/

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিকৌশল : বাংলাদেশ বিষয়াবলী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ২০, ২০১৮

আহসানুর হক সৈকত তালুকদারঃ আপনি জেনারেল বা টেকনিক্যাল বা বোথ ক্যাডার মানে যে ক্যাডারই চয়েস দিয়ে থাকেন না কেন আপনাকে লিখিত পরীক্ষায় বাংলাদেশ বিষয়াবলীর উপর ২০০ নম্বরের ৪ ঘন্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। বুঝতেই পারছেন আপনি ৫ মার্কের একটা প্রশ্ন উত্তর করার জন্য সময় পাচ্ছেন মাত্র ৬ মিনিট।

সাধারণত বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনীতি, পরিবেশ, রাজনীতি, সংস্কৃতি, জাতীয় বিষয়াবলী, কৃষিজ সম্পদ, শিল্প-বাণিজ্য, সংবিধান, সরকার ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদ, নির্বাচন, পররাষ্টনীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক, ইত্যাদি বিষয়ের উপর ১০ টি প্রশ্ন (যদিও প্রতিটি প্রশ্নের অধীন ছোট ছোট আরো কয়েকটি প্রশ্ন থাকে) থাকবে। ১০ টি প্রশ্নেরই উত্তর দিতে হবে। যেকোন প্রকাশনীর গাইড থেকে উপরের বিষয়গুলো পড়ার পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখুন। আপডেট থাকতে নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা পড়ুন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ভালো করে পড়বেন। যাদের সংবিধান মনে থাকেনা তারা কনসেপ্ট ট্রি মেথড অ্যাপ্লাই করে পড়ুন। কোন প্রশ্নের উত্তরে সংবিধানের ধারা উল্লেখ করার সুযোগ থাকলে ধারাটি তুলে ধরবেন। মনে রাখবেন সংবিধান হুবহু লিখতে হবে না। মুলভাব অক্ষুন্ন করে চলিত ভাষায় লিখবেন। আরিফ খানের সহজ ভাষার সংবিধান বই থেকে সংবিধান পড়তে পারেন। যাদের ই-বুক পড়তে ভালো লাগে তারা https://www.boimela.net/files/0gtn9ste3k0xpmi.php ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে পড়তে পারেন।

পরীক্ষার খাতায় উত্তরটা যতটা সম্ভব তথ্যবহুল করার চেষ্টা করবেন। প্রশ্ন আসতে পারে এত তথ্য কোথায় পাব? এজন্য প্রথমেই একটি খাতা নিন। সেটিকে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প, সুশাসন ইত্যাদি ভাগে ভাগ করুন। দৈনিক পত্রিকা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, সংবিধান, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স থেকে কোটেশন, তথ্য, চার্ট ও ডাটা সংগ্রহ করে খাতার নির্দিষ্ট টপিকে তুলে ফেলুন। পরীক্ষার আগে দেখবেন সেটি একটি তথ্যবহুল নোটে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষার খাতায় টপিক বুঝে সেগুলো মেরে দিন।

সরকার কর্তৃক প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা পড়ুন। এখান থেকে যেকোন তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাহলে তথ্যটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য হবে বেশি। ২০১৭ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা https://almamunmunna.files.wordpress.com/…/economic-review-… ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

শুধু তথ্য দিলেই হবে না, উপস্থাপনার দিকেও নজর দিতে হবে। লেখায় কাটাকাটি কম করবেন। বেশি বেশি বানান ভুল না হলে ঘষামাজা করার প্রয়োজন নেই। ঢালাও উত্তর না লিখে ছোট ছোট প্যারা বা ১, ২, ৩ … এভাবে নাম্বারিং করে লিখবেন। প্রতিটি প্যারার শিরোনাম দিবেন। কালো, সবুজ ও নীল কালির ব্যবহার করতে পারেন।

ছোট হোক বড় হোক সকল প্রশ্নের উত্তরেই ভুমিকা ও উপসংহার লেখার চেষ্টা করবেন। ভূমিকা কোন উক্তি (বাংলা বা ইংরেজী) বা কোন গল্প দিয়ে শুরু করতে পারেন। উপসংহারে নতুন কোন বিষয়ের অবতারণা না করে উপরে যা লিখেছেন তার সারসংক্ষেপ তুলে ধরুন। তবে উপসংহার লেখার আগের প্যারায় নিজের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন।

এক মার্কও ছেড়ে আসার চিন্তা মাথায় আনবেন না। প্রশ্ন সরাসরি কমন (কমন ব্যাপারটা ভুলে যাওয়াই ভালো) না পড়লেও কিছু না কিছু লেখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। আবার অধিক তথ্য উপাত্ত তুলে ধরতে গিয়ে যাতে কোন প্রশ্ন উত্তর করা বাদ না যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। তথ্য উপাত্ত বেশি হলে চার্ট বা টেবিল এঁকে তথ্য তুলে ধরবেন। তাতে কম সময়ে যেমন বেশি তথ্য তুলে ধরতে পারবেন

লেখা সুন্দর করে লিখতে পারলে ভালো। কথায় আছে আগে দর্শনধারী পরে গুনবিচারী। তবে লেখা খারাপ হলে টেনশন করবেন না। লেখা বুঝা গেলেই হলো। তাই পরীক্ষার হলে লেখা ভালো করতে গিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর না করার চিন্তা আত্মঘাতী। আর একটা বিষয় মাথায় রাখবেন সেটা হলো পরীক্ষার হলে এত কম সময়ে এত বেশি লেখা লিখতে হয় যে সুন্দর করে লেখা সবার জন্য আসলেই কঠিন।

আমাদের সাধারণ প্রবণতা হলো যে প্রশ্নগুলো আমরা ভালো পারি সেগুলো বেশি বেশি লিখি আর যেগুলো কম পারি সেগুলো কম লিখি। তাতে পরীক্ষক স্পষ্ট বুঝতে পারেন কোনটা প্রশ্নের উত্তরটা আমরা জেনে লিখেছি কোনটা না জেনে। তাই সবগুলো প্রশ্নের উত্তরই একই সাইজ রাখার চেষ্টা করবেন। যাতে মনে হয় আপনি সকল প্রশ্নই সমান গুরুত্ব দিয়ে লিখেছেন।

পাতার পর পাতা লিখে গেলেই বেশি মার্ক পাওয়া যায় বা কম লিখলেই কম মার্ক পাবেন বিষয়টা এমন না। উত্তরের আকার নয় উত্তর সঠিক দিয়েছেন কিনা সেটাই ব্যাপার।

স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে join করুনঃ Job Study : Build your smart career

সৈকত তালুকদার
৩৬ তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে কর্মরত