/

সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণের ফাইলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ | জুন ০৪, ২০১৮

বহু প্রতিক্ষীত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গৃহঋণ সুবিধা পেতে আর বেশি দেরি নয়। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এখন অর্থমন্ত্রণালয়ে। অর্থমন্ত্রীর সই হলেই ঋণ নিতে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে। এরপর থেকেই শুরু হবে ইতিহাসের সবচেয়ে কম সুদ অর্থাৎ মাত্র ৫ শতাংশ ঋণে গৃহঋণ বরাদ্দ প্রক্রিয়া।

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্নীতির প্রবণতা কমাতে এ গৃহঋণের অনুমোদন দিয়েছে পে-কমিশন। ২০১৫ সালে এই অনুমোদন দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনাপত্র প্রদান করে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। সেখানে বলা হয়, ৫ শতাংশ সুদে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০১৫ সালে ঘোষিত পে-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতনের ৬০ থেকে ৮০ গুণের সমান গৃহঋণ দেওয়া হবে। এতে করে প্রায় ১৮ লাখ কর্মকর্তা এ সুবিধা পাবেন।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব নাজমুস সাকিব বলেন, প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ভাল একটি সুবিধা পাবেন। এতে তাদের মধ্যে কাজের গতি বাড়বে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, এই প্রকল্প থেকে সরকার ও ঋণ গ্রহীতা উভয়ই উপকৃত হবেন। কারণ সরকার ব্যাংকের অলস টাকা ইনভেস্ট করতে পারবে। ঋণের টাকার কিস্তি বেতন থেকে কেটে নেবে ব্যাংক। ফলে অর্থের সিকিউরিটি নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না।

এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকুরি করে ঢাকা শহরে একসাথে এতো টাকা সংগ্রহ করে একটি ফ্লাট কেনা তাদের জন্য ছিল অনেক কষ্টের। কিন্তু সরকারের এমন উদ্যোগ তাদের জন্য সত্যিই আনন্দের। যেহেতু সরকার এ ঋণের বিপরীতে ৩ শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে, তাই এটা তাদের জন্য বড় পাওয়া।

এদিকে, অর্থমন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা সূত্রে জানা গেছে, আসছে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকুরিদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকছে। ফলে এবছরও বৃদ্ধি পাচ্ছে সরকারি চাকুরিদের বেতন-ভাতা। বিষয়টি সরকারি চাকুরিজীবীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি করেছে। তবে এর প্রভাব বাজারেও পড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতি বিষয়ে গবেষকরা।

এ বিষয়ে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এবার বাজেটে সরকারি চাকুরিদের বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা আছে কিনা এটা প্রথমে ভাবতে হবে। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সারাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রভাবে ইনফ্লুয়েন্স করছে কিনা সেটাও প্রশ্ন উঠবে।

তিনি বলেন, সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার প্রভাব প্রাইভেট সেক্টরেও পড়ে। ফলে প্রাইভেট সেক্টরেও বেতন বৃদ্ধির ডিমান্ড তৈরি হয়। ফলে প্রডাক্ট কষ্ট বৃদ্ধি পায়। এতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবেই।

সরকারি কর্মকর্তাদের হোম লোন সুবিধা প্রদান ও আসছে বাজেটে বেতন বৃদ্ধি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, মূদ্রাস্ফীতির অবস্থা কি দাঁড়াবে সেটা নির্ভর করবে সরকার এই বেতন বৃদ্ধির অর্থটা কোত্থেকে জোগান দেয় তার ওপর।

তিনি বলেন, সরকার যদি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বা নতুন নোট ছাপিয়ে এই বাড়তি বেতন জোগান দেয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই মূদ্রাস্ফীতির ওপর এর প্রভাব পড়বে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন বেসরকারি খাতের ওপরও বেতন বৃদ্ধির চাপ বাড়বে। সেটা যদি হয়, তখন মূদ্রাস্ফীতির হার আবারও বাড়বে।

গৃহঋণের বিষয়ে এম এম আকাশ বলেন, এটা সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে উৎসাহিত করবে এটা ঠিক। কিন্তু সরকার এ ঋণের সুদে যে ৩ শতাংশ ভর্তুকি দেবে এটা রাষ্ট্রের উপর অতিরিক্ত বোঝা বয়ে আনবে। ফলে ব্যাংকের উপর সরকারের ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। এভাবে রাজস্বের উপর চাপ বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখতে হবে।