/

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিকৌশল : সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ১৭, ২০১৮

লিখিত পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়টি তিনটি অংশে বিভক্ত। সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি। আপনি জেনারেল বা বোথ ক্যাডার চয়েস দিলে আপনাকে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। শুধু টেকনিক্যাল ক্যাডার চয়েস দিলে আপনাকে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে না।

সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের ৩ ঘন্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। তন্মধ্যে সাধারণ বিজ্ঞানে ৬০ নম্বর, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ২৫ নম্বর এবং ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজিতে ১৫ নম্বর রয়েছে।

সাধারণ বিজ্ঞান অংশে আলো, শব্দ, চুম্বকত্ব, এসিড, ক্ষার, লবণ, পানি, মাটি, পলিমার, তাপমাত্রা, খাদ্য ও পুষ্টি, বায়োটেকনোলজি, স্বাস্থ্য, রোগ, নবায়নযোগ্য শক্তি, ইত্যাদি সম্পর্কিত ৯ টি প্রশ্ন (১টি প্রশ্নের অধীন কয়েকটি ছোট ছোট প্রশ্ন থাকে) থাকবে। তন্মধ্যে ৮ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে আপনি এই অংশে অপশন পাবেন ১ টি। তাই কোন টপিকই বাদ দেওয়া যাবে না।

কম্পিউটার অংশে কম্পিউটারের ইতিহাস, প্রকারভেদ, গঠন, কার্যপ্রণালী, প্রোগ্রাম, ডাটাবেইস সিস্টেম, অপারেটিং সিস্টেম, নম্বর ব্যবস্থা, পেরিফেরালস ইত্যাদি নিয়ে এবং তথ্যপ্রযুক্তি অংশে সেলুলার নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, সার্ভার ম্যানেজমেন্ট, সোসাল নেটওয়ার্ক, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবটিক্স, সাইবার অপরাধ, ই-কমার্স, ইমেইল, ইত্যাদি নিয়ে মোট ১২ টি প্রশ্ন থাকবে। তন্মধ্যে ১০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে আপনি এই অংশে অপশন পাবেন ২ টি।

ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক টেকনোলজি অংশে ভোল্টেজ, কারেন্ট, সার্কিট, রোধ, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার, এনালগ ও ডিজিটাল সিগন্যাল, অ্যামপ্লিফায়ার, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি নিয়ে ৮ টি প্রশ্ন থাকবে। তন্মধ্যে ৬ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তার মানে আপনি এখানেও অপশন পাবেন ২ টি।

দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কিত মৌলিক জ্ঞান যাচাই করার উদ্দেশ্যেই সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। তাই এই বিষয়ে ভালো করার জন্য বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর উপর অনার্স বা মাস্টার্স করতে হবে এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। যেকোন বিষয়ে অনার্স বা মাস্টার্স করে নিয়মিত পড়ালেখা করার মাধ্যমে আপনিও এই বিষয়ের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

প্রস্তুতির শুরুতেই বিগত বছরের প্রশ্নগুলো ভালো করে দেখুন, পড়ুন ও বুঝুন। এখান থেকে আপনি অনেক প্রশ্ন কমন পাওয়ার পাশাপাশি কী ধরণের প্রশ্ন পড়তে হবে আর কী ধরণের প্রশ্নগুলো পড়তে হবে না সে সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন যা আপনার প্রস্তুতিকে সহজ করে দেবে।

সাধারণ বিজ্ঞান অংশের জন্য ক্লাস নাইনের সাধারণ বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বইগুলো বা গাইডগুলো পড়ুন। কম্পিউটার অংশের জন্য মুজিবুর রহমানের উচ্চ মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা বইটি দেখুন। সার্বিক প্রস্তুতি জন্য ওরাকল প্রকাশনীর সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বইটি দেখুন।

পদার্থবিজ্ঞান রিলেটেড প্রশ্নগুলোর উত্তরে সূত্র বা গাণিতিক উদাহরণ দিয়ে লেখার চেষ্টা করবেন। জীববিজ্ঞান রিলেটেড প্রশ্নের উত্তরে ছবি আঁকার চেষ্টা করবেন। রসায়ন রিলেটেড প্রশ্নগুলোর উত্তরে রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো তুলে ধরতে পারলে খুব ভালো। তবে বিক্রিয়া তুলে ধরতে না পারলে অন্তত ছবি আঁকুন।

অপ্রাসঙ্গিক ছবি যেমন আঁকা যাবেনা তেমনি ছবি আঁকতে বলছি বলে মনে করবেন না আপনাকে কামরুল হাসান বা জয়নুল আবেদীনের মত ছবি আঁকতে বলেছি। ছবি দিয়ে কী বুঝাতে চেয়েছেন সেটা বুঝা গেলেই হলো। যেমনঃ আপনি টারবাইন আঁকতে পারেন না, সমস্যা নাই। কোনরকম একটা ফ্যানের ছবি এঁকে নিচে লিখে দেন টারবাইন। টারবাইন তো কিছুটা ফ্যানের মতই, নাকি?

গণিতের মতো সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়েও টু দি পয়েন্ট উত্তর করবেন। সঠিক উত্তর দিতে পারলে গণিতের মতো ছাক্কা নম্বর পাবেন। তাই বাড়তি কিছু লিখে সময় নষ্ট করার দরকার নেই।

ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে সব প্রশ্ন সরাসরি কমন না পেলেও এমন কোন প্রশ্ন আসবেনা যেটার নাম আপনি জীবনেও শুনেননি। আর যদি নাও শুনে থাকেন পাশের কারো হেল্প নিয়ে অন্তত জেনে নেন বিষয়টা কী নিয়ে। সে সম্পর্কে কিছু একটা লিখবেন।

কোন প্রশ্নের উত্তর ছেড়ে আসবেন না। খাতা খালি রেখে আসলে মার্ক পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই কিন্তু খাতায় কিছু লিখলে মার্ক পেলেও পেতে পারেন। তাহলে সেই সুযোগটা কেন হাতছাড়া করবেন?

সৈকত তালুকদার
৩৬ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে কর্মরত

স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে join করুনঃ Job Study : Build your smart career