/

বৃথা যায়নি কৃষক বাবার কষ্ট, ছেলে এখন বিসিএস ক্যাডার

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ১২:২৮ অপরাহ্ণ | মার্চ ১৮, ২০১৮

অভাবের সংসার। দারিদ্র্যতা সবসময় বাধা হয়ে ছিল। কখনো কখনো বন্ধ হয়ে যেত স্বপ্ন পূরণের রাস্তা। তার পরেও হাল ছাড়েননি বাবা-মা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম। আর ছেলের চেষ্টা। সব মিলিয়ে জয় হলো পরিশ্রম আর চেষ্টার। আজ ৩৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ফেরদৌস আলম। সন্তানের এমন সাফল্যে বাবার চোখে আনন্দের পানি।

কৃষক মো. নূর আমিন। ফেরদৌস আলমের বাবা। ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে তাকে। নিজের সামান্য জমিতে কাজ করার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য রেলস্টেশনে পান বিক্রি করেছেন। তবুও সংসার ও ছেলেদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। অভাবের কারণে একসময় লেখাপড়া বন্ধ হতে বসেছিল তার ছোট ছেলের। এই সংকট কাটাতে জমি বন্ধক রাখেন। তাতেও কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না বলে গরু বিক্রি করে দেন।

নূর আমিন বলেন, ফেরদৌস আলম আমার ছোট ছেলে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তার যেন টাকা-পয়সার অভাব না হয়, সেজন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। খরচ যোগাতে গিয়ে ঘরের গরু বেচছি, জমি বন্ধক রাখছি। অন্যের জমির সবজি কিনে বাজারে বিক্রি করেছি। কিন্তু তাকে কাজ করতে দেই নাই, প্রাইভেটও পড়াইতে দেই নাই। আজ আমি সার্থক। আমার কষ্ট বৃথা যায়নি।

নূর আমিনের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার পৌর এলাকার মধ্যমপাড়া গ্রামে। তিনি বলেন, ছেলে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হতে যাচ্ছে, অনেক খুশি লাগছে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।

এদিকে ফেরদৌস আলমের সফলতার খবরে আনন্দিত তার মা ফেরোজা বেগমও। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা ভালো থাকবে বলেই কষ্ট করছি। ছেলেদের ভালোর জন্য যে কষ্ট, সেটা আমাগো কাছে কষ্ট না; এক ধরনের আনন্দই। আমাদের কষ্ট সার্থক হইছে।’

নিজের সফলতায় অনুভূতি জানাতে গিয়ে ফেরদৌস আলম  বলেন, এটা অবশ্যই আনন্দের।  আমি চাইবো, আমার বাবা-মার কষ্ট লাঘব করতে।

ফেরদৌস আলম ২০০৯ সালে উলিপুরের মহারাণী স্বর্ণময়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তি হন। স্নাতকোত্তর পাশের পর ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে join করুনঃ Job Study : Build your smart career