/

সবচেয়ে ভালো চাকরিটা পেতে, সবচেয়ে ভালো ক্যান্ডিডেট হোন!

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ১৬, ২০১৮

আপনি এখনো জানেনও না একজন ফার্স্ট ক্লাস গভর্নমেন্ট অফিসারের একবছরের বেসিক ইনকাম, একজন বেসরকারি চাকরিজীবী একমাসে আয় করেন। কিন্তু সেই চাকরিটা আপনার দৃষ্টির আড়ালে, কারণ আপনার কাছে জব মানেই বিসিএস। এর বাইরে যে শত শত ক্যারিয়ার আছে সেটা আপনি জানেনও না। আমি বলছিনা বিসিএস কারো স্বপ্ন হওয়াটা উচিত না, কিন্তু এক বিসিএসের দুই হাজার সিটের পেছনে ৪ লাখের স্বপ্ন হওয়াটা কিছুটা হতাশায় বটে। ৪ লাখ ক্যান্ডিডেট যতই সিরিয়াস হোক, যতই মেধাবী হোক, যতই উপযুক্ত হোক; চাকরি কিন্তু পাবে নিয়োগে থাকা ঐ দুই হাজার জনই। এই বাস্তবতা মেনে নিন।

প্রতিটা দিন নিজেকে গড়ুন। ইন্টারনেটে আজ ফেসবুক ইউজ করা ছাড়া আর কী কী করেছেন? ইউটিউবে নতুন মুভি ডাউনলোড করেছেন? এটা তো জাস্ট আড়াই ঘন্টার বিনোদন। ইন্টারনেট মানেই কি ফেসবুক? ইন্টারনেট মানেই কি ইউটিউবে দু’চারটা গান ডাউনলোড করা? নো ডিয়ার, ইন্টারনেট মানে গুগলে সার্চ করে সেটা খুঁজে বের করা যেটা আপনার জীবনকে বদলে দিবে। ইন্টারনেট মানেই ইউটিউবে সেই ভিডিওটা খুঁজে বের করা যেটা আপনার জীবনকে নতুন করে গড়ে দিবে। এই ইন্টারনেটের বিশ্বে এটা বলাটা চরম বোকামি – “আমাকে তো সাহায্য করার কেউ নেই।” সকল এক্সপার্ট তো আপনার ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লেতে আছে। কী লাগবে? ভার্সিটির এসাইনমেন্ট এর টপিক বুঝছেন না? গুগলে সার্চ দিন। নতুন প্রজেক্ট কিভাবে বানাবেন তার নির্দেশনা পাচ্ছেন না? কেন এখনো ইউটিউবে সার্চ না করে বসে আছেন?

আজ কয়টা বাক্য একটু ইংরেজিতে বলার চেষ্টা করেছেন? নাকি ‘আমি তো ইংরেজিতে কাঁচা’ বলে এখনো চেষ্টাটুকুই করেননি? আজ সারাদিনে অন্তত দশটা বাক্য কি শুদ্ধ বাংলায় মার্জিতভাবে বলেছেন কারো সাথে? যদি এগুলোর উত্তর হয় ‘না’, তবে ইন্টারভিউ বোর্ডে নিয়োগকর্তারা কেন আপনাকে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে বলবেন ‘হ্যা’ ?

প্রতিদিন যায় করেন তা এমনভাবে করুন, যেন অন্যরা আপনার সেই কাজ দেখে হয় সেটা অনুসরণ করতে চাইবে নতুবা উঠে হাত তালি দিয়ে আপনাকে সম্মান জানাবে। নিজেকে উপস্থাপন করতে জানাটা একটা শিল্প; যারা এই শিল্পটা আয়ত্ত্ব করতে পেরেছে তারা নিঃসন্দেহে অনেকের চেয়ে অনেকদুর বেশি এগিয়ে থাকবে।

শুধু একটাবার ভাবুন তো আজকে কয়টা এমন কাজ করেছেন যা আপনাকে গতকালকের চেয়ে একটু হলেও এগিয়ে রেখেছে? গত একমাসে এমন কিছু কি করেছেন যা আপনার মাঝে নতুন একটা স্কিল তৈরি করেছে? ‘আমার ভাগ্যটা খারাপ ‘ বলে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকার চেয়ে, সেই হাত পা নেড়েচেড়ে দু’একটা কাজ করার চেষ্টা করলেই কিন্তু আপনার ভাগ্যটাও একটু নড়েচড়ে বসবে। ইশ যদি একটা ভালো কোম্পানিতে জব পেতাম? এমন আফসোস অনেক করেছেন; অথচ সেই ভালো জব পাওয়ার জন্য আপনার কী কী স্কিল দরকার তা নিয়ে কি কাউকে একবার জিজ্ঞেস করেছেন? একবার কি গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেছেন – কিভাবে আপনার জব রিলেটেড স্কিল বাড়াবেন? না আপনি দেখেননি, ৯০% লোকই দেখেনি। বাকি যে ১০% গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেছে তাদের মধ্যে ৫% সে অনুযায়ী কাজও করেনি। কিন্তু বাকি ৫% গুগলে সার্চ দিয়ে দেখে সে অনুযায়ী স্কিল ডেভেলাপমেন্ট এর কাজে হাত দিয়েছে। যার ফলে চাকরিটা কিন্তু সেই ৫% এর হাতেই। আপনি কি জানেন দেশে এমনও জব আছে যেখানে ৮/১০ বছর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারলে আড়াই লাখ টাকার উপর বেতন পাওয়া যায়? ঠান্ডা মাথায় সুস্থ মস্তিষ্কে বলছি- আড়াই লাখ প্লাস টাকার স্যালারি।

স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে join করুনঃ Job Study : Build your smart career

আমার টাইমলাইনে, বইয়ে, পত্রিকায় আর্টিকেলে প্রচুর লিখেছি এসব বিষয়ে। একটু মনযোগী হোন নিজের প্রতি।
___________________
Satyajit Chakraborty
Writer, Public Speaker & Corporate Trainer
Founder, Bangladesh Career Club