবাসী উন্নয়নের সঙ্গে গণতন্ত্রের প্রসারও চায়।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইসরাইলে কী ঘটছে…ইয়োসি মেকেলবার্গ

সরকারি দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গত দু’মাস ধরে প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক প্রার্থনার পর হাজার হাজার ইহুদি রাস্তায় নেমে আসছেন। আরও ধনী হওয়ার জন্য নিজেদের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিকরা সুবিধা নিচ্ছেন। পুলিশের এমন বহু তদন্তের বিষয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে।

এটি একটি বহুবিস্তৃত বিষয় যা রাজনীতিকদের বড় একটি অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে; যার মধ্যে আচ্ছন্ন হয়ে আছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কিছু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, নেসেট বা পার্লামেন্ট সদস্য এবং সিটি মেয়ররা পর্যন্ত।

এমন কোনো দিন যাচ্ছে না, যেদিন আর্থিক সুবিধা বা অন্য কোনো লাভের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের নতুন খবর প্রকাশিত হচ্ছে না।

দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ব্যাপকতায় যে কোনো ব্যক্তির মনে প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে, পুলিশ কি অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করার আদৌ সময় পাচ্ছে? এবং আরও খারাপভাবে দেখলে এমন প্রশ্ন করতে হচ্ছে, এসব খবর ইসরাইলি সমাজ ও এর ভবিষ্যতের বিষয়ে কী প্রকাশ করছে? দুর্নীতি ও অপশাসন ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদে ভালো থাকা এবং টিকে থাকাকেই হুমকির মুখে ফেলছে।

দেশটির স্বল্প সময়ের ইতিহাসজুড়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি কখনও অপরিচিত কিছু ছিল না। এ ধ্বংসাত্মক অপকর্মটি সাম্প্রতিক সময়ে বিশাল আকার ধারণ করেছে।

গত এক দশকে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক অর্থমন্ত্রী, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং অনেক মেয়রকে ঘুষ নেয়ার দায়ে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সর্বোপরি একজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে পর্যন্ত ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

নির্বাচিত বা নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের আচরণে সাধারণ মানুষ যেভাবে বিরক্তি প্রকাশ করছে, তা যে একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, জনগণের প্রতিবাদ মিছিলগুলোই সেটির ব্যাখ্যা করছে। ২০১১ সালের পর এমন জমায়েত আর দেখা যায়নি।

ওই বছর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং যৌক্তিক ভাড়ায় বাসস্থান না পাওয়া, এমনকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল।

দুর্নীতিসংক্রান্ত তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ‘দ্য নেতানিয়াহু পরিবার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ধারাবাহিক টিভি নাটক।

খোদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জড়িয়ে আছেন এমন অন্তত বড় দুটি বিষয় এবং তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলে ঘটা আরও বড় দুটি ঘটনাকে দুর্নীতি-আচরণ হিসেবে সন্দেহ করছে পুলিশ।

যদিও শক্তিশালী ইঙ্গিত আছে যে, তারা দামি অনেক উপহার ও লাখ লাখ শেকেল (ইসরাইলি মুদ্রা) ব্যয়বহুল সিগারেট, মদ ও অলঙ্কার আকারে দেশে বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ আছে এমন বন্ধুদের কাছ থেকে নিচ্ছেন।

একজন পত্রিকা প্রকাশককে রাজনৈতিক আনুকূল্যের বিপরীতে অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রস্তাবও অনৈতিক ও অনুপযুক্ত। এটি এমন একজন নেতার দৃষ্টান্ত, যিনি দীর্ঘসময় ধরে ক্ষমতায় আছেন এবং নিজের ও পরিবারের ভোগবাদী লাইফস্টাইলের সমর্থনের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।

অধিকারের একটি শক্তিশালী বোধের অনুপস্থিতির পাশাপাশি বিচারের যে কোনো ধারণার অনুপস্থিতির ইঙ্গিতই কেবল নয়, আরও বেশি কিছুর লক্ষণ আছে দেশটিতে।

যদি জনসমক্ষে এমন আচরণ প্রকাশিত হয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়ানোর মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেয়া হয়, তিনি কি নিজের সিগারেট ও মদ নিজে কিনতে পারতেন না? কিন্তু এটি কেবল নেতানিয়াহুর বেলায় নয়।

তার স্ত্রী সারাও নেতানিয়াহুর জন্য কাজ করে এমন কর্মীদের প্রতি বাজে ব্যবহারের জন্য খবরের শিরোনাম হচ্ছেন প্রতিনিয়ত এবং তাদের বড় ছেলে ইয়াইরের ক্রমবর্ধমান বাজে আচরণও উদ্বেগের কারণ।

সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা গেছে, নেতানিয়াহুর ছেলে একটি স্ট্রিপ ক্লাবের বিল দেয়ার জন্য তার বন্ধুকে (বড় গ্যাস ব্যবসায়ীর ছেলে) বলছে- এটি তো সামান্য বিনিময়, অথচ গ্যাসের একটি চুক্তি পাইয়ে দিয়ে তার বাবা ওই বন্ধুর বাবাকে বিলিয়ন ডলারের লাভ এনে দিয়েছে।

ওই রেকর্ডিংয়ে নারীদের বিষয়ে নেতানিয়াহুর ছেলের মন্তব্য এবং করদাতাদের অর্থব্যয়ে রাতভর তার উল্লাস-ছোটাছুটি ও বডিগার্ড লালন করার বিষয় শুনে রাস্তার বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। মাতাল অবস্থায় সে কী বলেছে- তার বিষয়বস্তু বর্তমানে পুলিশের গভীর তদন্তের বিষয়।

জনগণের অর্থের অপব্যবহার ও ঘুষ নেয়া-দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের তদন্তকারীদের নিয়মিত তার সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করতে দেখাটা জাতীয় বিব্রতকর অবস্থা ও লজ্জাকর বিষয় হয়ে পড়েছে।

প্রতিবাদকারীদের কাছে এটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে যে, সরকার পরিচালনায় তার শারীরিক সামর্থ্য আছে কিনা। কেবল প্রধানমন্ত্রীই নয়, তার আশপাশে যারা আছেন তারাও অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত।

এমনকি তার আইনজীবীরা- তাদের বিরুদ্ধেও জার্মানি থেকে ডুবোজাহাজ কেনার একটি চুক্তি থেকে প্রচুর ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কৌশলগতভাবে অপ্রয়োজনীয় হওয়ার পরও অনেক অর্থ ব্যয় করে ওই চুক্তির আওতায় আরও ডুবোজাহাজ জার্মানি থেকে কেনে ইসরাইল।

এর বাইরে নেসেটে নেতানিয়াহুর ওপর প্রভাব বিস্তারকারী ও তার ঘনিষ্ঠ ডেভিড বিটানকেও তেলআবিবের রিশন লেটজিওন শহরের ডেপুটি মেয়র থাকাবস্থায় সন্দেহজনক ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

বিষয়টিকে আরও জটিল করার জন্য জোট সরকারের হুইপের পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার আগে বিটান এমন একটি আইন তৈরির জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন, যাতে করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শেষ করার পর কাউকে অভিযুক্ত করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে সুপারিশ করা থেকে পুলিশকে বিরত রাখা যায়।

কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা জনগণকে প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেনি; বরং কতগুলো ঘটনা যা কিনা মানুষকে অনুধাবন করিয়েছে যে, তাদের রাজনৈতিক পদ্ধতি মূল থেকে পচে গেছে- এটিই তাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।

যখন কঠোর পরিশ্রমী সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা ও ভাড়া পরিশোধের মতো বিষয় অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন সামান্য রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী এলিটরা ব্যতিক্রমীভাবে উচ্চমানের জীবনযাপন করছেন এবং সুবিধাজনকভাবে একে অপরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

নেতানিয়াহু তার সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চাচ্ছেন কেবল নিজের জানা একটি পদ্ধতির- বিদ্যমান সমস্যাকে অস্বীকার এবং মিডিয়াকে দোষারোপের মাধ্যমে। অধিকন্তু, তিনি বেশি বেশি সময় ব্যয় করছেন বিদেশ সফরের মধ্য দিয়ে।

এভাবে রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা পালনের মধ্য দিয়ে পুলিশকে এড়িয়ে চলছেন প্রধানমন্ত্রী।আত্মরক্ষার জন্য তার শেষ কথা হল- তার সব ত্রুটি সত্ত্বেও ইসরাইলের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য তার চেয়ে ভালো কোনো নেতা দেশটিতে নেই। তাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য একটি রাজনৈতিক বিকল্প পাওয়ার এটিই সঠিক সময়।

আরব নিউজ থেকে ভাষান্তর : সাইফুল ইসলাম

ইয়োসি মেকেলবার্গ : লন্ডনের রিজেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান প্রোগ্রামের প্রধান

স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে join করুনঃ Job Study : Build your smart career