/

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পরীক্ষা বাতিল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ | মে ০৩, ২০১৮

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৩ মে) আন্দোলনের মুখে জবির বাংলা বিভাগের দশম ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করে প্রশাসন। এসময় অন্য যেসব বিভাগের পরীক্ষায় ৭০শতাংশ উপস্থিত নেই, সেই পরীক্ষাগুলো পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরজমিনে দেখা যায়, আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবির পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা বাংলা বিভাগের দশম ব্যাচের ও ইতিহাস বিভাগের অষ্টম ব্যাচের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে বলে খবর পান। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সেই বিভাগ দুটিতে যান এবং পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকেন।

সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নুর মোহাম্মদ প্রক্টরিয়াল বডিকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেন উপস্থিত প্রক্টরসহ বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস ও সহকারি প্রক্টরেরা। তবে পরীক্ষা বাতিল না করা পর্যন্ত কোন কথাই কর্ণপাত করতে রাজী হননি শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার একপর্যায়ে ঘটনাস্থালে আসেন জবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল। তিনি বাংলা বিভাগের পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করেন।

এসময় দেখা যায়, বাংলা বিভাগের দশম ব্যাচের সেই পরীক্ষায় কেবল মাত্র ৫জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। অন্যদিকে ইতিহাস বিভাগের পরীক্ষায় প্রায় ৮০শতাংশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

পরে সাধরণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জবি ছাত্রলীগের সমর্থন ঘোষণা করে এই কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করার জোর দাবি জানান শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক। একই সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শ্লোগান আর দাবির মুখে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ।

পরে উপাচার্যের বরাদ দিয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, উপাচার্যের নির্দেশমত আমরা বাংলা বিভাগের এই পরীক্ষা বাতিল করেছি। এবং একই সাথে আগামী দিনের পরীক্ষাগুলো সময়মত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

এসময় ছাত্রলীগ সাধরণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল বলেন, নাসির স্যার অপরাধ করলে তিনি অপরাধী। কিন্তু বিনা কারণে নাসির স্যারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হলে আমরা এর পক্ষে নেই। আমরা তখন সাধরণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে। আজ আমরা দেখেছি বাংলা বিভাগে কেবল মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে, যা বলতে গেলে একটি ব্যাচের ৫শতাংশ। তাই আমরা আরো ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর কথা মাথায় রেখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে প্রশাসনকে এই পরীক্ষা বাতিলের জোর দাবি জানাই।

তিনি বলেন, ভিসি স্যারের সাথে আমি কথা বলেছি। উনি আমাকে বলেছেন, এই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে। আপাতত এই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান এবং একমাত্র ফটক আটকে রাখায় ক্যাম্পাসে আসেন নি উপাচার্য। রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাধরণ শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির কয়েক দফায় বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। যা শিক্ষার্থীদের আরও কঠিন হতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. নুর মোহাম্মদ বলেন, আমি শিক্ষক। আমি তাদের একজন অভিভাবকও বটে। তাই তাদেরকে শাসন করার অধিকার আমি রাখি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রক্টর বলেন, আপনাদের দাবির যৌক্তিকতা আছে। আপনারা আপনাদের শিক্ষকের অপসারণ প্রত্যাহার চান। সেটা একটা নিয়মের মধ্যে দিয়ে যান। শুরুতেই এমন উগ্র আচরণ করলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। নাসির স্যারের বিষয়ে ভিসি স্যার বেশ আন্তরিক। উনি চিঠি পাওয়ার পরে, বিচারের পুন:বিবেচনার জন্য আবেদন করলে হয়তো শিথিল হতে পারে।