/

গ্রন্থ সমালোচনা ৫: পুতুল নাচের ইতিকথা- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

জব স্টাডি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিতঃ ৫:৩৭ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ৩০, ২০১৬

rokimg_20150611_37798শশী-কুসুম,মতি-কুমুদের গল্প কক্ষনো পুরনো হবেনা। গ্রামীণ দৃশ্যপট মধ্যে পুতুল নাচের ইতিকথা ব্যক্তির ভণ্ডামি এবং জটিলতা ও দুর্বোধ্যতা উপস্থাপন করে।সমসাময়িক আখ্যান থেকে ভিন্ন,প্রধান চরিত্র হিসেবে সমাজকে কেঁদ্রীকরন, প্রধানত সমাজে জীবিত ব্যক্তি সম্পর্কে উদ্বেগ যারা তাদের দ্বৈধীভাব এবং মনের অন্ধকার দারা বিমূর্ত সমাজকে দূষিত করছে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় -ক্রান্তি-কাল সময়ের এক প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক।গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তিনি মানুষের অবস্থার একটি তীক্ষ্ন বিশ্লেষণ করেন।
ই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ‘শশী’। সদ্য ডাক্তারী পাশ করে গ্রামে আসে বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ভিন্নতর সংস্কৃতি কিংবা সহজ ভাষায় উন্নত জীবনের সন্ধ্যানে বেড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সে আর প্রথাগত জীবনের বাহিরে যেতে পারে না।গ্রামীণ জীবণের প্রতিবেশ, পরিবেশের বৈচিত্র্যতা আর বাস্তবতার ডালপালা এমন ভাবে তাকে আকড়ে ধরে; যা ছিড়ে বের হওয়া শশীবাবুদের সামর্থের বাহিরে।
আমার কাছে সবচেয়ে অবাক লেগেছে যে, কোথাও মাণিকবাবু ‘শশী’কে জোড় করে আটকান নি।আর এখানেই একজন লেখকের স্বার্থকতার পরিচয় পাওয়া যায়। মাণিকবাবুর স্বার্থকতা তথা ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’র প্রকৃত স্বার্থকতাই মিশে গেছে জীবনঘনিষ্ট মানুষগুলোর চরিত্রের পুংখানুপুংখ আখ্যান রচণায়।মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনবোধ, সমাজ চেতনা ও বিজ্ঞান মনস্কতার এক পরিপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া হচ্ছে এই উপন্যাসটি।
যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পুতুল নাচের ইতিকথা একটি একক ব্যক্তির গল্প নয়,বরং বিভিন্ন ব্যক্তির অবস্থা বর্ণিত করা হয়েছে।সেই সাথে আদিমতা,ভণ্ডামি এবং মানব মনোবিজ্ঞান অন্ধকার উপন্যাসের একটি চরিত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছে।গ্রামের একটি অহংকারপূর্ণ ভণ্ডামি এর বিষয় হল এক বৃদ্ধ দম্পতির আফিম খেয়ে আত্মঘাতী হওয়া নিজেদের সাধু ও পবিত্র প্রমান করার জন্যে।ভণ্ডামি আরো তীব্রতর হয় যখন ছলনার সাহায্যে গ্রামের এক মেয়ে্র এক সমৃদ্ধিশালী ব্যবসায়ীর সাথে বিয়ে হয়েছিল যে তার সাথে ব্যবহার করত এক বন্দিনীর মত।যখন সম্পূর্ণরূপে তার স্বামী দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে সে তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে ক্ষতিগ্রস্ত নারী হিসাবে গ্রামবাসীরা মন্তব্য সহ্য করা স্মভব হয়না তার।এটা ছেলের বিরুদ্ধে বাবার বিরোধ.ঐতিহ্যর বিরুদ্ধে শিক্ষা,শহরের বিরুদ্ধে গ্রামে; ভাগ্যএর বিরুদ্ধে মানুষএবং নারী ও মানুষের প্রহেলিকা।কিন্তু সেই সাথে মতবিরোধ ও পোশণ করে তাদের বিরুদ্ধে যারা মানুষকে পুতুল বানায়।এটি একটি সবল বিদ্রোহ নয় বরং একটি সহানুভূতিশীল হালকা এবং নিরন্তর প্রতিবাদ।পুতুল নাচের ইতিকথা আখ্যান এর যথারত ন্যায্যতা প্রতিপাদন করে একটি আপাত এবং ক্ষীন স্তরে।তাই এটি সবচেয়ে বিতর্কিত, এখনো বহুল প্রশংসিত উপন্যাস।
[ সংগৃহীত]