/

জরুরি ভিত্তিতে ১৩৭৮ শিক্ষক নিয়োগ চায় মাউশি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ২২, ২০১৮

শিক্ষক সংকট নিরসনে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক হাজার ৩৭৮ জন শিক্ষক সরাসরি নিয়োগ দিতে চায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

গত ১০ এপ্রিল মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহাবুবুর রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠান।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক সংকট কাটাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের তালিকা দিয়েছে মাউশি। এতে দুই হাজার ২৬৩ জন শিক্ষকের পদ শূন্য বলে উল্লেখ করা হয়।

তালিকা অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের এক হাজার ৬৫৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত সহকারী শিক্ষক এক হাজার ২৯৩ জন, শূন্য পদ ৩৬৩টি। ইংরেজি বিষয়ে সৃষ্ট পদ এক হাজার ৬৫৬টি, এর বিপরীতে কর্মরত সহকারী শিক্ষক এক হাজার ২৯৩ জন, শূন্য পদ ৩৬৩টি। গণিতে সহকারী শিক্ষকের সৃষ্ট পদ এক হাজার ২৪২টি, এরমধ্যে কর্মরত সহকারী শিক্ষক ৯৭০ জন, শূন্য পদ ২৭২টি। সামাজিক বিজ্ঞানের সৃষ্ট পদ ৮২৮টি, কর্মরত সহকারী শিক্ষক ৬৪৭ জন, শূন্য পদ ১৮১টি। ভৌতবিজ্ঞানে সৃষ্ট পদ ৮২৮টি,  কর্মরত সহকারী শিক্ষক ৬৪৭ জন, শূন্য পদ ১৮১টি। ব্যবসায় শিক্ষায় সৃষ্ট পদ ৮২৮টি, এরমধ্যে কর্মরত সহকারী শিক্ষক ৬৪৭ জন, শূন্য পদ ১৮১টি। ভূগোলে সৃষ্ট পদ ৪১৪টি, কর্মরত সহকারী শিক্ষক ৩২৪ জন, শূন্য পদ ৯০টি। চারু ও কারুকলা বিষয়ে সৃষ্ট পদ ৪১৪টি, কর্মরত সহকারী শিক্ষক ৩২৪ জন, শূন্য পদ ৯০টি। শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে সৃষ্ট পদ ৪১৪টি, কর্মরত শিক্ষক ৩২৪ জন, শূন্য পদ ৯০টি। ইসলাম ধর্মে সৃষ্ট পদ ৮২৮টি, কর্মরত সহকারী শিক্ষক ৬৪৭ জন, শূন্য পদ ১৮১টি। কৃষি শিক্ষা বিষয়ে সৃষ্ট পদ ৪১৪টি, কর্মরত আছেন ৩২৪ জন, শূন্য পদ ৯০টি। এছাড়া, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৫ জন শিক্ষক অবসরে যাবেন।

মাউশির প্রস্তাবে বলা হয়, ‘৩৫ ও ৩৬তম বিসিএস থেকে ৯৬০ জনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষক সংকট নিরসনে এক হাজার ৩৭৮টি শূন্যপদে জরুরিভিত্তিতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য (পদ বিভাজনসহ) শূন্যপদের তালিকা পাঠানো হলো। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন ৩৪৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই হাজার ২৬৩ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। পদ শূন্য থাকায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যহত হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে জরুরিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েও সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। এ কারণেই সরাসরি নিয়োগের জন্য সম্প্রতি জারি হওয়া চাকরি বিধিমালার আলোকে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলা বিষয়ের একশ’র বেশি শূন্যপদে নিয়োগের চেষ্টা করে নন-ক্যাডার পদে প্রার্থী পাওয়া গেছে পাওয়া গেছে মাত্র চারজন। এভাবে নিয়োগ দিয়ে সংকট কাটবে না। তাই সরাসরি নিয়োগের এই প্রস্তাব করা হয়েছে।’