/

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অবরোধ-ভাংচুর, অচল রাজধানী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিতঃ ৯:২২ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ০১, ২০১৮

চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার মৎস্য ভবন, কাকরাইল, সায়েন্সল্যাব মোড়, মিরপুর ১০, বনানী-কাকলী মোড়, বিমানবন্দর, জসীমউদ্দিনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবি আদায়ে বিক্ষোভে শামিল হন।

এদিন দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা মিরপুর ১০ নম্বরে বেশ কয়েকটি বাসে ভাংচুর করে। আর সায়েন্সল্যাব মোড়ের দিকেও গাড়ি ভাংচুর করতে দেখা গেছে।

সায়েন্সল্যাব সংলগ্ন সব সড়কে অবস্থান নিয়েছে সিটি কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্তত দুই হাজার শিক্ষার্থী। সেইসঙ্গে মিরপুর ১০ নম্বরে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের আরও অনেক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে।

বুধবার সকাল দশটার দিকে গণপরিবহনের স্বেচ্ছাচারিতা ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে এ আন্দোলন শুরু হয়। এর ফলে প্রায় সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে হাজার হাজার যাত্রীকে।

অপরদিকে, রাজধানীর বনানী-কাকলী সড়কে অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা রাস্তা অবরোধ করে গণপরিবহনের ‘উল্টোপথে’ চলাচলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন। এসময় শিক্ষার্থীরা একটি পুলিশ ভ্যান আটকে রেখে দেন এবং কিছুক্ষণ পর তা আবার ছেড়ে দেন। এছাড়া উত্তরা-বিমানবন্দর সড়কও অবরোধ করে শত শত খুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চলছে এ বিক্ষোভ।

বাকি নেই মৎস্য ভবন, শাহবাগ মোড়, শেওড়া বাস স্টপেজ ও বিমানবন্দর চত্বর এলাকাও। ওইসব পয়েন্টে রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ ও রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীরা। কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নেয় উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের শিক্ষার্থীরা।

বিমানবন্দর সড়কে রেষারেষি করে আগে যেতে গিয়ে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপরে উঠে যায়। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে চার দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও বুধবার সকাল ৭টা থেকেই রাজপথ অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সামসুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রফিকুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাহবুবুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ যাত্রাবাড়ী এলাকার বেশকিছু স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়ক বন্ধ করে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ জানানোর পাশাপাশি বাস-ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষা করতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি ট্রাকের লাইসেন্সও তারা পরীক্ষা করার জন্য আটকাতে যায়। শিক্ষার্থীদের একটি দল ওই ট্রাককে আটকাতে গেলে একজন শিক্ষার্থী ট্রাকের সামনে চলে যান। এ সময় কোনো দিকে না তাকিয়ে চালক সামনে দাঁড়ানো ওই শিক্ষার্থীর ওপর দিয়েই চালিয়ে দেয় ট্রাকটি। ভ্যানের সামনের দুই চাকার পর পেছনের দুই চাকাও ক্ষুদে শিক্ষার্থীর ওপর দিয়ে চলে যায়। তারপর ট্রাকটি দ্রুতগতিতে চলে যায় ঘটনাস্থল থেকে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করলেও তাকে চিকিৎসার জন্য কোথায় নেয়া হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছেন মুকুল হোসেন নামে একজন। তিনি জানান, আমি ওই পথ দিয়ে অফিস যাচ্ছিলাম। পথে শিক্ষার্থীদের অবরোধ দেখে ভিডিও করছিলাম। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

জানতে চাইলে পুলিশের ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনেছি, একজন শিক্ষার্থী কাভার্ড ভ্যানে চাপা পড়ে আহত হয়েছে। বিস্তারিত এখনও জানি না। আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। পিকআপ ভ্যানের নম্বরও পেয়েছি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।