/

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিকৌশল : গণিত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ১৪, ২০১৮

লিখিত পরীক্ষার গণিত অংশটি দুই ভাগে বিভক্ত। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা। আপনি যে ক্যাডারই চয়েস দিয়ে থাকেন না কেন, আপনাকে দুইটি অংশ মিলে ১০০ (৫০+৫০) মার্কের ৩ (২+১) ঘন্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হবে।

গাণিতিক যুক্তি অংশে পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, ত্রিকোনমিতি, সেট, ভেনচিত্র, বিন্যাস ও সমাবেশ ইত্যাদি বিষয়ে ১২ টি প্রশ্ন থাকবে। তন্মধ্যে ১০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সময় পাবেন ২ ঘন্টা।

প্রিলির সময় ম্যাথ প্রস্তুতি না নিয়ে বা শর্টকার্ট ম্যাথ শিখে প্রিলি পাস করা গেলেও লিখিত পরীক্ষায় তা অসম্ভব। কারণ এখানে ম্যাথ স্টেপ বাই স্টেপ করে দেখাতে হবে। সঠিক উত্তর দিলে এখানে আপনি ৫০ মার্কের মধ্যে ৫০ মার্কই পাবেন।

গণিতে ভালো করতে হলে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। যত বেশি অনুশীলন করবেন আপনি তত বেশি দক্ষ হবেন। তবে একদিনে সব অধ্যায় পড়ার চিন্তা মাথায় আনা যাবেনা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু অধ্যায় নির্বাচন করুন। সেসব অধ্যায়ের খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা করুন।

সমাধানগুলো মুখস্ত না করে বুঝার চেষ্টা করুন। না বুঝলে অন্য কারো সাহায্য নিন। কারণ পরীক্ষায় হুবহু কমন নাও পেতে পারেন। কিভাবে সমস্যার সমাধান হলো এটা পরিষ্কারভাবে না বুঝে শুধু মুখস্ত করলে পরীক্ষার হলে ঘাবড়ে যেতে পারেন। আর বুঝা থাকলে ভিন্ন ধাঁচের সমস্যা আসলেও আপনি মাথা খাটিয়ে সেটা সমাধান করতে পারবেন।

সমাধানগুলো শুধু দেখে যাবেন না, খাতায় লিখবেন। দেখে গেলে যেটা হয় সেটা হচ্ছে পরবর্তী সময়ে ঐ ম্যাথটা দেখলেই মনে হবে এটা তো আমি পারিই কিন্তু সমাধান করতে গেলে দেখবেন আটকে যাচ্ছেন বা ভুল হচ্ছে। তাই অন্তত একবার লিখে সমাধান করবেন। তাছাড়া লিখে সমাধান করলে সেটা মনেও গেঁথে যায়।

যেহেতু পরীক্ষার হলে আপনি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন না তাই সবসময় ক্যালকুলেটর ছাড়া ম্যাথ করার চেষ্টা করবেন। আগে থেকে ক্যালকুলেটর ব্যবহার না করার অভ্যাস গড়ে তুললে পরীক্ষার হলে আপনি নিশ্চিতভাবেই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন।

পড়ার সময় সূত্রগুলো বা গুরুত্বপূর্ণ কোন কিছু একটা খাতায় টুকে রাখুন। আপনার প্রিপারেশন শেষ হলে দেখবেন খাতাটি একটি সুন্দর নোটে পরিণত হয়েছে। যেটা পরীক্ষার আগের দিন একনজরে দেখে আপনি আনন্দে পরীক্ষার হলে যেতে পারবেন।

পাটিগণিতের চেয়ে বীজগণিত, সেট, ভেনচিত্র, বিন্যাস ও সমাবেশের উপর জোর দেবেন বেশি। কারণ এসব অংশ থেকেই ভালো মার্ক থাকে পরীক্ষায়।

অষ্টম ও নবম শ্রেণির সাধারণ গণিত বই থেকে ব্যাসিক জিনিসগুলো জানুন। এরপর ওরাকল গণিত বইটির পাশাপাশি নবম ও একাদশ শ্রেণির উচ্চতর গণিত বই থেকে লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অধ্যায়গুলো দেখুন।

মানসিক দক্ষতা অংশে ভাষাগত যৌক্তিক বিচার, বানান ও ভাষা, যান্ত্রিক দক্ষতা, স্থানাঙ্ক সম্পর্ক, সংখ্যাগত ক্ষমতা ও বিমূর্ত যুক্তি ইত্যাদি নিয়ে ৫০ টি এমসিকিউ থাকবে। সময় পাবেন ১ ঘন্টা। এমসিকিউ হওয়ার কারণে প্রিলির মতোই এখানে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য .৫০ নম্বর কাটা হয়।

ভাষাগত যৌক্তিক বিচার অংশে ভাষাগত প্যাচ লাগানো, বানান ও ভাষা অংশে বানান শুদ্ধিকরণ, ব্যাকরণগত ভুল চিহ্নিতকরণ, যান্ত্রিক দক্ষতা অংশে ছবি দিয়ে বিভিন্ন গাণিতিক সমস্যা, স্থানাঙ্ক সম্পর্ক অংশে জায়াগা বা অবস্থান সম্পর্কিত বিষয়, সংখ্যাগত ক্ষমতা অংশে গণিত সম্পর্কিত বিভিন্ন সিরিজ, ডায়াগ্রাম, জ্যামিতিক চিত্র, বিমূর্ত যুক্তি অংশে চিত্রগত প্যাচ লাগানো প্রশ্ন দেওয়া থাকবে।

ওরাকল মানসিক দক্ষতা বইটি এবং কয়েকজন মিলে গ্রুপ করে Tamilcube, Worksheets, Psychometric, Indiabix, Sawaal, Examveda, Quora, Mcqtest, Exam2win ইত্যাদি ওয়েবসাইট ঘেঁটে গণিত ও মানসিক দক্ষতা অংশের প্রশ্নগুলো নিয়ে পিডিএফ ফাইল বানিয়ে পড়ুন।

মানসিক দক্ষতার উত্তর করার সময় যেগুলো আপনি নিশ্চিত জানেন আগে সেগুলোর বৃত্ত ভরাট করুন। যেগুলো নিয়ে কনফিউশন আছে সেগুলো গোল চিহ্ন দিয়ে দাগিয়ে রাখুন। তাহলে পরবর্তীতে গুনতে ও খুঁজে পেতে সুবিধা হবে।

কোন প্রশ্ন না পারলে পরীক্ষার হলে সেটা নিয়েই পড়ে থাকবেন না। পরের প্রশ্নে চলে যাবেন। কারণ সব প্রশ্নের মান সমান। তাই অযথা কোন প্রশ্নকে গুরুত্বপূর্ন মনে করার দরকার নেই। সহজ যোগটাও প্রশ্নের ফাঁকা জায়গায় লিখে করবেন। কারণ পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা নানা চাপে থাকেন। ফলে সহজ যোগও ভুল হয়ে যায়।

স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে join করুনঃ Job Study : Build your smart career

যতটুকু জানি গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা অংশে আলাদা আলাদা পাস করতে হয় না। দুইটা মিলে পাস মার্ক পেলেই পাস হিসেবে ধরা হয়।

সৈকত তালুকদার
৩৬ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত