/

কোটাসংক্রান্ত সচিব কমিটির মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ছে!

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ১৮, ২০১৮

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য গঠিত সচিব কমিটির মেয়াদ বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা শেষ না হওয়ায় কমিটির মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ানোর প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করেছে এসংক্রান্ত কমিটি। কোটা সংক্রান্ত সচিব কমিটির এক সদস্য তথ্য জানিয়েছেন।

এই সদস্য বলেন, ‘কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। তাঁর অনুপস্থিতিতে আমরা বৈঠক করতে পারছি না। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের তথ্য সংগ্রহ করতেও সময় লাগছে। এ অবস্থায় আমাদের পক্ষে সময় বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। মন্ত্রিপরিষদসচিব সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিলেই তাঁর স্বাক্ষরে সময় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।’

কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান গতকাল মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদসচিব দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠছেন। আশা করছি শিগগিরই তিনি কাজে যোগ দিতে পারবেন। কোটাসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তাঁকে করাই শ্রেয়।’

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা বা সংস্কার বা বাতিল করার জন্য গত ২ জুলাই সাত সদস্যের সচিব কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটিকে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে কমিটিকে ২৩ জুলাই

প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কমিটি এ পর্যন্ত একবার সভা করেছে। গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই সভায় কোটাসংক্রান্ত দেশি-বিদেশি তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রথম বৈঠক শেষে সচিব কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যেই কাজটি শেষ করার চেষ্টা চলছে। এ সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে না পারা গেলে তখন দেখা যাবে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজটি শেষ করতে চাই।’

এদিকে কোটাসংক্রান্ত কমিটি দ্বিতীয় সভা করার আগেই সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এই কোটা রাখতেই হবে।

সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বুধবার ওই সংবাদ সম্মেলন হয়। তাতে মন্ত্রী আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় হাত দিতে হলে সরকারকে আগে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করে রায় পক্ষে পেতে হবে। আপিল বিভাগের এক আদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা কোটা থেকে তা পূরণ করার সুযোগ দেওয়া হলেও ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়ে গেছে। তাই এ আদেশ অগ্রাহ্য করে বা পাশ কাটিয়ে বা উপেক্ষা করে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা করা হলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে বলে আমি মনে করি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠিত কোটাসংক্রান্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনের কার্যপরিধিতে কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা, সংস্কার বা বাতিলের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোটা পদ্ধতি সংস্কার বা বাতিলের প্রয়োজন হলে বাতিল বা সংস্কারের যৌক্তিকতাসহ সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদসচিবকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব, অর্থসচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ৫৫ শতাংশ নিয়োগ হয় কোটায়। বাকি ৪৫ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধার ভিত্তিতে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতেও আছে বিভিন্ন ধরনের কোটা। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলনকারীরা কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবি তুলেছে। কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণের দাবিও রয়েছে তাদের। আন্দোলনের একপর্যায়ে গত ৮ এপ্রিল ঢাকার শাহবাগে আন্দোলনকারীদের পুলিশ লাঠিপেটা এবং কাদানে গ্যাস ছুড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলন সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গত ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এরপর ৮ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কোটা সংস্কারের জন্য খসড়া কমিটি করে তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেই কমিটি অনুমোদন হয়ে সচিবালয়ে ফেরে ৫৫ দিন পর।